স্টাফ রিপোর্টারঃ বুধবার ১৭ জুন চায়ের দেশ মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গল সফরে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বুধবার সকালে ঢাকা থেকে বিমানযোগে সিলেট নেমে, সড়ক পথে প্রথমে শ্রীমঙ্গল ও পরে মৌলভীবাজার সদরে পৌঁছে নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণসহ সুধি সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। এদিকে জেলার দুটি উপজেলার অনুষ্ঠানকে ঘিরে মাঠ প্রস্তুত এবং মঞ্চ নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং দলীয় নেতাকর্মীরা রাত দিন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর সূচী অনুযায়ী তিনি বুধবার সকালে ঢাকা থেকে বিমানযোগে সিলেট নেমে, সড়ক পথে দুপুর ১টায় প্রথমে মৌলভীবাজার জেলার চায়ের জনপদ শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপস্থিত হয়ে সেখানে ১৫২ জন নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। পরে সেখান থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে সড়ক পথে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পৌঁছে সেখানে আয়োজিত রাজনগর উপজেলার জন্য বারদ্ধকৃত ১৫৫ জন নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণসহ সুধি সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। পরে দুপুর সাড়ে তিনটায় স্থানীয় দুসাই রির্সোটে বিশ্রাম ও সেখানে দলীয় নেতাদের নিয়ে রাজনৈতিক সভা যোগ দিবেন। পরে বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে সড়ক পথে সিলেটের উদ্দোশ্যে মৌলভীবাজার ত্যাগ করবেন।
এদিকে জাতীয় নির্বাচনের অল্প কয়েক দিন আগে তিনি মৌলভীবাজারের আইনপুর এলাকায় নির্বাচনী জনসভায় বলেছিলেন, আপনারা ধানের শীষে ভোট দিলে দল সরকার গঠন করলে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে আসবো। ফলে মাত্র চার মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তাঁর আগমন ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপি ও মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন। সরকার প্রধানের আগমন ঘিরে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের পাশাপাশি সবার মাঝে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে মৌলভীবাজার বাসীর দীর্ঘদিনের দাবী একটি মেডিক্যাল কলেজ, শমসেরনগর বিমানবন্দর চালু করা, মৌলভীবাজার সরকারী কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তর, প্রস্তাবিত মিরপুর শ্রীমঙ্গল হয়ে শেরপুর বাইপাস সড়ক নির্মানসহ পর্যটন এলাকার জন্য বিভিন্ন উন্নয়নের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন দুই উপজেলার নির্বাচিত সংসদ সদস্য।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে তাঁকে বরণ করতে গেল ক’য়দিন থেকে জেলা জুড়ে উৎসবের আমেজ বইছে। জনসভার স্থান পরিবর্তনের পর মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও দ্রুতগতিতে চলছে মাঠ, গ্রেইট, জনসভাস্থল ও মঞ্চ প্রস্তুতির কাজ। অল্প সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত প্রস্তুতির জন্য রাতদিন কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন দলীয় নেতাকর্মী এবং প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধানের আগমনকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল, মিটিং আর শ্লোগানে মুখরিত হচ্ছে জেলার প্রতিটি উপজেলা শহর ও হাট বাজার। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির দলীয় প্রধানের আগমনে তাঁকে সরাসরি একনজর দেখতে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন উৎফুল্ল ও প্রাণবন্ত নেতাকর্মীরা।
এজেলার কৃতিসন্তান সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী মরহুম সাইফুর রহমান এর করা উন্নয়নের পর দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগেরও বেশি সময়র পেরিয়ে গেলেও জেলাবাসির কাঙ্খিত উন্নয়নের নেই কোনো বাস্তবায়ন। দীর্ঘ দিন থেকে উন্নয়ন বঞ্চনার শিকার জেলার কোথাও নেই দৃশ্যমান উন্নয়নের ছোঁয়া।
জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান, জেলা বিএনপির আহবায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র ফয়জুল করিম ময়ূন ও সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন, সদস্য মো: ফখরুল ইসলাম,সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুজিবুর রহমান মজনু, সাধারণ সম্পাদক মারুফ আহমেদ জানান প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের দলের প্রধানকে বরণ করতে জেলাবাসী প্রতীক্ষায় রয়েছেন।
মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার মাসের মাথায় মৌলভীবাজারে আসছেন। এটি অত্যন্ত আনন্দের এবং আমাদের জন্য একটি অভূতপূর্ব বিষয়। উনার এই আগমন আমাদের প্রত্যাশারও বাইরে ছিল। যাই হোক, উনাকে স্বাগত জানানোর জন্য আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি চলছে।
নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী এবং আমি বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আশা করছি, আগামী অর্থবছর থেকেই সেই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন শুরু হবে। কারণ আগামী পহেলা জুলাই থেকে নতুন অর্থবছরে মূলত এই সরকারের প্রকৃত উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের সূচনা হবে।
তিনি মৌলভীবাজারের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রধান তিনটি দাবি রয়েছে বলে আরও জানান, মৌলভীবাজারে একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা, শমসেরনগর বিমানবন্দর চালু করা, এবং মৌলভীবাজার কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা। তিনি আশাবাদী দাবিগুলো বাস্তবায়িত হবে এবং এগুলো বর্তমানে বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রীকে আগামী শুক্রবার শমশেরনগর বিমানবন্দর পরিদর্শনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেছেন। সেই লক্ষ্যে তিনি সশরীরে এসে শমশেরনগর বিমানবন্দরটি পরিদর্শন করবেন।
তিনি বলেন, মেডিকেল কলেজের বিষয়ে সম্পূর্ণ নকশা ও পরিকল্পনা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে দেখা করেছি এবং তা তাঁর নিকট হস্তান্তর করেছি। তাঁদের একটি প্রাথমিক প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে এলাকাটি পরিদর্শন করে গেছেন এবং খুব শীঘ্রই আরও একটি দল পরিদর্শনে আসবেন। আমরা আশাবাদী যে, এই নির্ধারিত স্থানেই অত্যন্ত সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে মেডিকেল কলেজটি স্থাপন করা সম্ভব হবে। ইনশাআল্লাহ, এতে কোনো প্রকার সমস্যা হবে না।
পাশাপাশি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছেও একটি পরিকল্পনা জমা দেওয়া রয়েছে মৌলভীবাজার কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা। নতুন একাডেমিক ভবন, আবাসিক হোস্টেল এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ভবন নির্মাণের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী যে, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে এই প্রকল্পগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে, আমরা সেই লক্ষ্যেই আন্তরিকভাবে অগ্রসর হচ্ছি।
