স্পোর্টস ডেস্কঃ দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত এবারের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিকদের তাদের মাটিতেই হারিয়ে সেমিতে যাওয়া নিঃসন্দেহে কঠিন কাজ ছিল। তবে ব্যাটসম্যানদের পর রকিবুলের ঘূর্ণি জাদুতে সেই কঠিন কাজটিই সহজ করে দুর্দান্তভাবেই সেমিফাইনালে উঠে গেল বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার তরুণ ব্যাটসম্যানদের দুর্দান্ত পার্ফরম্যান্সের পর টাইগাররা বোলিংয়েও রেখেছে ম্যাচ জয়ের সুস্পষ্ট ছাপ। এক রকিবুল হাসানের মায়াবী ঘূর্ণিতে ম্যাচকে হাতের মুঠোয় পোরে বাংলাদেশ। এদিন প্রতিপক্ষের তুলে নেয়া ১০ উইকেটের মধ্যে একাই ৫টি উইকেট ঝুলিতে পুরেছেন এই স্পিনার। হয়েছেন ম্যাচ সেরাও।

এদিন ৯.৩ ওভার হাত ঘুরিয়েই ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করেন রকিবুল। মাত্র ১৯ রানেই নিয়েছেন পাঁচ উইকেট। এছাড়া তানজিম হাসান সাকিব ২টি এবং শামিম ও শরিফুল ১টি করেউ উইকেট লাভ করেন।

টাইগার যুবা বোলারদের এমন বোলিংয়ে ৪২.৩ ওভারেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬০ রান করেন চারে নামা লুকে বিউফোর্ট। এছাড়া ওপেনার জনাথন বার্ডের ব্যাট থেকে আসে ৩৫ রান। এদিন প্রোটিয়া যুবাদের আউট হওয়া সাত জনই ছুঁতে পারেননি দুই অঙ্কের কোটা। যাতে শেষ পর্যন্ত ১৫৭ রান তুলে হেরে যায় ১০৪ রানের বড় ব্যবধানেই।

আর এই জয় নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সেমিতে উঠলো টাইগাররা। ১৯৮৮ সাল থেকে চালু হওয়া টুর্নামেন্টটিতে ২০১৬ সালেই সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জন করে বাংলাদেশ। সেবার ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত আসরে সেমিতে হেরে তৃতীয় স্থান অর্জন করে মেহেদী মিরাজের দল। তবে এবার সেই সাফল্যকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয়ে আকবর আলীর দল।

এর আগে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আজ প্রোটিয়াদের মুখোমুখি হয়ে ২৬১ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল।

বাংলাদেশের এ ইনিংস কোনও সেঞ্চুরি না থাকলেও ফিফটি আছে তিনটি। সর্বোচ্চ ৮০ রান করা তানজিদ হাসান তামিম শুরুটা করেছিলেন দুর্দান্ত। পারভেজ হোসেন ইমনকে নিয়ে ওপেনিং জুটিতে ৬০ রান তোলেন এই বাঁহাতি ওপেনার। তারপর অবশ্য বাংলাদেশের ইনিংস কিছুটা থমকে যায়।

ইমন ৪০ বলে ১৭ করে ফিরলে, এর কিছুক্ষণ পরই রান আউট হয়ে ফেরেন মাহমুদুল হাসান জয় (১৫ বলে ৩ রান)। তবে তাওহিদ হৃদয় ও শাহাদাত হোসেনদের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে চাপ থেকে বেরিয়ে আসে বাংলাদেশ।

৭৬ বলে ৭ চার ১ ছয়ে ৭৪ রান করে শেষ অবধি অপরাজিত ছিলেন শাহাদাত হোসেন। হৃদয় ৭৩ বলে ৫১ রান করে আউট হন। ওপেনার তানজিদ হাসান ৮৪ বল খেলে ১২ চারে ৮০ রান করেছেন। শেষ দিকে অধিনায়ক আকবর আলি ১১ বলে ১৬ রান করলে দুইশ ষাট রান পেরিয়েছে বাংলাদেশের স্কোর।

এদিন প্রোটিয়া যুবাদের পক্ষে সর্বোচ্চ দুটি উইকেট লাভ করেন ফেকো মোলেটসান।

এদিকে, দু’দলের মধ্যকার শেষ পাঁচবারের দেখায় এগিয়ে ছিল বাংলাদেশই, জিতেছে তিনবার। আর দক্ষিণ আফ্রিকা জয় পেয়েছে দু’বার।

Post a Comment

 
Top