বিশেষ প্রতিনিধিঃ গতবার দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি হয়েছিলেন ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’। নির্বাচনে অংশ নিয়ে পেয়েছিলেন মাত্র ১১৩ ভোট। তবে এবার তিনি দলের মনোনয়ন পেয়েছেন।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া কাদিপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ এবার এম. ছালিক আহমদকে মনোনয়ন দিয়েছে। এদিকে, তার মনোনয়ন পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের মধ্যে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। চলছে আলোচনা-সমালোচনা। 

মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) বিকালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড কুলাউড়ার ১৩ টি ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে। এতে নাম রয়েছে ছালিক আহমদের।

দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাদিপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে জেলা কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাফর আহমদ গিলমান, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি বদরুল ইসলাম বদর ও কাদিপুর ইউপি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছালিক আহমেদের নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ কুলাউড়ার ১৩টি ইউনিয়নের তালিকা প্রকাশ করে।

ছালিক আহমদের দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পর দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী অন্য দুই প্রার্থীর সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে পোস্ট দেন।

ছালিক আহমদের বলেন, দল এবং নেত্রী আমাকে প্রার্থী করেছেন, আমি নিশ্চিত জয়ী হব। গত বছর স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও আমি নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছি। কেউ কেউ আমার বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু করেছেন কিন্তু নির্বাচনে নৌকা জয়ী হবে এতে সন্দেহ নেই।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে ইচ্ছুক জেলা কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাফর আহমেদ গিলমান। তিনি জানান, এটা কাম্য নয়। উপজেলা আওয়ামী লীগ হতাশ, সেই সাথে হতাশ ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। প্রার্থী বদল হবে বলে আশা করছি।

মনোনয়ন প্রত্যাশী উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি বদরুল ইসলাম বদর বলেন, তৃণমূল থেকে আওয়ামী ঘরানার রাজনীতি করে আসছি। গত নির্বাচনেও নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলাম। এবারো মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলাম। কিন্তু পাইনি। স্বাভাবিকভাবে হতাশ। তবে দল ও নেত্রীর সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি। নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে যাবো।

এদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগ বলছে তারা প্রার্থী বদল করার জন্য ইতোমধ্যে হাইকমান্ডে যোগাযোগ শুরু করেছে।

কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রেনু জানান, তিনজনের নাম কেন্দ্রে পাঠাতে হয় তাই বাধ্য হয়ে অন্য দুই প্রার্থীর সাথে ছালিক আহমদের নামও দিতে হয়েছে। তবে নৌকা নিয়ে জয়ী হতে পারবে এমন প্রার্থীরা ইতোমধ্যে হাইকমান্ডে যোগাযোগ করছেন। আশা করছি দ্রুত যোগ্য প্রার্থী মনোনীত হবেন এবং নৌকা এই আসনে যোগ্য প্রার্থী পাবে।



Post a Comment

 
Top