কুলাউড়ায় ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ছে

কুলাউড়ায় ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ছে
স্টাফ রিপোর্টারঃ কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শীতজনিত নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও সর্দিকাশিতে আক্রান্ত শিশুরোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতাল গত ১ জানুয়ারি থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৬৯ ও সর্দিকাশিতে আক্রান্ত ২২ শিশু ভর্তি হয়েছে। দুপুরে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের দুটি ওয়ার্ডে ডায়রিয়া ও সর্দিকাশিতে আক্রান্ত বেশ কিছু শিশু ভর্তি রয়েছে। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত নয়মাস বয়সী শিশু রাহিমের মা ভূকশিমইল গ্রামের আমিনা বেগম বলেন, ভর্তি হওয়ার দু’তিন দিন হয়ে গেল। নিয়মিত স্যালাইন-ওষুধ খাওয়ালেও বাচ্চাটার ডায়রিয়া কমছে না।’ পৌরশহরের বিহালা গ্রামের নাজমিন আক্তার ডায়রিয়ায় আক্রান্ত এক বছর বয়সী ছেলে আরিয়ানকে বুধবার বিকালে হাসপাতালে ভর্তি করান। নাজমিন বলেন, গত দু’দিন থেকে আরিয়ান পাতলা পায়খানা আর বমি শুরু করে। বাড়িতে স্যালাইন গুলে খাওয়াইছি। এরপরও না কমায় হাসপাতালে নিয়া আইছি।’ ওয়ার্ডে রোগী দেখাশোনায় ব্যস্ত চিকিৎসক ডা. মির্জা আদনান জানান, ‘অন্য সময়ের চেয়ে গত কয়েক দিন ধরে ঠাণ্ডাজনিত সর্দিকাশি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুরা বেশি ভর্তি হচ্ছে। শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে। হাসপাতালে ওষুধ সরবরাহ সীমিত থাকায় খাওয়ার স্যালাইন ব্যতীত অন্য কোনো ওষুধ রোগীদের দেয়া সম্ভব হয় না।’ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুনীর আহমেদ জানান, ‘ডায়রিয়া প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। শিশুদের খাওয়ানোর আগে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিতে হবে। মায়ের শাড়ির আঁচল থেকে অনেক সময় বিভিন্ন ধরনের রোগজীবাণু ছড়ায়। তাই শাড়ির আঁচলের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। এছাড়া সর্দিকাশি রোধে ঠাণ্ডা থেকে শিশুদের দূরে রাখতে হবে। গায়ে জ্বর উঠলে দ্রুত চিকিৎসকের শরাণাপন্ন হতে হবে।’

Post a Comment

Previous Post Next Post