স্টাফ রিপোর্টার: জ্যৈষ্ঠ মাস মধুমাস। জ্যৈষ্ঠে রমজান হওয়ায় ফলের বাজারে কিছুটা মন্দাভাব। তবে সকল প্রতিকূলতা কাটিয়ে জমে উঠছে কুলাউড়া উপজেলার মৌসুমী ফলের সেরা হাট ব্রাহ্মনবাজার । ব্রাহ্মনবাজার পাহাড়ি এলাকায় প্রচুর মৌসুমী ফল আম, কাঁঠাল, জাম, আনারস, লেবু, পেয়ারার জন্য এই বাজারের সুখ্যাতি ব্যাপক। এবারও তার বিপরীত নয়। ফলে জ্যৈষ্ঠ মাস বাজারে বসছে বিশাল আম কাঁঠালের হাট। কুলাউড়া উপজেলা থেকে ৭কিলোমিটার পুর্ব দিকে অবস্থিত এই বাজারে সপ্তাহে দুইদিন সোম ও বৃহস্পতিবার বসে আমকাঁঠালের বড় হাট। প্রতি হাটবারে এবাজারে লক্ষাধিক টাকার ফলের কেনাবেচা হয়। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা আসে নানান মৌসুমী ফল ক্রয়ের উদ্দেশ্যে। সড়কপথে ভাল যোগাযোগ ও তুলনামূলক কম দামে পাইকারি ক্রয় বিক্রয় হয় বলে ব্রাহ্মনবাজারে মৌসুমি ফলের হাট জমজমাট থাকে।
কুলাউড়া উপজেলার ব্রাহ্মনবাজার ইউনিয়নের বড় একটি অংশ উঁচুুনিচু টিলা আর পাহাড়বেষ্টিত বলে এসব ফল সহজে চাষাবাদ হয় এ এলাকায়। এর মধ্যে গ্রীষ্মকালীন নানা জাতের ফল চাষাবাদ, বাজারজাত ও বিক্রয়ের অন্যতম একটি স্থান হলো কুলাউড়া উপজেলার ব্রাহ্মনবাজার। একসময় সীমিত আকারে করেরহাট ও এর আশপাশের এলাকায় আম, কাঁঠাল, লিচু, আনারস, জাম্বুরাসহ নানা জাতের মৌসুমি ফল উৎপাদন করা হতো। এখন এসব এলাকার সর্বত্রই আর্থিক উপার্জনের কথা ভেবেই বসতবাড়ির আঙিনা, খোলা পতিত জমি, এমনকি বন্দোবস্তি জমি নিয়ে খাসজমিতে গ্রীষ্মকালীন ফল চাষাবাদ করা হচ্ছে। এভাবে ব্রাহ্মনবাজার এলাকায় বেশ কয়েকটি ব্যক্তিমালিকানাধীন ফলের বাগান গড়ে উঠেছে। এসব বাগানে বানিজ্যিকভাবে প্রচুর পরিমাণে আম, কাঁঠাল, আনারস, লিচু, পেয়ারা, পেঁপে, ইত্যাদি চাষাবাদ করে বছরে প্রচুর পরিমাণে আয় করা হয়।
মধুফলের এই মৌসুম এলেই ব্রাহ্মন বাজারের চেহারা বদলে যায়। বাজারের প্রধান সড়কের দুই পাশে চলে আম, জাম, কাঁঠাল, আনারস, জামরুল ও লিচুর খুচরাুপাইকারি বিক্রেতাদের বিকিকিনি। এলাকাটি তখন একটি মিষ্টিমধুর গন্ধে ভরে যায়। অধিকাংশ সময় বাজারের নির্দিষ্ট স্থানে সংকুলান না হওয়ায় বিক্রেতারা রাস্তার ওপরেই ফলে পসরা সাজিয়ে বসে পড়ে। মূলত পাইকারি বিক্রয় বেশি হলেও খুচরা বিক্রয় পরিমাণও কম নয়। পাইকাররা হাটবার ভোর থেকেই স্থানীয় চাষী ও বিক্রেতাদের কাছ থেকেই ফল সংগ্রহ শুরু করে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে পাইকাররা তাদের সংগ্রহ করা ফল নিজস্ব পরিবহনে করে বোঝাই করে নিয়ে যায়। এখানকার জেলা থেকে শুরু করে বিভাগের ও বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে পাইকাররা। এবাজারে কাঁঠালের বিকিকিনি বেশি হলেও আনারস, লেবুর বিক্রয় উল্লেখ করার মতো।
এছাড়া কলা, আমলকি, জলপাইসহ নানান ফল কেনাবেচা হয় বছরের অন্যান্য সময়। এই ফলের হাটের বিষয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান মোঃ মমদুদ হোসেন বলেন, আগামীতে ফলের হাটটি আরো সুন্দর করে তোলার জন্য আমার বিশেষ উদ্যোগ রয়েছে। তিনি একটি পরিকল্পিত নান্দনিক ফলের হাট হিসেবে আরো সুসজ্জিত করতে চান এই হাটকে। তা খুব শীঘ্রই হবে বলে জানান তিনি।
স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হওয়ায় এবাজারের প্রায় সব ফলই ফরমালিন তথা বিষমুক্ত। তবে বর্তমান সময়ে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ শুরু হওয়ায় ফল দ্রুত উৎপাদন ও সংরক্ষণে স্থানীয় চাষীরাও কীটনাশক, রাসায়নিক সার ও ফরমালিন ব্যবহারের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।
