 |
| সেই চেয়ারটি দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড় |
মু. ইমাদ উদ দীন: প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেয়ার জন্য তৈরি আর্কষণীয় কারুকাজের সে চেয়ারটি দেখতে এখন ভিড় করেছেন উৎসুক জনতা। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ ছুটে আসছেন কুলাউড়ার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের হিংগাজিয়া বাজারে। গতকাল বিকালে এমনটিই জানালেন সম্প্রতি জেলার আলোচিত চেয়ার মিস্ত্রি আতিক হাসান হৃদয়। গত ৮ই আগস্ট মানবজমিন-এ ‘৫ বছর থেকে প্রস্তুত হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর চেয়া’- শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে এ সংবাদটি টক অবদ্য জেলায় পরিণত হয়। সংবাদটি ওইদিন রাত ১২টার পর মানবজমিন-এর অনলাইন সংস্করণে দেখতে পেয়ে অনেকেই তাদের ফেসবুকে সংবাদটি পৃষ্ঠা ১৭ কলাম ৪ শেয়ার করেন। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই এ সংবাদটি সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। সকাল হতেই এই সংবাদটি পত্রিকায় দেখতে স্থানীয়রা ভিড় করেন পত্রিকা এজেন্সিগুলোতে। দুপুর হতেই স্থানীয় অনেক এজেন্সিতে শেষ হয়ে যায় মানবজমিন। মৌলভীবাজার জেলাসহ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন উপজেলা থেকে এ প্রতিবেদকের কাছে তৈরিকৃত চেয়ার ও মিস্ত্রির বিষয়ে মুঠোফোনে বিস্তারিত খোঁজ-খবর নেন অনেকেই। খবর নিতে বাদ যাননি প্রবাসীরাও। দারিদ্র্যের মধ্যে থেকেও তার এমন বিরল ভালবাসা আর শ্রদ্ধাবোধের জন্য অনেকেই এই প্রতিবেদকের মাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানান। মানবজমিন-এ এই সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে এখন কাঠমিস্ত্রি আতিক হাসান, তার তৈরিকৃত চেয়ার ও তার গ্রামের বাড়ি এখন জেলাজুড়ে আলোচনায়। কুলাউড়ার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের হিংগাজিয়া গ্রামের ২৫ বছর থেকে নিখোঁজ পিতা মো. রেণুু মিয়ার পুত্র দিনমজুর কাঠশ্রমিক আতিক। বাবার অবর্তমানে আর্থিক টানপড়েনের মধ্যেও দীর্ঘ ৫ বছর পরিশ্রম করে প্রধানমন্ত্রীর জন্য তৈরি করেছেন দশ মণ দশ কেজি ওজনের ব্যতিক্রমী চোখ ধাঁধানো একটি চেয়ার। চেয়ারটির নকশা, ওজন আর কাঠ ব্যবহারে আনা হয়েছে বৈচিত্র্য। ৭ ফুট ৬ ইঞ্চি র্দৈঘ্য আর ৩ ফুট ১ ইঞ্চি প্রস্থ। ওজন ১০ মণ ১০ কেজি। প্রায় ২০ ফুট সেগুন, মেহগনী আর আকাশী কাঠ দিয়ে তৈরি হয়েছে এই আর্কষণীয় চেয়ার। চেয়ারটি নাড়াচাড়া করতে প্রয়োজন পড়ে ৮ জন মানুষের। প্রতিদিন ২-৩ জন শ্রমিক ২-৩ ঘণ্টা করে কাজ করার পরও তা তৈরি করতে লেগেছে ৫ বছর। জাতীয় পতাকা, নৌকা, জাতীয় ফুল, হাতির শূঁড় আর নানা জাতের ফুল, চা গাছের কুঁড়ি, মাছের আঁইশ, আনারসের চোখ, আঁখের গিট, শঙ্খ মোড়া, কলসী ও মার্বেলসহ ঠাঁই পেয়েছে রাজকীয় এই চেয়ারটির কারুকাজে। সাথে রয়েছে গোলাকৃতির একটি পা দানিও। এর মধ্যে সোনালী ও বার্নিস কালার ছাড়াও লাল, কালো, সবুজ ও সাদাসহ বিভিন্ন রংয়ের সংমিশ্রণ ঘটিয়েছেন এই চেয়ারে। আর কাজ শেষ করে এখন চেয়ারটি কাগজে মুড়িয়ে রেখেছেন। এর জন্য তাকে ৫ কেজি গেজেট (পুরাতন পত্রিকা) পেপার ব্যবহার করতে হয়েছে। অপেক্ষা করছেন প্রধামন্ত্রীর ডাকের। প্রধানমন্ত্রীর সাড়া পেলেই তিনি বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকের মাস আগস্টেই চেয়ারটি তুলে দিবেন তার হাতে। গতকাল চেয়ারটি দেখতে এবং খোঁজ-খবর নিতে হিংগাজিয়া বাজারে যান কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, কুলাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আ.স.ম. কামরুল ইসলাম ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমীকলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতাকর্মীরা। তাদের কাছে স্থানীয় বাসিন্দারা জোর দাবি জানান যেন বিষয়টি তাদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী অবগত হন। এলাকাবাসীর আকুল আবেদন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু তনয়া জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে বঙ্গবন্ধু পাগল এ ছেলেটির তৈরিকৃত চেয়ারটি যেন তিনি উপহার হিসেবে গ্রহণ করেন। এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মানবজমিনকে বলেন, এই সংবাদটি আমি সংবাদকর্মী ও পত্রিকার মাধ্যমে জেনেছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশে অনেক প্রতিভাবান মানুষ রয়েছেন যারা প্রায়ই তাদের মেধা ও মননের পরিচয় দিয়ে থাকেন। চেয়ার মিস্ত্রি আতিক হাসানের ভালবাসা, শ্রদ্ধাবোধ ও আন্তরিকতার বিষয়টি আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করবো।
http://www.mzamin.com/details.php?mzamin=ODcxODc%3D&s=Ng%3D%3D#.VcgZSfH_uwg.facebook