‘রাজপুত্রের’ মান্ধাতা আমলের বিমান উড়বে কিনা সন্দেহ


অনলাইন ডেস্কঃ আগামী ১২ জুন সিঙ্গাপুরে ঐতিহাসিক বৈঠকে বসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। দুই নেতার বৈঠক নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে বিশ্বমহলে।

তারা কোন বিমানে আসবেন, কোন হোটেলে উঠবেন, কী খাবেন- এসব নিয়ে চলছে জোরালো আলোচনা। এএফপি জানায়, কিমের বাপ-দাদার আমলের পুরনো বিমান ঠিকঠাকভাবে সিঙ্গাপুরে পৌঁছতে পারবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে বিমানচালনা বিশেষজ্ঞরা।

এমনকি উত্তরের অঘোষিত ‘রাজপুত্রের’ আয়েশি জীবনযাপনের জন্য বিলাসী হোটেল এখনও নির্ধারিত হয়নি।

ট্রাম্প ও কিম উভয়ই দামি হোটেল বৈঠক করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু কিম বিল পরিশোধ করবেন না বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছেন। এ নিয়ে বেকায়দা পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ আয়োজক দেশগুলো।

খামখেয়ালি ও বিলাসী ‘রাজপুত্র’ হিসেবে বিশ্বনিন্দিত কিম পরের দেশেও নিজের রাজকীয় খায়েশ থেকে একচুলও পিছু হটছেন না। থাকবেন বিলাসী হোটেলে, খাবেন ‘রাজভোগ’; কিন্তু বিল দেবেন না! এজন্য কোন হোটেলে উঠছেন তিনি তা নিয়ে চলছে দর কষাকষি।

আলোচনায় রয়েছে দুটি হোটেল। সিঙ্গাপুর নদীর তীরের নব্য-ধ্রুপদী ধাঁচের হোটেল ফুলারটনের প্রেসিডেন্সিয়াল সুইটে এক রাত থাকার খরচ ৬,০০০ ডলার।

৭৪৭ কক্ষবিশিষ্ট এ পাঁচতারা হোটেল সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে আধুনিক ও বিশেষ নিরাপত্তা সুরক্ষা সুবিধাবেষ্টিত হোটেল। আরেকটি হোটেল সেন্ট রেজিসে সকালের খাবারসহ এক রাতের বিল ৬,৭০০ ডলার।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈঠকের মধ্যস্থতাকারী দেশ দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুর কিমের হোটেল বিলাসের খরচ বহন করতে পারে। ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন অ্যাবলিশ নিউক্লিয়ার ওয়েপন (আইক্যান) নোবেল শান্তি পুরস্কারের ১১ লাখ ডলার বৈঠকে ব্যয় করবে বলে আগ্রহ দেখিয়েছে।

সিঙ্গাপুরে ট্রাম্প তার ব্যক্তিগত এয়ারফোর্স ওয়ানে চড়ে যাবেন। বোয়িং ৭৪৭-২০০বি মডেলের বিমানটি টানা ৮ হাজার মাইল (১৩ হাজার কিলোমিটার) উড়তে সক্ষম। কিন্তু কিমের ব্যক্তিগত বিমানটি মান্ধাতার সোভিয়েত আমলের তৈরি, যেটি সিঙ্গাপুরে ঠিকমতো পৌঁছতে পারবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে বিশেষজ্ঞদের।

কিমকে যুক্তরাষ্ট্রে আমন্ত্রণ জানাতে পারেন ট্রাম্প : সিঙ্গাপুরের সম্মেলন যদি ঠিকঠাকমতো হয় তবে কিমকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানাতে পারেন ট্রাম্প। জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প তার এ ইচ্ছার কথা জানান।

তিনি বলেন, কোরিয়া যুদ্ধের অবসানে সম্ভাব্য একটি চুক্তিতে উপনীত হওয়া গেছে। যদিও এটা আমাদের আলোচনার সব থেকে সহজ অংশ। এরপর যে অংশগুলো নিয়ে আলোচনা হবে সেটা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ওই অঞ্চলে তাদের মিত্র দেশগুলো সম্পূর্ণরূপে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ চায়। তবে ট্রাম্প জানেন এজন্য ‘দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজন’।

Post a Comment

Previous Post Next Post