প্রিয় কুলাউড়া এগিয়ে যাক

প্রিয় কুলাউড়া এগিয়ে যাক
মো. তারেক হাসান: দেশ, বিদেশের জাতীয় ও স্থানীয় খবরাখবর জানার জন্য সংবাদপত্র ছিলো এক সময় প্রধান মাধ্যম। দৈনিক পত্রিকাগুলোতে প্রতিদিনের সংবাদ পরের দিনের কাগজে প্রকাশিত হয়, সাপ্তাহিক পত্রিকায় সাপ্তাহের নানান খবরাখবর নিয়ে প্রকাশিত হয় আর পাক্ষিক, মাসিক, ত্রৈমাসিক ও ষান্মাষিক পত্রিকাগুলো তাদের যথা নিয়মে প্রকাশিত হয়। এক সময় মানুষ প্রতিদিনের সংবাদপত্র পড়ার ও দেখার জন্য উৎসাহ নিয়ে অপেক্ষা করত। বিশেষ করে তখন যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে মফস্বল এলাকায় সংবাদপত্র প্রকাশনার একদিন পর পাঠকের হাতে আসতো। তারপরও পাঠকের চাহিদা এতটুকু ঘাটতি ছিলোনা।
আজ যুগ পাল্টে গেছে এখন আর সংবাদপত্রের জন্য অপেক্ষা করতে হয়না। যখন ঘটনা তখনই অনলাইন নিউজ সাইটগুলোর মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সংবাদ জানা যায়। ডিজিটালের আবর্তে মানুষকে আগের মত আর সংবাদপত্রে তেমন একটা ছোখ বুলাতে দেখা যায়না। বেশিরভাগ মানুষ সময় স্বল্পতার কারণে ব্যাস্ত জীবনে অনলাইনেই স্মার্ট ফোনে সংবাদ পড়তে দেখা যায়। সংবাদপত্রগুলো এসব কথা চিন্তা করে আজ অনেকেই নিজস্ব অনলাইন চালু করেছেন।
আমাদের কুলাউড়া উপজেলায় স্থানীয় পর্যায় থেকে প্রিয় কুলাউড়া নামের এই অনলাইন নিউজ পোর্টালটি এত দ্রুত পাঠকের কাছে প্রিয় ও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে তা আসলে আমার কাছে কল্পনাতীত ছিলো। কুলাউড়ার মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী এই অনলাইন নিউজ পোর্টালটি আজ ৩য় বর্ষে পদার্পণ করতে যাচ্ছে। বিষয়টা আমার কাছে অত্যন্ত আনন্দের। কারণ অনেক অনলাইন নিউজ পোর্টাল দেখেছি জন্মের বছর পার হওয়ার আগেই হাওয়ায় মিলিয়ে যেতে।
যা হোক, অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রিয় কুলাউড়া আজ এগিয়ে চলেছে সুনামের সাথে মানুষের ভালোবাসা ও আস্থার মাধ্যমে তার আপন গতিতে। যার রয়েছে এক ঝাঁক পরিশ্রমী, তরুণ ও মেধাবী সংবাদকর্মী, যারা প্রতিনিয়ত সংবাদের পিছনের সংবাদ খুঁজে বের করে থাকেন। সবার আগে তাজা ও সঠিক সংবাদ পরিবেশন করাই যাদের মূল লক্ষ্য। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সমাজের ভালো, মন্দ, অসংগতি, সম্ভাবনা তুলে ধরে থাকে এই সাইটটি। মাঝেমধ্যে দেখেছি ভিডিওসহ নিউজ আপলোড হয় সাইটটিতে। প্রায় প্রতি বছর অনলাইন পত্রিকাটির নিজ উদ্যোগে শীতার্তদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ, ঈদ সামগ্রী বিতরণ, রমজান মাসে ইফতার সামগ্রী ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ ছাড়াও আর্তমানবতার কল্যাণে কাজ করে থাকে, যা আসলেই প্রশংসার দাবিদার।
প্রিয় কুলাউড়ার সম্পাদক একেএম জাবের ভাই আমাকে একদিন বললেন তারেক তুমি তো সংবাদ মাধ্যমে অনেকদিন থেকে আছ প্রিয় কুলাউড়ার সাথে সম্পৃক্ত হলে আমাদের উপকার হবে, আমরা খুশি হব, আমি প্রতিউত্তরে বলেছিলাম আমি থাকবো প্রিয় কুলাউড়ার সঙ্গী হয়ে তবে কোন পদ পদবি বা দায়িত্বভার নিতে পারবো না কারণ আমি অন্যত্র কর্মরত রয়েছি। সেই থেকে প্রিয় কুলাউড়ার সঙ্গে আছি। আমি প্রিয় কুলাউড়ার উত্তরাত্তর সফলতা কামনা করছি।
পরিশেষে যারা কপি আর পেস্ট (অন্যের লেখা কপি) এর মাধ্যমে এমন সব হ য ব র ল সংবাদ প্রকাশ করে থাকেন, অপসাংবাদিকতার মাধ্যমে নিজের নামকে জাহির করে সংবাদ অঙ্গনকে কলুষিত করছেন তাদেরকে ধিক্কার জানাই। ধিক্কার জানাই সেই সকল হলুদ সাংবাদিকদেরকে যারা এই পবিত্র পেশাকে কলঙ্কিত করছেন। তাই বলি সাধু সাবধান।
 
= মো. তারেক হাসান: সাংবাদিক।

Post a Comment

Previous Post Next Post