স্পোর্টস ডেস্কঃ আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ‘এ’ গ্রুপের বাছাইপর্বের ম্যাচে বুধবার নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। ধর্মশালার হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে ৩টায়। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে এই পর্যন্ত দু’টি টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হয়েছে সাকিব-সাব্বিররা, যেখানে একটিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ আর একটিতে নেদারল্যান্ডস। এরপর আর দুই দলের কোন মুখোমুখি লড়াই হয়নি। সেটা অবশ্য ২০১২ সালের কথা। সেই বাংলাদেশ আর এই বাংলাদেশ এখন যে যোজন যোজন পার্থক্য সেটা সবাই নিশ্চয়ই একবাক্যে স্বীকার করবেন। ঠিক এমনই এক প্রেক্ষাপটে বুধবার নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয়ের লক্ষ্যেই হিমাচলের মাঠে নামবে কোচ হাথুরুসিংহের শিষ্যরা। তবে এই ম্যাচে হাথুরসিংহের অন্যান্য শিষ্যরা মাঠে নামলেও বল হাতে হয়তো নাও নামতে পারেন তার সেরা অস্ত্র মুস্তাফিজুর রহমান। এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচের পরই ইনজুরিতে পড়ে টুর্নামেন্টের মাঝপথে দল থেকে ছিটকে যাওয়া এই বোলিং ওয়ান্ডারকে ছাড়াই হয়তো বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্টকে একাদশ সাজাতে হবে। এদিকে, টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ উড়ন্ত ফর্মে থাকলেও প্রতিপক্ষ হিসেবে নেদারল্যান্ডস যে তাদের একেবারেই ছেড়ে কথা বলবে না সেটা তাদের সাম্প্রতিক ফর্মই বলে দিচ্ছে। কেননা, গেল ফেব্রুয়ারি আরব আমিরাত সফরে এসে স্বাগতিক আমিরাত ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ খেলেছে পিটার বোরেনের দল। যেখানে দুই ম্যাচেই তারা জয়ের আনন্দে ভেসেছেন। শুধু তাই নয় বাংলাদেশের বিপক্ষে এই ম্যাচে নেদারল্যান্ডস জয়ের প্রেরণা খুঁজতে পারে ২০১৪ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর থেকে। ৩১ মার্চ চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে ৪৫ রানের ব্যবধানে হারিয়ে রীতিমতো অবাক করে দিয়েছিল তারা। তবে প্রতিপক্ষ নয়, বাংলাদেশের জন্য বড় দুশ্চিন্তা এই উচ্চতা নিয়ে। একে তো এমন উচ্চতায় বাংলাদেশ এর আগে কখনোই ক্রিকেট খেলেনি। দ্বিতীয়ত এত উচ্চতায় দৌড়াতে গিয়ে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। বিষয়টা স্বীকার করেছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাও। মঙ্গলবার ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ভারতের অন্য শহরগুলোর তুলনায় ধর্মশালার পরিবেশ-পরিস্থিতি কিছুটা অন্য রকমই। বিশেষ করে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক উঁচুতে হওয়ায় আমাদের খেলোয়াড়দের দৌড়ানোর সময় শ্বাস নিতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।’ প্রথম রাউন্ডে বাংলাদেশকে পরিষ্কার ফেভারিট মেনে নিয়েছেন নেদারল্যান্ডসের অধিনায়ক পিটার বোরেন। ক্রিকেটীয় দক্ষতায় বাংলাদেশ ঢের এগিয়ে গ্রুপের আইসিসির তিন সহযোগী দেশের চেয়ে। তবে কাউকে খাটো করে দেখতে রাজি নন অধিনায়ক মাশরাফি। নেদারল্যান্ডসের মতো পরের দুই ম্যাচের প্রতিপক্ষ আয়ারল্যান্ড ও ওমানকেও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন তিনি। ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা। এক বা দুটি ওভারেই ঘুরে যায় পুরো ম্যাচের ভাগ্য। এমন বাস্তবতার নিরিখে দাঁড়িয়ে এই ম্যাচে কে জিতবে আর কে হারবে, আর কে হাসবে বিজয়ের শেষ হাসি সেই দৃশ্য দেখতে ক্রিকেট ভক্তদের ম্যাচের শেষ বলটি পর্যন্ত অপক্ষো করতেই হচ্ছে।
