এস আলম সুমন: ৪র্থ ধাপে আগামীকাল ৭ মে শনিবার কুলাউড়া উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এসব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন দলীয় প্রতীকের প্রার্থীরা। গত ২৩ এপ্রিল ৩য় ধাপে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ৩টিতে বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কারণে বিএনপি ও আ’লীগের প্রার্থীরা নির্বাচিত হতে পারেননি। দুই দলের নেতাকর্মীদের একটি অংশ বিদ্রোহী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করায় অনেকটাই কোণঠাসা দলীয় প্রার্থীরা। দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও কয়েকটি ইউনিয়নে তৃণমূলের মতামত উপেক্ষিত থাকায় এমন পরিস্থিতিতে পড়েছেন দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীরা। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকেই বন্ধ হয়েছে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই শুরু হবে ভোট যুদ্ধ। শেষ মুহূর্তে এসে প্রার্থী ও ভোটাররা হিসেব নিকেশ কষতে শুরু করছেন।
সরেজমিনে উপজেলার কর্মধা, পৃথিমপাশা, টিলাগাঁও, হাজীপুর, শরীফপুর ও ভাটেরা ইউনিয়ন ঘুরে জানা যায়, ৬টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৩৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে আ’লীগের ৬, বিএনপির ৬, জাতীয় পার্টির ৫ এবং বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ২১ জন।
কর্মধা ইউপি: এখানে চেয়ারম্যান পদে ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুস সহিদ বাবুল বিএনপি ঘরোনার হলেও দলীয় মনোনয়ন না নিয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তিনি টানা দুইবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান থাকায় তাঁর নিজস্ব ভোট ব্যাংক রয়েছে। অপরদিকে গত ইউপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী এম এ রহমান আতিক এবার আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন নিয়ে জয়ী হতে বিশেষ করে করে চা শ্রমিকদের সমর্থন আদায়ে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়রা জানান, ছোট বড় ১৫-১৬টি পানপুঞ্জি ও চা বাগান অধ্যুষিত এই ইউনিয়নে আদিবাসী এবং চা শ্রমিকদের ভোট জয় পরাজয়ে বড় ভূমিকা রাখবে। তাদের সমর্থন যে প্রার্থীর দিকে যাবে তিনি অনেকটাই এগিয়ে থাকবেন। মূল লড়াইটা হবে এই দুইজনের মধ্যে এমনটাই মনে করছেন এলাকার ভোটাররা।
পৃথিমপাশা ইউপি: ঐতিহ্যবাহী এই ইউনিয়নে ৮ জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এখানে পৃথিমপাশা নবাব পরিবার থেকে দুই সহোদর স্বতন্ত্র প্রার্থী নবাব আলী বাকর খান হাসনাইন ও বিএনপি প্রার্থী নবাব আলী তকী খান প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ায় সেই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল লতিফ। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী আব্দুল মান্নান সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে গেলেও তেমন সুবিধা করতে পারছেন না বলে জানালেন স্থানীয় ভোটাররা। আলী তকী খান ও আলী বাকর খান নবাব পরিবারের বলিষ্ঠ অবস্থান এই দুই ভাই কতটুকু টিকিয়ে রাখতে পারেন সেটিই এখানে দেখার বিষয়। কমরেড আব্দুল লতিফ, নবাব আলী বাকর খান হাসনাইন ও নবাব আলী তকী খানের মধ্যে এ ইউনিয়নে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে এমনটাই অভিমত স্থানীয়দের।
টিলাগাঁও ইউপি: এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এখানে আ’লীগ ও বিএনপির দলীয় প্রার্থীর জয়ের পথে বিদ্রোহী প্রার্থীরা সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তৃণমূল নেতাকর্মী ও দলীয় একটি অংশের সমর্থন থাকায় বিদ্রোহী প্রার্থীরা বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছেন। এখানে আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মালিক, আ’লীগের দলীয় প্রার্থী মো. আব্দুল মালিক ও বিএনপির বিদ্রোহী সৈয়দ গোলাম রহমান আজমল রয়েছেন মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। চা বাগান অধ্যুষিত এই ইউনিয়নে চা শ্রমিক নেতা জ্ঞান শংকর গৌড় প্রার্থী হওয়ায় চা শ্রমিকদের সমর্থন আদায়ে অনেকটাই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন অন্য প্রার্থীরা। তবে শেষ পর্যন্ত যে প্রার্থী চা শ্রমিকদের সমর্থন আদায় করতে পারবেন তিনিই অনেকটা এগিয়ে থাকবেন বলে জানালেন স্থানীয় ভোটাররা।
হাজীপুর ইউপি: এখানে ৬ জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন। এদের মধ্যে বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপি’র প্রার্থী মাহমুদ আলী, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাংবাদিক আব্দুল বাছিত বাচ্চু ও আ’লীগের প্রার্থী আব্দুল ওদুদ বক্স নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। গত দুটি ইউপি নির্বাচনে ২য় অবস্থানে থাকা আব্দুল বাছিত বাচ্চু এবারের নির্বাচনে বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছেন। স্থানীয় ভোটাররা জানান, এবারের নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থী মাহমুদ আলী, আব্দুল বাছিত বাচ্চু ও আলীগের প্রার্থী আব্দুল ওদুদ’র মধ্যে প্রতিদন্দ্বিতা হলেও মাহমুদ আলী এবং আব্দুল বাছিত বাচ্চু’র মধ্যে মূল লড়াইটা হবার সম্ভাবনা রয়েছে।
শরীফপুর ইউপি: উপজেলার সীমান্তবর্তী এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এখানে আওয়ামী লীগের দুই বিদ্রোহী প্রার্থী খলিলুর রহমান খলিল ও চা শ্রমিক নেতা অনিল বারাইক প্রার্থী হওয়ায় অনেকটাই বিপাকে রয়েছেন আ’লীগের মূল প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন চিনু। সেক্ষেত্রে বিএনপির জুনাব আলী অনেকটা ভালো অবস্থানে রয়েছেন। এলাকার স্থানীয়রা জানান, এখানে আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী খলিলুর রহমান খলিল ও বিএনপির জুনাব আলীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। তবে বর্তমান চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন চিনু নিজের অবস্থান ধরে রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ভাটেরা ইউপি: সীমান্তবর্তী এ ইউনিয়নে ৭ জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন। বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলেও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কারণে কিছুটা বিপাকে রয়েছেন আ’লীগ প্রার্থী সৈয়দ একেএম নজরুল ইসলাম ও বিএনপি’র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান সিরাজ মিয়া। আ’লীগ প্রার্থী সৈয়দ একেএম নজরুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ছয়ফুল আলম সিদ্দিকী’র মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে এমনটাই অভিমত স্থানীয়দের। বর্তমান চেয়ারম্যান হলেও সিরাজ মিয়া অবস্থান অনেকটাই নড়বড়ে। শেষতক নিজের অবস্থান কতটুকু টিকিয়ে রাখতে পারেন নির্বাচনেই সেটা স্পষ্ট হবে।#
এস আলম সুমন
