মু. ইমাদ উদ দীন'র ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে: অদ্ভুদ চোর!

অদ্ভুদ চোর !
মু. ইমাদ উদ দীন
মু. ইমাদ উদ দীন'র ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে-
ওরা চিন্তা চেতনায় আর মননে আপাদমস্ত চোর। এটা আমি সাদামাটা ভাবেই বলে ফেল্লাম, সরি । অবশ্য শ্রদ্ধেয় অগ্রজরাই ওদের উপাদি কি হবে তা ভালোই বলতে পারেন।অবাধ তথ্য প্রযুক্তির সুবাধে ওদের কপাল খুলেছে। সহজেই অন্যের লেখা হুবুহু কপি পেষ্টই তাদের সাংবাদিকথার সম্বল। এরকম কিছু অদ্ভুদ চোর এখন আমার পিছু নিয়েছে । বেশ কিছুদিন থেকে আমার লেখা সংবাদ গুলি হুবুহু কপি করে নিজের নাম আর পত্রিকার নাম বসিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে তা আবার ফেসবুকে দিচ্ছে। আমাকে অনেকেই ফোন করে বল্লেও আমি তা কখন গুরুত্ব দেইনি । কিন্তু গত ৮ আগষ্ট কুলাউড়ার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের হিংগাজিয়া বাজারের আমার লেখা একটি সংবাদ “৫বছর থেকে প্রস্তুত হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার” এটি দৈনিক মানবজমিনে প্রকাশিত হলে তা হুবুহু কপি করে শুধু নাম আর পত্রিকার নাম পরিবর্তন করে অনেক অনলাইনে নিউজ আপ করেছেন । অনেকে নামসর্বস্ব নানা পত্রিকায় আর ফেসবুকে তা ছড়িয়েছেন ।এটা দেখে অনেক কষ্ট পেলাম এই সংবাদটির জন্য ওই মিস্ত্রির বাড়িতে বৃষ্টির দিনে কাদাঁমাটি মাড়িয়ে ২ দিন গিয়ে অনেক বুঝে শোনে এই সংবাদটি সবার জন্য পরিবেশন করি। এমনকি আমি অনেক শ্রদ্ধেয় অগ্রজ সাংবাদিকদের কাছে এই ঘটনাটি বলি,তাদের পরামর্শ নেই এবং তাদের ইমেইলেও সংবাটি পাঠাই। কারন আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি আমি এই বিভাগের একজন নবীন ছাত্র মাত্র । (যদিও একযুগ পাড়ি দিয়েছি জাতীয় দৈনিকে কাজ করে ) । কিন্তু অনেকেই ওস্থানে না গিয়েও সংবাদটি চুরি করে নিয়ে লিখেছেন সরজমিনে কুলাউড়ার হিংগাজিয়া থেকে ফিরে । অথচ আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি ওই রিপোর্টার কখন ওখানে যাননি। আমার কষ্টগাথা কোন বক্তব্য থাকতনা যদি ওই সমস্থ শ্রদ্ধেয় সংবাদকর্মীরা যদি আমার সংবাদটি পড়ে ওখানে গিয়ে বুজে শোনে তাদের মত করে সংবাদ প্রকাশ করতেন। আমার প্রশ্ন হল কেন তারা না বুজে নিজের চোখে না দেখে পাঠককে মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করবে। ওদের কি নূন্যতম লজ্জাবোধ নেই । না পারলে আর না জানলে কেন এ পথে এসে ভীড় বাড়াবেন । যাদের সিনিয়রদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নেই নূন্যতম শেখারও মন মানুষিকথা নেই। অন্যের প্রতি কৃতজ্ঞতাবোধ নেই। অথচ সংবাদকর্মী হওয়ার আগে নিজেকে জাহির করেন আপদমস্ত সাংবাদিক হিসেবে। যাদের সংবাদ কর্মী হওয়ারও কোন যোগ্যতা নেই । শুরুতেই তাদের আচরনে যেটা মনে হয় জীবনে তারা যা হতে পারবেন সেটা হল লেখা চোর । বাটপার,দালাল আর চাপাবাজ। ওই নিউজটিতে আমি ওই মিস্ত্রিরি ২৫ বছর থেকে নিখোঁজ বাবাকে আমি ভুল করে লিখেছিলাম মৃত কিন্তু যে মহান সাংবাদিক তার সংবাদের আগে লিখলেন সরজমিনে কুলাউড়ার হিংগাজি থেকে ফিরে তিনিও দেখলাম আমার মত একি ভুল করলেন । আমার প্রশ্ন তাহলে ওখানে গেলেন কেন যদি আমাকে অনুকরন করবেন ? আর যদি না যান তাহলে কেন এত বড় মিথ্যা পাঠকের অজান্তে করবেন । এটা কি সাংবাদিকথার নীতির মধ্যে পড়ে । আপনি চোর ,ডাকাতের নিউজ করেন আর আপনার আর্দশ কোথায়? ওদের চাইতে খারাপ অবস্থা আপনার । আপনার ওই আচরনের সংবাদটি লিখবে কে ? গলায় কার্ড ঝুলিয়ে পকেটে কলম রেখে চলার বাহনের কাগজপত্র ঠিকনারেখে বড় করে ফলাও করেন তিনি যে জাতির বিবেক কলম সৈনিক সাংবাদিক । থানার দালালি থেকে সর্বস্থানেই দাপট আর হুংকার ছুড়েন আগ বাড়িয়েই জানান দেন তিনি সাংবাদিক । তাকে সমিহ না করলে কিছু একটা করে বসবেন । আহারে মফস্বলের সাংবাদিকথা ! লিখার যোগ্যতা আসলেই তার আছে কি না এই খবর রাখার সময়ই বা কোথায় পত্রিকা ওয়ালাদের । যোগ্যতা খোঁজলে যে টাকার ঝুলি খালি। তাইতো ওদের দাপটের সাথে ছুটে চলা। আর ওগুলো লিখেই বা কি লাভ । আমার মত ছোট সংবাদকর্মীদের আর কি বা করার আছে । গাছ ছায়া দেয় বলেত প্রখর খরতাপে লোকজন ওখানে আশ্রয় নেয় । আমি কাউকে খাট করে আমার ব্যাক্তিত্ব প্রচারের উদ্দেশ্যে এই লেখাটি নয়। বরং অসাধুদের সাবধানই আমার মূলকথা । কারণ আমি আগামীতে কপিরাইট আইন অনুযায়ী লড়ব । ফেসবুক বন্ধুরা প্লিজ প্লিজ প্লিজ যারা নিজে না লিখে অন্যের লিখা চুরি করেন তাদেরকে সাংবাদিক বা লেখক না বলে চোর বা ডাকাত বলুন। কারন ওরা অন্যের শ্রম ,ঘাম ,মেধা আর মনন চুরি করছে যা সম্পদ চুরির চাইতে কোন অংশেই কম নয় । সরি শ্রদ্ধেয় অগ্রজরা আপনাদের শেখানো মূলমন্ত্র ধারন করি বলেই অসৎ ও চোরদের বিরুদ্ধে কথা বলতে শিখেছি ।

মু. ইমাদ উদ দীন, স্টাফ রিপোর্টার-দৈনিক মানবজমিন

Post a Comment

Previous Post Next Post