কুলাউড়ায় বিষাক্ত সাপের কামড়ে চা শ্রমিকের মৃত্যু

নিউজ ডেস্কঃ কুলাউড়া উপজেলার গাজীপুর চা বাগানে চা পাতা চয়নের সময় বিষাক্ত সাপের কামড়ে ময়না দাশ নামক এক মহিলা চা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সেই মহিলা চা শ্রমিককে জীবিত করতে প্রাণপণ চেষ্টা চালান এক ওঝা। মঙ্গলবার ০৮ আগস্ট রাত ৮টা থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত চলে ঝাড়ফুঁক।

এনিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঝাড়ফুঁক দিয়ে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করে তোলা হচ্ছে এমন খবর শুনে কৌতহলী শতশত মানুষজন চা শ্রমিক মহিলার বাসায় ভিড় করেন। শেষতক ওঝার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে প্রশাসনের সিদ্ধান্তে বুধবার ০৯ আগস্ট বিকালে লাশ সৎকার করা হয়।

সরেজমিনে জানা গেছে, গত ৬ আগস্ট রোববার বাগানের ৪ নং সেকশনে টিলালাইন এলাকায় চা পাতা চয়নের সময় চা শ্রমিক মৃত বসন্ত দাসের স্ত্রী ময়না দাসকে একটি বিষাক্ত সাপ দংশন করে। তার চিৎকারে আশপাশের শ্রমিকরা এগিয়ে এসে ময়না দাসকে উদ্ধার করে কুলাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। হাসপাতালে এ্যান্টিভেনাম ইনজেকশন না থাকায় তাকে সিলেটে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

কিন্তু ময়না দাসের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় অন্য শ্রমিকদের পরামর্শে তার স্বজনরা কুলাউড়া উপজেলার লক্ষীপুর খ্রিষ্টান মিশনারী হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (০৮ আগস্ট) দুপুরের দিকে তিনি মারা যান। ওইদিন বিকেলে তার লাশ বাগানে নিয়ে আসা হয়। এদিকে লাশ বাগানে নিয়ে আসলেও তিনি মারা যাননি দাবী করেন চা বাগানের কিছু শ্রমিক। তারা ডেকে আনেন ওঝা।

উপজেলার বরিরবাজার এলাকার ওঝা আব্দুল করিম খান মৃত ওই শ্রমিককে জীবিত করতে শুরু করেন প্রাণপণ চেষ্টা। মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে শুরু করে বুধবার সকাল পর্যন্ত তিনি চেষ্টা করেন। এরপর বুধবার সকালে তিনি আরেক ওঝাকে এনেও চা শ্রমিক ময়না দাশকে বাঁচাতে ব্যর্থ হন।

মৃত ময়না দাসের ছেলে প্রদীপ দাশ জানান, তার মা মারা যাননি বলে মনে করছেন বাগানের শ্রমিকরা। তাই তার জীবন ফেরাতে ওঝা ডেকে এনে চিকিৎসা করাচ্ছেন।

গাজীপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক কাজল মাহমুদ জানান, বাগানের তরফ থেকে যথাসাধ্য চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু শ্রমিকদের কথামতই চিকিৎসা করা হয়েছে। কিন্তু শেষতক খ্রিষ্টান মিশন হাসপাতালে মহিলার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য রাম বিলাস দোষাদ নানকা জানান, মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে ওঝা আব্দুল করিম খান ঝাড়ফুঁক চালিয়ে যাচ্ছেন। করিম খানের ঝাড়ফুঁকে কাজ না হওয়ায় আজ বুধবার আরও একজন ওঝা আনা হয়েছে। কিন্তু তাতে কোন সুফল হয়নি।

এব্যাপারে কুলাউড়া থানার ওসি মো: শামীম মুসা জানান, চা শ্রমিকরা সাপে কাটা মহিলা মারা গেছে সেটা মানতে নারাজ। তারা বাঁচানোর সব চেষ্টাই করেছে। ব্যর্থ হয়ে এখন প্রশাসনের অনুমতিক্রমে লাশ সৎকারের ব্যবস্থা করছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post