বিশেষ প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজার-২ আসনের প্রার্থী সাবেক এমপি এমএম শাহীনের হলফনামায় বাড়ি, গাড়ী, নগদ টাকা আছে উল্লেখ দেখালেও আরেক প্রার্থী সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদের কোন বাড়ি নেই। নেই কোন গাড়িও। মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় আছে কেবল ছয় একর কৃষিজমি। তাও সেই জমি থেকে নেই কোন আয় উপার্জন।

নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামায় এমন তথ্য দিয়েছেন সাবেক এই দুই সাংসদ। সুলতান মনসুর ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হয়ে মৌলভীবাজার-২ আসনে একাদশ সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আর এমএম শাহীন মহাজোটের শরীক বিকল্পধারার প্রার্থী হয়ে মৌলভীবাজার-২ আসনে একাদশ সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

হলফনামায় সুলতান মোহাম্মদ মনসুর পেশা হিসেবে ‘সমাজকর্মী’ উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে এমএম শাহীন পেশা হিসেবে ‘নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ঠিকানা পত্রিকা প্রকাশনা ও বিক্রয়’ উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি তিনি ‘মানব সেবায় রাজনীতি’ পেশা উল্লেখ করেছেন।

মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামায় উল্লেখ আছে, সুলতান মনসুরের পরিবারের একটি টয়োটা গাড়ি আছে। গাড়িটির মূল্য ২০ লাখ টাকা। তবে গাড়ির মালিক তিনি নন, মালিক তাঁর স্ত্রী। স্ত্রীর সঞ্চয়পত্রে বা স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ আছে ২৫ লাখ টাকা। পরিবারে লাখ টাকা মূল্যের যে ইলেকট্রনিক সামগ্রী আছে, তাও স্ত্রীর নামে। সাত শতক জমি আর ২০ ভরি স্বর্ণও আছে স্ত্রীর নামে। এই স্বর্ণ তিনি পেয়েছিলেন বিয়ের দান হিসেবে।

গাড়ি যেমন স্ত্রীর, একটি বাড়ি আছে, সেটির মালিকও স্ত্রী। বাড়িটির আর্থিক মূল্য ৩০ লাখ টাকা। তবে তিনটি দালানের ৯ দশমিক ৫ অংশের মালিক সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। এর আর্থিক মূল্য ২ লাখ ৬৩ হাজার ১৫৭ টাকা।

মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামায় তিনি বলেছেন, কৃষি, বাড়িভাড়া, ব্যবসা, সঞ্চয়পত্র বা ব্যাংক আমানত, চাকরি বা অন্য কোনো খাত থেকে তাঁর কোনো আয় নেই। তবে তাঁর ওপর নির্ভরশীলদের আয় ৬ লাখ ৬২ হাজার ৪০০ টাকা। তবে এই আয় বছরে, নাকি মাসে তা হলফনামায় দেওয়া তথ্য থেকে স্পষ্ট হওয়া যায়নি।

সুলতান মনসুরের নগদ টাকা আছে ৫৫ লাখ। একই পরিমাণ টাকার সেভিংস সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রে বা স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ আছে তাঁর। আর যে আসবাব আছে, তার আর্থিক মূল্য মাত্র দুই লাখ টাকা।

অন্যদিকে, মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামায় এমএম শাহীনের অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে উল্লেখ আছে তাঁর টয়োটা প্রভোক্স গাড়ি আছে। গাড়িটির মূল্য ৮ লাখ টাকা। উনার ঘরে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের যে ইলেকট্রনিক ও ৫ লাখ টাকা মূল্যের আসবাবসামগ্রী আছে। স্ত্রীর নামে ৫০ ভরি স্বর্ণ উল্লেখ করেছেন যারা মূল্য ২০ লাখ টাকা উল্লেখ আছে। উনার কাছে নগদ আছে ৪ লাখ ৫ হাজার ৩৫৪ টাকা এবং ব্যাংকে জমা আছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ১৯০ টাকা।

স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে ১২.৮৩ বিঘা কৃষি জমি আছে যার মূল্য ৩৬ লাখ টাকা এবং অকৃষি জমি আছে ৬৯.৭৫ শতাংশ যার মূল্য ৩৫ লাখ টাকা উল্লেখ আছে। যৌথ মারলকানাধীন একটি দালান আছে যার ৬ ভাগের ১ ভাগের মালিক তিনি। এর মূল্য উল্লেখ আছে ৬০ লাখ টাকা। নিজের দুটি ফ্লাট আছে যার মূল্য (৫৯ লাখ এবং ৫০ লাখ) মোট ১ কোটি ৯ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে।

হলফনামায় কৃষি খাতে ১২.৮৩ বিঘা জমি থেকে আয় যৌথ পরিবারের  খরচ হয়। এছাড়াও পত্রিকা বিক্রয় থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় বাৎসরিক আয় দেখানো হয়েছে ২৫ লাখ টাকা।

হলফনামায় তিনি দায় উল্লেখ করেন একটি ফ্লাট ও জমি বিক্রি বাবত বায়না করেছেন ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

Post a Comment

 
Top