ফরহাদ আহমেদঃ মহাজ্ঞানী এরিস্টটল বলেন- Hope is a waking dream. স্বপ্ন ছাড়া আমাদের জীবন গতিশীল হয় না এবং স্বপ্নের বাস্তবায়নই জীবনকে পরিপূর্ণ করে। স¦প্ন দেখতে হয় এবং দেখাতে হয়। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এপিজে আব্দুল কালাম এর উদ্বৃতি হচ্ছে- ‘ঘুমের মধ্যে আমরা যে স্বপ্ন দেখি, সেটা স্বপ্ন নয়। বরং যা সঠিক বাস্তবায়নের জন্য আমাদের ঘুম আসেনা সেটি হল স্বপ্ন।’ এ প্রসঙ্গে তাঁর কয়েকটি ইল্যাবরেশন (সম্প্রসারণ) আমার ব্যাপক উদ্দীপ্ত করে আর স্বপ্ন দেখতে শেখায়। সেই অনুকরণীয় এব্রিভিয়েশনগুলি হচ্ছে: No (Next Opportunity), END (Effort Never Die), FAIL (First Attempt In
Learning), PAINS (Positive Attitude In Negative Situations), FEAR (Forget
Everything And Run) ইত্যাদি। এহেন নেতিবাচক শব্দগুলোর (না, শেষ, ব্যর্থ, ব্যথা, ভয়) ইতিবাচক রূপান্তর একজন মানুষকে অবশ্যই আশাবাদী করে তোলে। স্বকীয় চিন্তা ও চেতনার ওপর ভিত্তি করে এমনি স্বপ্নের আধিক্যে William Henley e‡jb I am the master of my
fate, I am the captain of my soul.
আলোকিত ও সুশীল সমাজ বিনির্মাণের একমাত্র হাতিয়ার হলো শিক্ষা। মানুষের জন্যই শিক্ষা, শিক্ষার জন্যই মানুষ। প্রকৃত মানুষের আসল পরিচয় হচ্ছে জ্ঞান অর্জন এবং কর্ম প্রচেষ্টায় মানবীয় গুণে উদ্দীপ্ত হওয়া, প্রকৃত জ্ঞান একজন শিক্ষার্থীকে আত্মত্যাগ, কঠোর সাধনা, মানবতা, মানবপ্রেম, আত্মমুক্তির মহাজাগরণের বিস্তৃতিতে প্রসারণ ঘটায় এবং নিয়ত জাগ্রত রাখে। অর্জিত জ্ঞানালোকে শিক্ষার্থীকে অনুগামীর ভূমিকায় কখনো কখনো স্বাপ্নিক বিচরণে মেডিটেশনও সম্পন্ন করতে হয়।
উপমহাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক বুদ্ধদের গুহের মতে-‘জীবন হচ্ছে একটি রিলে রেস যেখানে সর্বোচ্চ ৪টি প্রজন্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হয় অর্থাৎ দাদা হতে বাবা, বাবা হতে পুত্র নাতি অবধি জীবন নামক রিলে রেসের কাঠিটা অনেকটা দ্রুততার সাথে স্থানান্তর হয় আর আমরা জীবনদৌড় প্রতিযোগিরা পূববর্তী প্রজন্ম হতে রেসের কাঠি সংগ্রহ করে নির্ধারিত দূরত্ব নিখুঁতভাবে অতিক্রম করে পরবর্তী প্রজন্মের হাতে হস্তান্তরে লিপ্ত থাকি।’ মোহনীয় এ ভবলীলায় এ ভাবেই চলছে আনন্দ বেদনা মিশ্রিত জন্ম-মৃত্যুর রিলে রেস। তবুও স্বাপ্নিক জগতে পোঁছার লক্ষ্য অর্জনে একটি সুস্পষ্ট ও সুউচ্চ সাধনা মানুষের গতিকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। এ জন্যই বলা হয়ে থাকে - The future belongs to those who believes in the beauty of their dreems.
