মৌলভীবাজার-বড়লেখা আঞ্চলিক মহাসড়ক; সংস্কারকাজ ৭ মাসেও শুরু হয়নি

সংস্কারকাজ ৭ মাসেও শুরু হয়নি

বিশেষ প্রতিনিধিঃ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মৌলভীবাজার-বড়লেখা আঞ্চলিক মহাসড়কে পানি নেমে যাওয়ার ৭ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো সংস্কারকাজ শুরু হয়নি। সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল করছে ও দিগুণ ভাড়া এবং সময় গুণতে হচ্ছে এরুটের যাত্রীদের। বর্ষা মৌসুমের আগে সংস্কারকাজ না হলে সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়বে বলে আশংকা সৃষ্টি হয়েছে।

সড়ক ও জনপদ কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজার-বড়লেখা আঞ্চলিক মহাসড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৬০ কিলোমিটার। কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলার সঙ্গে মৌলভীবাজার জেলা সদরে যোগাযোগের একমাত্র সড়ক এটি। এ সড়ক দিয়ে কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলা এবং সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার লোকজন রাজধানী ঢাকায় চলাচল করেন। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পর্যটকেরা বড়লেখা উপজেলায় অবস্থিত মাধবকুন্ড জলপ্রপাতে বেড়াতে যান।  অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নামা পাহাড়ি ঢলে গত বছরের (২০১৭) এপ্রিল মাসের শুরুতে কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলায় বন্যা দেখা দেয়। আগস্ট মাস পর্যন্ত এ বন্যা স্থায়ী ছিল। এ সময় সড়কটির কুলাউড়া উপজেলার উত্তর কুলাউড়া, আবুতালিবপুর ও আছুরিঘাট, জুড়ীর ভূঁয়াই, ভোগতেরা, উপজেলা পরিষদের সামনের অংশ, জাঙ্গিরাই মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি চত্বর ও বাছিরপুর এবং বড়লেখার পশ্চিম হাতলিয়া ও কাঁঠালতলি এলাকায় পানি উঠে যায়। এতে এসব এলাকার সড়কে ভাঙনের সৃষ্টি হয়।

সরেজমিনে সম্প্রতি ঘুরে দেখা যায়, কুলাউড়া থেকে বড়লেখা পর্যন্ত  সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন স্থানে একটু পর পর দুই-তিন ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তে চাকা পড়ে পণ্যবোঝাই ট্রাক আটকা পড়েছে। প্রায়শই এমন ছোট বড় দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানান এ রুটে চলাচলকারীরা।

ট্রাক চালক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকা থেকে মৌলভীবাজার পর্যন্ত রাস্তা মোটামুটি ভালো। মৌলভীবাজারের টেংরা বাজার থেকে রাস্তাটার অবস্থা খুব খারাপ। গাড়ির এক্সেল ভেঙে যায়। তখন মাল অন্য গাড়িতে আনলোড করা ছাড়া উপায় নেই।’

বড়লেখাগামী অটোরিকশার চালক দুলাল আহমদ বলেন, ‘অখন তো কোনো মতে গাড়ি চালাইয়ার। সামনে ঝড়বৃষ্টি আরম্ভ হইব। তখন তো গাতায় পানি জমি পুকইর হই যাইব। ই সময় গাড়ি চালানি আর সম্ভব হইতো নায়।’

কুলাউড়া থেকে বড়লেখাগামী যাত্রী মোসাদ্দেক আলী, মকবুল হোসেন ও সিএনজি অটোরিকশা চালক আহাদ মিয়া বলেন, সড়কটাতে দ্রæত সংস্কারকাজ না হওয়া দিনদিন ভোগান্তি বেড়ে চলছে সাধারণ মানুষের। সড়কের বেহাল দশার কারণে জুড়ী থেকে কুলাউড়া ও বড়লেখা ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ গুণতে হচ্ছে। আধা ঘন্টার পথ যেতে এক ঘন্টা লাগে। গত বছর বন্যার  পানিতে এ সড়কটির বিভিন্ন অংশ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বড় বড় গর্ত দেখা দিয়েছে। পানি নেমে যাওয়ার ৭/৮ মাস পার হয়ে গেলেও এই অঞ্চলের মানুষের চলাচলের একমাত্র সড়কটি এখনো সংস্কারের কোন লক্ষণ নেই।  দ্রুত সংস্কার না করা হলে  আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পুরোপুরি চলাচল অনুপোযুগী হয়ে যাবে সড়কটি।

সড়ক ও জনপদ মৌলভীবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মিন্টু রঞ্জন দেবনাথ মোবাইলে বলেন, বন্যায় মৌলভীবাজার-বড়লেখা আঞ্চলিক মহাসড়কের আট কিলোমিটার জায়গা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেটা সংস্কারে ১৪ কোটি টাকার একটি প্রস্তাব প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সেখানে অনুমোদন হলে তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে যাবে। মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলে কাজ শুরু করা হবে। এ ছাড়া প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির স্বাভাবিক ক্ষতিগ্রস্ত ৯ দশমিক ৭ কিলোমিটার জায়গা সংস্কারের দরপত্রপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গেছে। এ কাজ চলতি মাসের শেষ অথবা মার্চ মাসের প্রথম দিকে শুরু হতে পারে।

Post a Comment

Previous Post Next Post