নিউজ ডেস্কঃ সিলেটে হানা দিয়েছে মৌসুমী কালবৈশাখী ঝড়। সোমবার রাত থেকে কয়েকদফা ঝড় বয়ে যায় সিলেটের বিভিন্ন জনপদের উপড় দিয়ে। সেই সাথে চলে মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাত এবং দমকা হাওয়া।শেষ রাতে কিছুটা বিরতির পর সকাল সাড়ে দশটা থেকে সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত সিলেট নগরীর উপর দিয়ে যায় প্রচন্ড ঝড়। সেই সাথে বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টিপাত। বৃষ্টিতে নগরীর হাওয়াপাড়া, ঘাসিটুলা, উপশহরের বেশকিছু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কালবৈশাখী ঝড়ে নগরের পাশপাশি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে প্রান্তিক জনপদের জীবনযাত্রা। ঝড়ের সাথে পাহাড়ী ঢলে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমংগল উপজেলায় বেশ কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয় জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে ক্লাসের কার্যক্রম। এদিকে ঝড়ের সাথে সাথেই বিদুৎবিহীন হয়ে পরছে সিলেট বিভাগের প্রায় প্রতিটি জনপদ। সিলেট সদর উপজেলাসহ বিয়ানীবাজার, বিশ্বনাথ, বালাগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জসহ প্রায় প্রতিটি অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট চরম আকার ধারন করেছে। সিলেট নগরীতেও একইভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। ফলে সাধারণ মানুষের পাশপাশি ভোগান্তিতে পড়ছেন ব্যাবসায়ীরাও। ঝড়ের কারনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। দিনমজুর শ্রমজীবিরা কাজের জন্য বাইরে বের হতে পারছেননা। অনেকের বাসাবাড়িতে পানি জমে জলাবদ্ধ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের হাওড় অঞ্চলে অনেক স্থানে ধানি জমি তলিয়ে গেছে। তরিঘড়ি করে ধানকাটার শ্রমিক না পেয়ে সংকটে পড়েছেন অনেক কৃষক। মুহর্মূহ বজ্রপাতে আতংকিত হয়ে পড়েন প্রান্তিক জনপদের বাসিন্দারা। বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ী ঢল অব্যাহত থাকলে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জনপদে বন্যারও আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে কালবৈশাখী ঝড় হচ্ছে। আরোও কয়েকদিন এই অবস্থা চলতে থাকবে।