আলোকিত ও সুশীল সমাজ বিনির্মাণের একমাত্র হাতিয়ার হলো শিক্ষা। মানুষের জন্যই শিক্ষা, শিক্ষার জন্যই মানুষ। প্রকৃত মানুষের আসল পরিচয় হচ্ছে জ্ঞান অর্জন এবং কর্ম প্রচেষ্টায় মানবীয় গুণে উদ্দীপ্ত হওয়া, প্রকৃত জ্ঞান একজন শিক্ষার্থীকে আত্মত্যাগ, কঠোর সাধনা, মানবতা, মানবপ্রেম, আত্মমুক্তির মহাজাগরণের বিস্তৃতিতে প্রসারণ ঘটায় এবং নিয়ত জাগ্রত রাখে। অর্জিত জ্ঞানালোকে শিক্ষার্থীকে অনুগামীর ভূমিকায় কখনো কখনো স্বাপ্নিক বিচরণে মেডিটেশনও সম্পন্ন করতে হয়।
উপমহাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক বুদ্ধদের গুহের মতে-‘জীবন হচ্ছে একটি রিলে রেস যেখানে সর্বোচ্চ ৪টি প্রজন্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হয় অর্থাৎ দাদা হতে বাবা, বাবা হতে পুত্র নাতি অবধি জীবন নামক রিলে রেসের কাঠিটা অনেকটা দ্রুততার সাথে স্থানান্তর হয় আর আমরা জীবনদৌড় প্রতিযোগিরা পূববর্তী প্রজন্ম হতে রেসের কাঠি সংগ্রহ করে নির্ধারিত দূরত্ব নিখুঁতভাবে অতিক্রম করে পরবর্তী প্রজন্মের হাতে হস্তান্তরে লিপ্ত থাকি।’ মোহনীয় এ ভবলীলায় এ ভাবেই চলছে আনন্দ বেদনা মিশ্রিত জন্ম-মৃত্যুর রিলে রেস। তবুও স্বাপ্নিক জগতে পোঁছার লক্ষ্য অর্জনে একটি সুস্পষ্ট ও সুউচ্চ সাধনা মানুষের গতিকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। এ জন্যই বলা হয়ে থাকে - The future belongs to those who believes in the beauty of their dreems.
কানাডীয় নিউরোসার্জন ডা. ওয়াইল্ডার পেনফিল্ড তাঁর গ্রন্থ The Mystery of the Mind গ্রন্থে উল্লেখ করেন- মানবমস্তিষ্ক সর্বাধুনিক কম্পিউটারের চেয়েও কমপক্ষে ১০ লক্ষগুণ বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন। তাই দামের হিসাব করলে ১টি কম্পিউটারের দাম যদি ৫০ হাজার টাকা হয় তবে আমাদের ১ জনের ব্রেনের দাম দাঁড়াচ্ছে ৫ হাজার কোটি টাকা। অতএব আমরা সবসময় ৫ হাজার কোটি টাকার ১টি জৈব কম্পিউটার নামক অমূল্য সম্পদ নিজ ঘাড়ের উপর বয়ে বেড়াচ্ছি। এরপরও যদি আমরা মেধাহীন ও দরিদ্র থাকি।
তাহলে আমাদের স্বপ্ন থেকে ঝরে পড়া কিংবা দারিদ্রহীনতায় লিপ্ত হওয়ার কারণ অভাব নয় বরং স্বভাব, কেননা আমরা ব্রেনের মাত্র ৪ থেকে ৬ শতাংশ ক্ষমতা ব্যবহার করছি যেখানে প্রতিভাবান সফল ব্যক্তিরা এই ব্রেনের ১০-১৫ শতাংশ ব্যবহার করছেন। যদি কেউ ব্রেনের অসীম সক্ষমতাকে যথাযথ ব্যবহার করতে পারেন তাহলে নিঃসন্দেহে তিনি সফল ও খ্যাতিমান ব্যক্তিত্বে পর্যবসিত হবেন। সবাই জ¦ালাতে পারে না, কেউ কেউ পারে। সফল ব্যক্তিরা অনন্ত ঘুমের আগে ভিন্নতা আর অনন্যতার স্বপ্নদীপ জে¦লেই আলোকিত হয়েছেন।
সম্প্রতি প্রথম আলো পত্রিকায় জাতীয় গণিত অলিম্পিয়াডের সাধারণ সম্পাদক হৃদয়স্পষ্টা একটি আর্টিকেলে বলেছেন- ‘পরীক্ষার্থীদের দয়া করে আবার শিক্ষার্থী করুন।’ হ্যাঁ, বিশ্বগ্রামের নাগরিক তৈরিতে তরুণরা কেবল পুঁথিগত বিদ্যা আর পাবলিক পরীক্ষার যাতাকলে পিষ্ট না হয়ে যাতে মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হতে পারে, সেজন্য সুশীল সমাজকেই নিরন্তর পদক্ষেপ এবং প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। যারা স্বপ্ন বাস্তবায়নে যোগ্যতম, তারাই বাঁচিবার অধিকারী এবং অযোগ্যের উচ্ছেদ অবশ্যাম্ভাবী, স্বপ্ন তাড়িত জীবনবৃক্ষের শাখায় যে ফুল ফোঁটে, ভোগ করতে পারবেনা, মানুষকে জয় করে জিততে হয় তার ভাগ্যকে। বাঁচে সেই যে স্বপ্ন বাস্তবায়নে লড়াই করে প্রতিকূলতার সাথে।
-- ফরহাদ আহমেদ: পিএইচডি রিসার্চ ফেলো, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও উপাধ্যক্ষ, তৈয়বুন্নেছা খানম ডিগ্রি কলেজ, জুড়ি।
