কুলাউড়ায় চালাবিহীন খোলা আকাশের নিচেই চলছে পাঠদান

কুলাউড়ায় চালাবিহীন খোলা আকাশের নিচেই চলছে পাঠদান
স্টাফ রিপোর্টারঃ কুলাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী শরীফপুর ইউনিয়নে মনোহরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের গত ২২ এপ্রিল শুক্রবার রাতের ঘুর্ণিঝড়ে একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি কক্ষের উপরের চালাসহ বারান্দার চালা উড়িয়ে নেয়। ঘটনার ২০ দিন পরও বিদ্যালয় কক্ষের মেরামত না করায় খোলা আকাশের নিচে চলছে পাঠদান।
সরেজমিন দেখা যায়, একেবারে সীমান্তবর্তী এলাকায় মনোহরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে চালাবিহীন কক্ষে পাঠদান করছেন একজন শিক্ষক। প্রখর রোদেও বেঞ্চে বসে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করছেন। বিদ্যালয়টি না হওয়ায় বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত থাকলেও পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষকরা খুবই আন্তরিকতার সাথে পাঠদান করে চলেছেন বলে এলাকাবাসী জানান। ২২ এপ্রিলের ঘুর্ণিঝড়ে বিদ্যালয় ভবনের ৬ষ্ঠ শ্রেণির উপরের ও বারান্দার চালা লন্ডভন্ড করে ঝড়ো বাতাসে উড়িয়ে নিয়ে গেছে। বিষয়টি প্রধান শিক্ষক তাৎক্ষনিক কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অবহিত করলেও ২০দিন অতিবাহিত হলেও এখন নতুন চালা স্থাপনে কোন প্রকার সরকারী অনুদান পায়নি বিদ্যায়টি। ফলে চালাবিহিন খোলা আকাশের নিচেই কক্ষে পাঠদান চলছে।
কুলাউড়ায় চালাবিহীন খোলা আকাশের নিচেই চলছে পাঠদান

মনোহরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হোসেন বলেন, ২০০৩ সালে বিদ্যালয়টি স্থাপিত হওয়ার পর থেকেই তিনি অনেক সমস্যা মোকাবেলা করে বিদ্যালয়ের হাল ধরে রেখেছেন। এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে আড়াইশত শিক্ষার্থীর জন্য সাত জন শিক্ষক নামে মাত্র সম্মানীতে পাঠদান করছেন। পূর্বে জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয় থাকলেও বিগত বছর থেকে এটি উচ্চ বিদ্যালয়ে উন্নিত হয়েছে। বিদ্যালয়টি এমপিভূক্ত না হওয়ায় শিক্ষকরাও পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছেন। এমপিওভূক্তির জন্য আবেদন করা হয়েছে বলে তিনি জানান। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহাগ মিয়া বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় মনোহরপুর উচ্চ বিদ্যালয়টি অবহেলিত রয়েছে। অথচ তিলকপুর, নিশ্চিন্তপুর, সোনাপুর, ইটারঘাট, কালারায়েরচর, দত্তগ্রাম, মনোহরপুর, পলকীছড়া, মানগাঁওসহ দশ বারোটি গ্রামের শিক্ষার্থীরা এখানে এসে লেখাপড়া করছে। তিনি আরও বলেন, বৃস্টি না থাকলে চালা বিহিন কক্ষে কষ্ট ক্লাস পরিচালনা করা যায়। আর বৃষিট হলে বাধ্য হয়ে এ ক্লাসের সকল শিক্ষার্থীদের অন্য শ্রেণি কক্ষে নিয়ে গাদাগাদি করে রাখা যায়। ফলে দুইট শ্রেণি কক্ষে পাঠদান বন্ধ থাকে তখন।

মনোহরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে চালাবিহীন একটি কক্ষে পাঠদান ও বারান্দার চাল উড়ে যাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে কুলাউড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: আনোয়ার হোসেন জানান, এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিখিত আবেদন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে। অচিরেই সরকারি অনুদান আসবে এবং বিদ্যালয়ের মেরামত কাজ শুরু হবে।

Post a Comment

Previous Post Next Post