এস আলম সুমন: বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, সাবেক ডাকসু ভিপি বর্তমান জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদকে বিষধগার করে আসন্ন সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে উপজেলা আওয়ামীলীগের বর্ধিত কর্মী সভায় বক্তব্য দিয়েছেন মৌলভীবাজার জেলা ও কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ।
সুলতান মনসুর আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে বেঈমানী করেছেন। শেখ হাসিনা রাজনীতিতে তাঁকে (সুলতানকে) সব দিয়েছেন। শেখ হাসিনা সুলতান মনসুরকে ছাত্রলীগের সভাপতি করেছিলেন, ডাকসু ভিপি করেছিলেন, দলীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সংসদ সদস্য করেছিলেন। অথচ সেই সুলতান মনসুর ১/১১’র সময় শেখ হাসিনাকে দল থেকে মাইনাস করার জন্য ষড়যন্ত্র করেছিলেন।  একজন জাতীয় বেঈমান, তিনি বঙ্গবন্ধুর শ্লোগান দিয়ে, জয় বাংলার শ্লোগান দিয়ে, মুজিব কোট পড়ে জয় ধানের শীষ শ্লোগান দিচ্ছেন। এটা মানুষকে ধোকা দেয়ার শামীল। তাঁরা আরো বলেন, ২০০৮ সালে এক ভোটে দুই এমপির নামে কুলাউড়া আওয়ামী নেতাকর্মী ও মানুষের সাথে ধোঁকাবাজি করেছেন। এই ধরনের ধোঁকাবাজি কুলাউড়ার মানুষ এখন বুঝতে পারে। কুলাউড়ার মানুষ তাঁকে এখন ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করবে। আসন্ন নির্বাচনে মহাজোট থেকে কেন্দ্র যাকে নৌকার প্রার্থী দিবে তাঁকে বিজয়ী করতে ও সুলতানকে পরাজিত করতে নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাবে।

৫ ডিসেম্বর বুধবার বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রেনু ও যুগ্ম সাধারণ আব্দুল মুক্তাদির তোফায়েল এর সঞ্চালনায় এবং উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুর রউফের সভাপতিত্বে দলীয় বর্ধিত কর্মীসভায় বক্তারা এসব বলেন।

সভার শেষ পর্যায়ে মহাজোটের শরীক বিকল্পধারার প্রার্থী এমএম শাহীন উপস্থিত হলে নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ বিরাজ করে। নেতৃবৃন্দ তাঁকে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত ‘নৌকা’ প্রতীকের কান্ডারী উল্লেখ করে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেন।

লন্ডন আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক সাংবাদিক কামাল হাসান বলেন, ‘সুলতান মনসুর আওয়ামীলীগের সাথে বেঈমানী করেছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের বিরোধীতা করেছেন। বর্তমানে তিনি স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে হাত মিলিয়ে, সুর মিলিয়ে বলছেন, দেশে স্বাধীনতা বিরোধী নেই। এটা ন্যাক্কারজনক।’

সিলেট স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ এর আহ্বায়ক ও সিলেট বিএমএ এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. রুকন উদ্দিন বলেন, ‘আমরা মুজিব আদর্শের রাজনীতি করি, আমরা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে আরও সমৃদ্ধ করতে রাজনীতি করি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের যে উন্নয়ন অব্যাহত আছে সেই ধারাকে অক্ষুন্ন রাখতে আমরা আজ ঐক্যবদ্ধ। তাই কুলাউড়ায় যে নৌকা প্রতীক নিয়ে আসবেন আমরা সকলে তাঁর পক্ষে কাজ করবো।’

সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেন, ‘মানুষের কোন অঙ্গে ক্যান্সার হলে, শরীরের অন্যান্য অঙ্গ রক্ষার্থে সেই ক্যান্সারে আক্রান্ত অংশ কেটে ফেলতে হয়। ঠিক তেমনই আমাদের এক সময়ের অত্যন্ত প্রিয় শ্রদ্ধাভাজন সুলতান মনসুর এখন আওয়ামীলীগের একজন ক্যান্সার, তাই তাঁকে আজ কেটে ফেলে দিলাম।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের যুব বিষয়ক সম্পাদক আ.স.ম কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা নৌকা প্রতীকে নির্বাচনের জন্য ঐক্যবদ্ধ। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিতে উনার মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করবো ইনশাল্লাহ।’

