আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ



নিউজ ডেস্কঃ ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’- ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বজ্রকন্ঠের এ ঘোষণা থেকে যা বুঝার বুঝে গিয়েছিল বাঙালি। রেসকোর্স ময়দানে (পরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) সমবেত লাখো মুক্তিকামী মানুষের রক্তে দ্রোহের বান ডেকেছিল। ১৯ মিনিটের সেই উজ্জীবনী ও ধ্রুপদী ভাষণ শুনে সাড়ে সাত কোটি বাঙালি প্রস্তুত হয়েছিল জীবনবাজি করা মুক্তিসংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে। এরপর ৯ মাসের রক্ত আর প্রাণ ঝরানো যুদ্ধ শেষে এসেছিল পরম কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা।

আজ সেই ঐতিহাসিক মুক্তি সনদ ভাষণের দিন। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলাদা বাণী দিয়েছেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে আজ। বাংলাদেশ বেতার, টেলিভিশন ও বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে। ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে পত্রপত্রিকা।

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক ভাষণ। লেখক ও ইতিহাসবিদ জ্যাকব এফ ফিল্ডের বিশ্বসেরা ভাষণ নিয়ে লেখা ‘উই শ্যাল ফাইট অন দ্য বিচেস : দ্য স্পিচ দ্যাট ইনস্পায়ার্ড হিস্টোরি’ গ্রন্থে এটি স্থান পেয়েছে। অসংখ্য ভাষায় অনূদিত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর ওই ধ্রুপদী ভাষণ।

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের দিনটি এবার এসেছে ভিন্ন মহিমায়; ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্ব ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পর এই প্রথম দিবসটি উদযাপিত হতে চলেছে বাংলাদেশে।

ঐতিহাসিক এ দিন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বাণীতে বলেছেন, “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে বজ্রকন্ঠে যে কালজয়ী ভাষণ দিয়েছিলেন তার মধ্যে নিহিত ছিল বাঙালির মুক্তির ডাক।”

১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণকে বাঙালির মুক্তির সনদ অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “একটি ভাষণ কীভাবে গোটা জাতিকে জাগিয়ে তোলে, স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উৎসাহিত করে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ তার অনন্য উদাহরণ।”

দিবসটি উপলক্ষে ভোর সাড়ে ৬টায় ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধু ভবন ও দলীয় কার্যালয়ে জাতীয়- এবং দলীয় পতাকা উত্তোলন করবে আওয়ামী লীগ।

সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করা হবে। দুপুর ২টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের জনসভা হবে।

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ স্বাধীনতার ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যময় ঘটনা। এ ভাষণ বাঙালিকে উজ্জীবিত স্বাধীনতার স্বপ্নে। পরাধীনতার দীর্ঘ প্রহর শেষে স্বাধীনতার জন্য এমন একটি মাহেন্দ্রক্ষণের জন্যই যেন অধীর অপেক্ষায় ছিল পুরো জাতি। ৭ মার্চ তাই বাঙালির ইতিহাসে অবিস্মরণীয় একটি দিন হিসাবে চিহ্নিত হয়ে আছে।

মূলত বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণের আহ্বানেই মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করে বাঙালি। পরে ২৫ মার্চের কালরাতে পাকবাহিনীর নৃশংস গণহত্যার পর ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ।

নয় মাসের যুদ্ধ শেষে ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মদান, আড়াই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি এবং জাতির অসাধারণ ত্যাগের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়। অভ্যুদয় ঘটে বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের।

দিবসটি উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি সংবাদমাধ্যমে বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার এবং বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ হবে।

Post a Comment

Previous Post Next Post