স্বাস্থ্য ডেস্কঃ অফিসে একটানা বসে কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেছেন আপনি। একটা সময় কাজে
আর মনোযোগ দিতে পারছেন না। এটি হয়তো একজন কর্মজীবী ব্যক্তির রোজকার সমস্যা।
এখনকার দিনে মানুষ অনেক ব্যস্ত হয়ে পড়েছে দৈনন্দিন কর্মজীবনে। এসবের ফাঁকে
নিয়মিত ব্যায়াম করা অনেকের পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠে না। আর অফিসে সারাক্ষণ বসে
কাজ করা স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। তাই অফিসে কাজের ফাঁকে ক্লান্তি কাটাতে করে নিতে পারেন কয়েজটি ব্যায়াম।
রিস্ট রোল
যারা দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করেন তাদের জন্য এই ব্যায়াম
উপযুক্ত। কারপেল টানেল সিনড্রোম থেকে মুক্তি দেবে এই ব্যায়াম। হাত সোজা
রেখে শুধু মাত্র হাতের কবজি ঘোরানোর চেষ্টা করুন। ঘড়ির কাটার দিকে এবং
বিপরীত দিকে ১০ বার করে ২০ বার এই ব্যায়ামটি করে নিন বসে থেকেই।
স্ট্রেচিং
একটানা বসে থাকলে অনেকেই ঘাড় ব্যথায় ভুগে থাকেন। এই সমস্যা সমাধানের জন্য
স্ট্রেচিং করা অনেক জরুরী। অফিসের চেয়ারে বসেই এই কাজটি করে ফেলুন খুব
সহজেই। হাত পা টানটান করুন। চেয়ারে বসে থেকে কোমর থেকে শুরু করে মাথা
পর্যন্ত অংশ ডানে বামে যতোটা সম্ভব ঘোরান। ঘাড় ডানে বামে স্ট্রেচ করুন।
শোল্ডার স্পাইন
ঘাড়, পিঠ ও মেরুদণ্ড ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে এই ব্যায়ামটি করে ফেলুন বসে
বসেই। ডান হাত পিঠের নিচের দিক থেকে যতোটা সম্ভব উপরে তুলুন। বাম হাত ঘাড়ের
ওপর থেকে পিঠের ওপর নিচের দিকে নামান। হাত ক্রস করে একটি অপরটি দিয়ে ধরে
রাখুন। দুই হাত ধরে রাখুন ৩০ সেকেন্ড। এভাবে একইভাবে অন্য সাইড করে নিন।
শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যায়াম
দীর্ঘ সময় কাজ করলে মস্তিস্ক ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তাই মস্তিস্কের ক্লান্তি
কাটাতে শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম বেশ ভালো কাজ করে। প্রথমে বড় করে শ্বাস
নিন। এরপর আঙ্গুল দিয়ে ডান নাসারন্ধ্র বন্ধ করুন। বাম নাসারন্ধ্র দিয়ে
শ্বাস নিন। এবার বাম নাসারন্ধ্র বন্ধ করে ডান নাসারন্ধ্র দিয়ে শ্বাস ছাড়ুন।
আবার ডান নাসারন্ধ্র দিয়েই শ্বাস নিন। বাম নাসারন্ধ্র দিয়ে ছাড়ুন এবং নিন।
এভাবে ডান-বাম করে কয়েকবার করতে থাকুন। এই ব্যায়ামের ফলে শরীর প্রচুর
অক্সিজেন পাবে
ভ্যাকুয়াম
চেয়ারে বসে বড় করে শ্বাস নিয়ে পেট ভেতরের দিকে চেপে রাখুন। যতটুকু
সম্ভব পেট চাপান।পরে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন। তবে পেট ছাড়া যাবে না। এভাবে
৩০ সেকেন্ড করে ১০ বার করুন। এই ব্যায়াম পেটের চর্বি (ফ্যাট) কমাতে সাহায্য
করবে
চেয়ার বসে শরীর মোচড়ানো (চেয়ার টুইস্ট)
চেয়ারে এমনভাবে বসুন যেন পা না নড়ে। এরপর কোমড়ের ওপরের অংশ যতটুকু সম্ভব
একপাশে বাঁকান বা মোচড়ান। একইভাবে অপর অংশও বাঁকান। এভাবে ১০ বার করুন। এই
ব্যায়াম শিড়দাঁড়ার চাপ কমাতে সাহায্য করে।
সিটেট ব্যান্ড
যখন কাজ করতে করতে মনে হচ্ছে শরীর জড়ো হয়ে যাচ্ছে তখন এই ব্যায়ামটি করতে
পারেন। চেয়ারে বসে সামনের দিকে ঝুঁকে বুক হাঁটুতে লাগান। অনেকে হয়তো পেট
বড় হওয়ার কারণে এই ব্যায়ামটি করতে পারবেন না। তবে চেষ্টা করুন যতটুকু পারা
যায়। এভাবে তিন থেকে চার বার করতে হবে। এই ব্যায়াম শিরদাঁড়ায় চাপ কমায়। এতে
ধীরে ধীরে পেটও নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।
