মিডিয়া মনিটরিং সেন্টার হবে- তথ্যমন্ত্রী

মিডিয়া মনিটরিং সেন্টার হবে- তথ্যমন্ত্রী
নিউজ ডেস্কঃ গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ পর্যবেক্ষণের জন্য মিডিয়া মনিটরিং সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। গতকাল সংসদে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান। সরকারদলীয় এমপি পিনু খানের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী জানান, অনলাইনভিত্তিক পত্রিকাসমূহের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নজরদারির জন্য অনলাইন গণমাধ্যম সহায়ক নীতিমালা শীর্ষক একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। ওই নীতিমালার আওতায় অনলাইনভিত্তিক পত্রিকাসমূহকে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি এর একটি ডাটাবেজ তৈরি করা হবে। মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের সময়ে সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করছে। এই সকল মিডিয়া বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করবে মর্মে সরকার সব সময় আশা প্রকাশ করে । তবে অবাধ স্বাধীনতা ভোগের সুযোগে অনেক মিডিয়া/অনলাইন পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং কিছু ব্লগ ধর্মকে ব্যবহার করে সাম্প্রদায়িকতার পক্ষে লেখালেখি করছে। তিনি বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে বাংলাদেশ ধর্মনিরপেক্ষ বিশ্বাসী এক অসাম্প্রদায়িক দেশ। এখানে সকলেই স্বাধীনতা ভোগ করে দেশ গঠনে কাজ করছে। একই প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী জানান, ইন্টারনেটভিত্তিক সামাজিক গণমাধ্যম বা ব্লগে কারও কারও লেখালেখিতে ধর্মপ্রাণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও বিশ্বাস আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এই ধরনের লেখালেখি শুধু দায়িত্বহীন বা উসকানিমূলক নয়, আইন-বিরোধীও বটে। এই ধরনের লেখালেখিতে সাময়িক উত্তেজনা বা অশান্তি তৈরি হলেও সরকারের বলিষ্ঠ পদক্ষেপে হিন্দু-মুসলিম ভ্রাতৃত্ব বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট বা আস্তিক-নাস্তিক বিভেদ সৃষ্টির মতো পরিস্থিতির উদ্ভব হয়নি। মন্ত্রী জানান, সরকার সকল নাগরিকের ধর্মীয় অনুভূতি বা বিশ্বাসে আঘাত বা কোনো ধরনের অশান্তি সৃষ্টির ষড়যন্ত্র বা উসকানির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। হাসানুল হক ইনু বলেন, কিছু কিছু মিডিয়া/ব্লগ হিন্দু-মুসলিম ও অন্যান্য ধর্মীয় বিশ্বাসের বিরুদ্ধে লেখালেখি করে সমাজে নাস্তিক-আস্তিক বিভেদ সৃষ্টি করার চেষ্টা চালাচ্ছে। সরকার এই ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করার লক্ষ্যে আইনি দায়বদ্ধতা তৈরিসহ নানান পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ২০০৬ সালের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের বিভিন্ন ধর্মীয়মূলক অনুষ্ঠানে দেশের প্রখ্যাত আলেম ও মাশায়েখদের উপস্থিতিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষাসহ সকল ধর্মীয় উসকানির বিরুদ্ধে সজাগ থাকার জন্য বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা ২০১৪ অনুসরণে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমসমূহেও এই ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এদিকে অপর এক প্রশ্নে তথ্যমন্ত্রী ঢাকা থেকে প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোর প্রচার সংখ্যা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমানে মিডিয়াভুক্ত পত্রিকার সংখ্যা ৫২৮। এর মধ্যে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় ২৪৫টি এবং মফস্বল থেকে প্রকাশিত হয় ২৮৩টি।

Post a Comment

Previous Post Next Post