সুলতান মনসুরকে বেঈমান আখ্যা দিয়ে মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও বরমচাল ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আহ্বাব চৌধুরী শাজাহান বলেন, ‘বার বার বেঈমান বলে উনাকে আর হাইলাইট করার কিছু নাই। এখানে যারা উপস্থিত আছেন তারা রক্ত মাংসে আওয়ামীলীগ করে, এরা রক্ত মাংসে শেখ হাসিনার সৈনিক। উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনারা হাত তুলে দেখান কারা কারা এই বেঈমানের বিপক্ষে আছেন।’ তখন সবাই হাত উঁচু করে দেখালে তিনি বলেন, ‘ধন্যবাদ, এটাই আমাদের সন্তুষ্টি।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মিসবাহুর রহমান বলেন, ‘সুলতান মনসুর সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছু নাই। উনাকে কি দেন নাই আমাদের নেত্রী। অন্যসব এলাকার নেতাকর্মীদের থেকে তুলনামূলকভাবে উনাকে সব দিয়েছেন। আমার নেত্রী শেখ হাসিনা উনাকে ডাকসু ভিপি বানিয়েছেন, ছাত্রলীগের সভাপতি বানিয়েছেন, আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বানিয়েছেন। উনাকে এমপি বানিয়েছেন। উনার জীবনে যা কিছু অর্জন করেছেন তা আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা দিয়েছেন। এই শেখ হাসিনার সাথে যারা বেঈমানী করতে পারে তারা কোনদিন মানুষ হতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, আমরা নৌকাকে ভালোবাসি, আমরা আওয়ামীলীগকে ভালোবাসি, আমরা বঙ্গবন্ধুকে ভালোবসি, আমরা শেখ হাসিনাকে ভালোবাসি। কুলাউড়ায় অনেককে আমরা নৌকা মার্কায় এমপি বানিয়েছিলাম। সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদকেও নৌকা মার্কায় এমপি বানিয়েছিলাম। কিন্তু আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই। তিনি ধানের শীষে চলে গেছেন। এমএম শাহীন ধানের শীষে ছিলেন, এখন নৌকা মার্কায়  এসেছেন।

মহাজোটের শরীক বিকল্পধারার প্রার্থী এম এম শাহীনের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কুলাউড়া আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা অনেক কষ্ট সয্য করেছে। অনেক বেশী নির্যাতিত। আপনাকে আজ আমরা বরণ করে নিচ্ছি। আপনাকে কথা দিতে হবে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের জন্য আপনি ভবিষ্যতে কি করবেন? সাথে আপনার আচরন কি থাকবে?     
 
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামলীগের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান বলেন, ‘ সুলতান মনসুর যা ছিলো না, কিন্তু তাকে দলীয় ছাত্রলীগের সভাপতি, ডাকসু ভিপি, আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক, এমপি পর্যন্ত বানিয়েছেন আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা। সুলতান মনসুরকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আপনি কি বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত সংগ্রাম কমিটি গঠন করেছিলেন? না। আপনি কি বাংলাদেশের কন্সটিটিউট এসেম্বলী মেম্বার ছিলেন? আপনি কি মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন? আপনি কি ৪নং সেক্টরের মুক্তিযুদ্ধের কমান্ডার ছিলেন? আপনি কি আওয়ামীলীগের সদস্য নির্বাচিত হতে পেরেছিলেন? আপনি তো ডাইরেক্ট সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছিলেন। আপনি কি আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হতে পেরেছিলেন? আপনি কি সংবিধান রচনা করেছিলেন? আরে বাবা, এতো কিছু পেয়েও এমপি মনোনয়ন না পেয়েও আমি বঙ্গবন্ধু, দল এবং নেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি অবিচল ছিলাম।
তিনি আরও বলেন, নিজের লাভ বা স্বার্থ হাসিলের জন্য যারা দল ছেড়ে দেয়, নীতি-আদর্শ ছেড়ে দেয় তারা দেশ ও জাতির জন্য কোন উপকার বয়ে আনতে পারে না। 
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুস শহীদ, উপজেলা শ্রমীকলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভাটেরা স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন, উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি আজিজুর রহমান, কুলাউড়া সদর ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি লুৎফুর রহমান, টিলাগাঁও ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালিক, পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক শাহীন আহমদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক এহসান আহমদ টিপু, উপজেলা তাঁতীলীগের আহ্বায়ক প্রভাষক আফজাল রশিদ খান শিবলু, ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক আবু সায়হাম রুমেল, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান জনি প্রমুখ।

Post a Comment

 
Top