অনলাইন ডেস্কঃ ভারতে আচমকা সিদ্ধান্তে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট অচল ঘোষণা করায় দূর্ভোগে পড়েছেন বিভিন্ন কাজে সে দেশে যাওয়া বাংলাদেশিরা। অনেকে প্রতারণার শিকারও হচ্ছেন।
সঙ্গে থাকা বড় নোট ভাঙ্গাতে না পেরে কাজ শেষ না করেই ফিরে আসতে হচ্ছে অনেককে। এদিকে, ভারতীয় সরকারের এমন ঘোষণায় পর থেকে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে যাত্রী যাওয়া-আসা অর্ধেকে নেমে এসেছে।
মঙ্গলবার সকালে বেনাপোল কাষ্টমস এবং ইমিগ্রেশন অফিসে গিয়ে ভারত থেকে ফিরেআসা বাংলাদেশি যাত্রীদের কাছ থেকে শোনা যায় তাদের দূর্ভোগের কথা।
ভারত থেকে আসা ঢকার বাসিন্দা আবুল কাশেম বলেন, ভারতে অনেকে বাংলাদেশিদের সাথে প্রতারনা করছে। তারা আমাদের কাছ থেকে ৫০০ ও ১০০০ হাজার রুপির নোট নিয়ে ভারতীয় অর্ধেক টাকা দিয়েছে। বাধ্য হয়ে আমাদের তা নিতে হচ্ছে। কারন ব্যাংকে টাকা জমা দিতে পারব না।
তিনি বলেন, ভারতে বাংলাদশিদের কোনো ব্যাংক হিসাব নেই। ফলে সেখানে অবস্থানরত প্রত্যেক বাংলাদেশিকেই প্রতারিত হতে হচ্ছে।
সজিব হোসেন নামে ঢাকার আরেক এক বাসিন্দা বলেন অত্যান্ত ক্ষোভের সাথে জানান, আমি ট্রেনে করে ছোট বাচ্চাসহ ভারতের দিল্লি যাওয়ার পথে ১ হাজার ও ৫ শত রুপী অচল ঘোষনার খবর শুনি। এতে বিপদে পড়তে হয় আমাকে। ট্রেনের ভিতর কেউ ঐ দেশের বড় টাকার নোট খুচরা করতে চায় না। এতে করে আমি খাবার পানিও কিনতে পারি নি। আমার কাছে ডলার এবং রুপী থাকা সত্বেও বাধ্য হয়ে খাবারের জন্য অন্যার কাছে হাত পাততে হয়েছে।
বরিশালের সীমা বাড়ৈ বলেন, আমি আমার বোনের বাড়ি থেকে ভারত মোম্বাই শহর থেকে ফেরার সময় জানতে পারি দুটি নোট অচল ঘোষনা করেছে। ট্রেনে উঠে বিপদে পড়ে যাই। পথে ট্রেনের ভিতর কেও টাকা ভাংগিয়ে দেয় না। টাকার অভাবে হওড়া ষ্টেশনে নেমে বিপদে পড়তে হয়।
খুলনার মিজানুর রহমান বলেন, পরিবার নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভারত গিয়েছিলাম। যদিও হাসপাতলে ঔষধের দোকানে বড় নোট নিয়েছে, কিন্তু খাবারের দোকানে টাকা না নেওয়ায় বাধ্য হয়ে ভারতীয় রুপি কম টাকায় বিক্রি করে ছোট নোট নিয়েছি।
এ ব্যাপারে বেনাপোল ইমিগ্রেশনের দায়িত্বরত ওসি ইকবাল আহম্মেদ জানান, ভারতে রুপির অচল ঘোষনায় যাত্রী অনেক কমে গেছে। এ পথে প্রতিদিন প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার লোক যাতায়াত করত। বর্তমানে তা অর্ধেকে নেমে এসেছে।
কাষ্টমস সুপার শফিউল্লাহ জানান, ভারতের রুপীর অচল ঘোষানায় আমাদের রাজস্ব আদায়ে ধ্ব্স নেমেছে। যেখানে প্রতিদিন তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার লোকের রাজস্ব আদায় হত, সেখানে এখন অর্ধেকেরও কম রাজস্ব আদায় হচ্ছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসা, ব্যবসা, বেড়ানোসহ বিভিন্ন কারণে প্রতিদিন গড়ে তিন হাজার বাংলাদেশি নাগরিক ভারতে প্রবেশ করেন। এ হিসাবে প্রতিবছর ভারত সফর করেন প্রায় ১১ লাখ বাংলাদেশি ।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গত ৮ নভেম্বর আকস্মিক এক টেলিভিশন ভাষণে রুপির বড় দুটি নোট বাতিল করে নতুন নতুন চালুর ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, জাল নোট, কালো টাকা ও দুর্নীতি ঠেকাতে তার এই উদ্যোগ।
