নিউজ ডেস্কঃ আইন প্রণয়নের প্রায় ৭ বছর পরও বেশিরভাগ মানুষ জানেন না- ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন কী। আর এ কারণে প্রতিনিয়ত বিভিন্নভাবে প্রতারিত হচ্ছেন গ্রাহক। বিশেষজ্ঞদের মতে, আইনের অপ্রতুল প্রয়োগ এবং জনসাধারণের সচেতনতার অভাবে এখনও এই আইনের সুফল ভোগ করতে পারছেন না ভোক্তারা। সম্প্রতি আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলছেন, খসড়া আকারে থাকা আইনটি পাশ হলে উপকৃত হবেন ভোক্তারা। গ্রাহক পর্যায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন সম্পর্কে জানার পরিধিটা মোটামুটি এমনই। শুধু আইন না জানাই নয়, কোনো পণ্য কিনে আপনি ঠকলেন কি না; তা আর সবারমতো প্রায় সব ভোক্তারই জানার সুযোগ নেই। কোনো পণ্য বা সেবা যিনি ভোগ করেন বা ভোগের উদ্দেশ্যে ক্রয় করেন তিনিই ভোক্তা। সে হিসেবে রাষ্ট্রের সব নাগরিকই ভোক্তা। নাগরিক স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে দেশে ২০০৯ সালে প্রণীত হয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন। আইন অনুযায়ী দোকানে সব পণ্যের মূল্য টাঙিয়ে রাখার কথা থাকলেও বাস্তবতা ভিন্ন। সম্প্রতি আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। খসড়া আইনে দোকানে মূল্য তালিকা প্রদর্শনতো বটেই ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা হাসপাতালে বিভিন্ন ডাক্তারি পরীক্ষার মূল্য তালিকা প্রদর্শনও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের মত, আইনটি পাশের পর সকল পর্যায়ের ভোক্তারাই উপকৃত হবেন। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু হোসেন মিঞা বলেন, 'আমরা মনে করি আইনটি বর্তমানেও শক্তিশালী। তবে এ পরিবর্তনের মাধ্যমে আইনটি আরও শক্তিশালী হতে যাচ্ছে।' কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি গোলাম রহমান বলছেন, ভোক্তা অধিকারের বিষয়টি ব্যাপক। তাই সবগুলো মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি জনসাধারণকেও সচেতন হতে হবে। বলা হয়ে থাকে, আইন তখনই সফল যখন এর কার্যকর প্রয়োগ হয়। তাই সব পক্ষগুলোই বলছেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের সংশোধন, সংযোজন বা বিয়োজন যেটিই করা হোক না কেন এর সফলতা মূলত নির্ভর করবে কার্যকর বাজার মনিটরিং এর উপর।
