বিশেষ প্রতিনিধিঃ সারা বিশ্বের অন্যতম সেরা স্বনামধন্য ও চৌকুস পুলিস বাহিনী (এন.ওয়াই.পি.ডি) নিউইর্য়ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টে কৃতিত্বের সাথে কুলাউড়ার কৃতিসন্তান মাহবুবুর জুয়েল পুলিশ অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। গত ২৯শে জুন বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন থিয়টার রুমে এক অনারম্ভর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের সম্মান প্রদান করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে নিউইর্য়ক সিটি পুলিশ ডির্পাটম্যান্টের (এন.ওয়াই.পি.ডি) কমিশনার জেমস পি ও'নেইল উপস্থিত থেকে সবাইকে সম্মাননা প্রদান করেন।
পুলিশ অফিসার মাহবুবুর জুয়েল তার এই অর্জনকে তার ব্যাক্তিগত ও কম জীবনে দীর্ঘ পরিশ্রম, সততা ও একাগ্রতার ফসল হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি আরো বলেন নিউইর্য়ক সিটি পুলিশ ডির্পাটম্যান্ট (এন.ওয়াই.পি.ডিকে) বিশ্বর সেরা পুলিশ ডির্পাটম্যান্ট বলা হয় এবং তিনি একজন বাংঙ্গালী হিসেবে যোগদান করে নিজেকে অনেক গর্বিত মনে করেন। তার এই অজর্ন বাংঙ্গালী কমিউনিটি পাড়ায় এক সফলতার মুকুট বয়ে আনে। তিনি সমগ্র বাংলাদেশী কমিনিটির কাছে তার কৃতঙ্গকা প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশী কমিউনিটির উন্নয়নে সর্বাত্মক সহায়তা করবেন বলে জানান। কুলাউড়া উওর বাজারের বাসিন্দা মাহবুবুর জুয়েল এর পিতা মরহুম আতিকুর রহমান (সাবেক সড়ক ও জনপথ বিভাগের কমর্কতা) এবং মাতা রওশনআরা মনি, এবং একমাত্র বোন রাফিয়া রহমান জুঁই। অফিসার জুয়েল মরহুম আব্দুল মতিন সাহেবের নাতি (সাবেক রেলওয়ে কমর্কতা ও উওর বাজার জামে মসজিদের মোতওয়াল্লী) এবং সাবেক রেলওয়ে কর্মকর্তা মরহুম নিজাম টিটি ও বাংলাদেশ পুলিশের এ এস পি এহসান চৌধুরীর ভাগনা।
মাহবুবুর জুয়েল শিক্ষা জীবনে কুলাউড়া রাবেয়া আদর্শ সরকারী বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষাজীবন ও নবীন চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা জীবন সম্পন্ন করেন এবং লিডিং ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক শিক্ষা শেষ করেন। বাংলাদেশে চাকরী জীবনে ব্রাক ও সাউথইষ্ট ব্যাংকে দীর্ঘদিন কাজ করেন। পরবতীতে জীবন জীবিকার উদ্দেশ্য পৃথীবির ব্যাস্ততম ও ব্যায় বহুল নগরী নিউইয়র্কে আসেন। কর্ম ব্যাস্ত শহরে এক এক করে নিজের পা রাখেন এবং জীবনের প্রতি ক্ষেত্রে চ্যালেন্জের সাথে মোকাবেলা করে আজকের এই পর্যায়ে আসেন। নিউইর্য়ক সিটি পুলিশ ডির্পাটম্যান্টে (এন.উয়াই.পি.ডি) যোগদানের পূর্বে তিনি দীর্ঘদিন ইউনিসেফ এর রিসার্চ ও ট্রেইনিং ম্যানেজম্যান্টে বিভাগে কাজ করেন। এছাড়া এন.ওয়াই.পি.ডিতে পুলিশ অফিসার হিসাবে যোগদানের আগে একই ডিপার্টম্যান্টের ট্রাফিক এনর্ফোসমেন্ট ডির্পাটম্যান্টে সফলতার সহিত কাজ করেন। তিনি তার এই সাফল্যের জন্য তিনি পরিবার ও নিজের স্যাক্রিফাইস ও পরিশ্রমকে মুল শক্তি হিসাবে তুলে ধরেন। মাহবুবুর জুয়েল এখানে থেমে থাকতে চান না তিনি আরো এগিয়ে যেতে সফলতার সিঁড়ি বেয়ে একজন ল্যাফট্যান্যান্ট হতে চান এজন্য তিনি সকলের দোয়া চান। ব্যাক্তি জীবনে খুবই নম্র প্রকৃতির মানুষ এবং বিবাহীত। উনার সহধর্মিনী সানজিদা সুলতানা সম্পা ও চার বছরের পু্ত্র সন্তান মুরসালিন রহমান সাদাত বাবার সাফল্যে খুব খুশি। গত বছরের জুলাই মাসে কর্ত্যবরত অবস্থায় আরো ৯ অফিসারের সাথে এক সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হয়ে দীর্ঘদিন হাসপাতাল ছিলেন। দূর্ঘটনা থেকে সুস্থ হয়ে কঠোর পরিশ্রম ও আল্লাহতালার অশেষ কৃপায় তিনি সকল বাঁধা অতিক্রম করে এই সাফল্য অর্জন করেন।
কর্মক্ষেত্রে সফলতার সাথে ব্যাক্তি জীবনে সফল অফিসার জুয়েল স্থানীয় সকল ধরনের সামাজিক অনুষ্টানে সবসময় স্বকীয়ভাবে উপস্থিত থাকেন। অবসর সময়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা এবং সামাজিক ও পারিবারিক কাজে নিজকে ব্যাস্ত রাখেন।
গত ২৯শে জুন এর সম্মাননা অনুষ্টানে মাহবুবুর জুয়েলের সাথে আরো ১০ জন বাংলাদেশী সাফল্যের সাথে নিউইয়র্ক পুলিশ ডির্পাটম্যান্টে (এন.ওয়াই.পি.ডি) যোগদান করেন। তাদের এই সাফল্যে সমগ্র বাংলাদেশী কমিউনিটি গর্বিত এবং তাদের জীবনে আরো সফলতা কামনা করেন। তিনি আরো বলেন তাদের এই সাফল্যে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের নাম আরো আলোকিত করবে। উল্লেখ্য উনার শ্যালক সাফায়েত জামিল ও নিউইর্য়ক পুলিশ ডিপার্টম্যান্টের একজন চৌকস অফিসার।
