মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
নিউজ ডেস্কঃ চার দশক আগে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এরমধ্যে দিয়ে ইতিহাসের দায় ঘুচলো বাংলাদেশের, শেষ হলো নিজামীপর্বের। শীর্ষ মানবতাবিরোধী অপরাধী গোলাম আযমের উত্তরসূরী হিসেবে ২০০০ সালে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে আসা মতিউর রহমান নিজামীর জন্ম ১৯৪৩ সালের ৩১ মার্চ, পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার মনমথপুর গ্রামে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে সেই নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির। নিজামী হলেন পঞ্চম মানবতাবিরোধী অপরাধী যার সর্বোচ্চ সাজা কার্যকর হলো। একই সঙ্গে তিনি প্রথম কোনো দলীয় প্রধান ও দ্বিতীয় সাবেক মন্ত্রী একাত্তরে সংঘটিত অপরাধের জন্য ফাঁসিতে ঝুলে যার দণ্ড কার্যকর হলো। আলবদর নেতা থেকে পরিণত বয়সে যুদ্ধাপরাধীর দায়ে অভিযুক্ত সংগঠন জামায়াতে ইসলামীর সর্বোচ্চ নেতা বনে যাওয়া নিজামী রাষ্ট্র গঠনের সরাসরি বিরোধিতা করেও গাড়িতে উড়িয়েছেন মন্ত্রীর পতাকা। মুক্তিযুদ্ধের সময় বুদ্ধিজীবী নিধন ও গণহত্যায় নেতৃত্ব দেয়া আলবদর প্রধান মতিউর রহমান নিজামীকে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি মন্ত্রী পদে বসায়। আবার মন্ত্রী হয়েও জড়িয়েছেন নানা অপরাধের সঙ্গে। ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায়ও পেয়েছেন সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরুর পর চারদলীয় জোট সরকারের আমলের মন্ত্রী নিজামীর বিরুদ্ধে ১৬টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। ট্রাইব্যুনালে এর মধ্যে আটটি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। এরমধ্যে চার অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং চারটিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। প্রমাণিত অভিযোগগুলোর মধ্যে তিনটিতে মৃত্যুদণ্ড ও দুটিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং তিনটি অভিযোগ থেকে খালাস দিয়ে রায় ঘোষণা করেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। পরে এ রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জানান নিজামী। ৫ মে ওই আবেদন খারিজ করে দেন সর্বোচ্চ আদালত; যার মধ্য দিয়ে তার দণ্ড কার্যকরে আইনি বাধা কাটে। সোমবার বিকেলে রিভিউ খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারের কার্যালয় থেকে ট্রাইব্যুনালে পৌঁছায়। সেখানে আনুষ্ঠানিকতা শেষে রায় পৌঁছে যায় কারাগারে। নিয়ম অনুযায়ী বদরপ্রধান নিজামীর সামনে এরপর খোলা ছিল কেবল নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনার কথা জানিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়া। তবে প্রাণভিক্ষা না চাওয়ায় নিজামীর দণ্ড কার্যকর হয় মঙ্গলবার দিবাগত রাতে। নিজামীর ফাঁসি ঘিরে রাতভর রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান নেবেন গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা।

Post a Comment

Previous Post Next Post