অনলাইন ডেস্কঃ মাথা জোড়া লাগানো দুটি মেয়ে শিশুকে শুক্রবার সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিশু সার্জারি বিভাগে তাদের চিকিৎসা চলছে।
শিশু সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. রুহুল আমিন বলেন, তাদের আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) রাখা হয়েছে। দুটি শিশুর মধ্যে একজনের সামান্য জন্ডিস হয়েছে। সাধারণ যেসব পরীক্ষা, সেগুলো করা হয়েছে। এখন তাদের বেশি নাড়াচাড়া করা ঠিক হবে না। তাই মাথার পরীক্ষাগুলো আরো কয়েকদিন পরে করার পরিকল্পনা আছে।
শিশু দুটির বাবা রফিকুল ইসলাম এবং মা তাসলিমা। বাড়ি পাবনার চাটমোহর উপজেলার আটলঙ্কা গ্রামে। এই দম্পতির ৬ বছর বয়সি আরেকটি মেয়ে শিশু আছে। রফিকুল ইসলাম উপজেলার অমৃতকুন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে রফিকুল ইসলাম বলেন, গত ১৫ জুলাই তাসলিমাকে পাবনার পিডিসি ক্লিনিকে চিকিৎসক দেখাতে নেওয়া হয়। ওই দিনই তারা আলটাসনোগ্রাফি করেন।
চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির মাথা বড় রয়েছে। মাথায় পানি জমে থাকতে পারে। জন্মের পর সে মানসিকভাবে এবনরমাল হতে পারে। আগেভাগেই সিজার করা ভালো। তাই ১৬ জুলাই চিকিৎসকরা সিজার করে। সিজারের পর দেখা যায় শিশুটির মাথা বড় নয়, মাথা জোড়া লাগানো দুটি শিশু। মাথা ছাড়া শিশু দুটির সবকিছু আলাদা। চিৎ হয়ে ঘাড় কাত করে দুজনে মাথা মিশিয়ে শোয়ার মতো, দুজনের মাথার তালু জোড়া লাগানো।
তিনি আরো বলেন, শুনেছি বিএসএমএমইউতে এ ধরনের জোড়া লাগানো শিশুর অপারেশন করা হয়। তাই শিশু দুটিকে নিয়ে শুক্রবার সকালে তাদের খালা বিএসএমএমইউতে ভর্তি করিয়েছেন। আমি টায়ফয়েডে আক্রান্ত হয়ে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছি। তাই মেয়েদের সাথে আসতে পারিনি। আমার স্বজনরা শিশু দুটির সাথে আছে। মেয়ে দুটিকে নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় পড়েছি। তাদের চিকিৎসা করানোর জন্য এতো টাকা কোথায় পাব, কিছুই বুঝতে পারছি না। শিশু দুটির চিকিৎসায় সরকারি-বেসরকারিভাবে যদি কোনো সহযোগিতা পেতাম তাহলে দুশ্চিন্তা কিছুটা কমত। তিনি মেয়েদের সুস্থ্যতার জন্য দেশবাসীর সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
জানা যায়, এ দেশে জোড়া শিশু অস্ত্রোপচারে প্রথম সফলতা আসে ২০০৮ সালে। চলতি বছরের ৭ মার্চ বাগেরহাটে জন্ম নেওয়া জোড়া শিশুর অস্ত্রোপচার গত ২০ জুন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে করা হয়। পূর্ণাঙ্গ শিশু থেকে অপূর্ণাঙ্গ শিশুটিকে পৃথক করা হয়। পূর্ণাঙ্গ শিশু মোহাম্মদ আলী সুস্থ হওয়ার পর গত ২০ জুলাই তাকে তার মায়ের কোলে তুলে দেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান।
এর আগে গত ১৭ জুন যশোরে জন্ম নেওয়া বুক জোড়া লাগানো মেয়ে শিশু দুটি চার দিনের মাথায় মারা যায়। জন্মের তিন দিনের মাথায় তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আনা হয়েছিল। সুত্রঃ রাইজিংবিডি
