'ইয়াওমে আশুরা ও আমাদের করণীয়'



এম, আতিকুর রহমান আখইঃ আজ ঐতিহাসিক কারবালা দিবস বা পবিত্র আশুরার দিন। ৬১ হিজরীর ১০ ই মহরম কারবালার প্রান্তরে রাসূলে পাক ( সাঃ) এর দৌহিত্র ইমাম হোসাইন ( রাঃ) কে স্বপরিবারে শহীদ করা হয়েছিল। স্বাভাবিক ভাবে কারবালার সেই মর্মান্তিক ঘটনার কারনে এই দিনটি মুসলিম উম্মার কাছে প্রসিদ্ধতা পেলেও সৃষ্টি জগতের মুল থেকেই এই দিনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনেক।   সময় সল্পতার কারনে সব কিছু লেখা সম্ভব নয়। 

আখেরী জামানার নবীর উম্মত হিসাবে উম্মতে মোহাম্মদীর কাছে এই দিনটি অতিব গুরুত্বপূর্ন। কারবালার হৃদয় বিদারক ঘটনা সংঘটিত হওয়ার ৫০ বছর আগে নবী কারিম ( সঃ) এই স্বাভাবিক গুরুত্ব অনুধাবন করে  ইয়াওমে আশুরা ও আমাদের করণীয়। আমাদের করণীয় সম্পর্কে দিক নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। 

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি মহররম মাসের আশুরার দিনে রোযা রাখে আল্লাহ তাকে দশ হাজার ফেরেশতার পুণ্য দান করবেন।

অন্য হাদীসে এসেছে- যে ব্যক্তি আশুরার তারিখে রোযা রাখে আল্লাহ তার আমলনামায় ষাট বছরের রোযা এবং রাত জেগে এবাদত করার সওয়াব লিখে দিবেন। অপর এক হাদীসে এসেছে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি মহররম মাসের দশ তারিখে আশুরার দিনে একটি রোযা রাখবে, আল্লাহ তাকে দশ হাজার শহীদ ও এবং দশ হাজার হাজীর সওয়াব দান করেবেন। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, হযরত রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, রমজানের ফরজ রোযার পর উৎকৃষ্ট রোযা মুহাররম মাসের রোযা।

রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আশুরার দিন রোযা রাখতেন এবং সাহাবায়ে কেরামদেরকেও রোযা রাখতে বলতেন। আশুরার রোযা মহররম মাসের ৯ ও ১০ তারিখে রাখতে হয়। আশুরার দিনে শরীয়ত সমর্থিত যে কোনো নেক আমল করা যায়। তবে হায় হোসাইন! হায় হোসাইন! বলে শরীরে খুর দ্বারা আঘাত, ঢোলসহ বাদ্যযন্ত্র, তাজিয়া এগুলো শরীয়ত সমর্থিত নয়। বরং আশুরার গুরুত্ব ও তাৎপর্য এবং ইমাম হোসাইন (রাঃ)-এর শাহাদাতবরণ কোনো হলো এসব নিয়ে ওয়াজ আলোচনা হওয়া বাঞ্চনীয়। অন্যায়-অবিচার, জুলুম, নির্যাতনের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে ইমাম হোসাইন শাহাদাতবরণ করেন। ইমাম হোসাইন খেলাফত প্রতিষ্ঠার জন্যে আপ্রাণ চেষ্টা করেন। অথচ একদল নামধারী মুসলমান নবীজী (সাঃ)-এর প্রিয় দৌহিত্র ইমাম হোসাইন (রাঃ) কে শহীদ করে দেয়।



তারা কেমন মানুষ বা মুসলমান যে, রাসূল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রিয় নাতীকে শহীদ করে দিলো? এরাই হচ্ছে ইসলামের নাম নিয়ে মুনাফিক গোষ্ঠী। সেই ইয়াজিদের প্রেতাত্মা আজো আছে, কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে। এখন আমাদের উচিত কারবালার শিক্ষায় আমাদের জীবন গঠন করা। ইয়াওমে আশুরা উপলক্ষে মিলাদ, দোয়া ও কারবালার ঘটনার সঠিক কারণ তুলে ধরে আলোচনা করা। যাতে এর দ্বারা মুসলমানগণ ঈমানী শক্তি সঞ্চার করতে পারে। ইমাম হোসাইন (রাঃ) এটাই আমাদেরকে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে লড়তে হবে যদিও নিজের জীবন যায়। ইমাম বাহিনী নিজেদের জীবন দ্বীনের জন্যে উৎসর্গ করে দিয়ে এটাই প্রমাণ করেছেন। হক আর বাতিল কখনও এক হতে পারে না।


লেখক পরিচিতি: 

সাধারণ সম্পাদক, 

কুলাউড়া ব্যবসায়ী কল্যান সমিতি। 

২০/৮/২০২১

Post a Comment

Previous Post Next Post