স্টাফ রিপোর্টারঃ এশিয়ার বৃহত্তম হাকালুকি হাওরকে বলা হয় মিঠাপানির মৎস্য ভান্ডার এবং মৎস্য প্রজন্ন কেন্দ্র। তবে বর্তমানে মিঠা পানির মৎস্য ভান্ডার খ্যাত বৃহত্তম হাকালুকি হাওরে অবাধে চলছে মেশিনে সেচ দিয়ে বিল ও নদী শুকিয়ে মাছ শিকারের মহোসৎব। এরফলে হুমকির মুখে পড়তে পারে হাওরের মৎস্য, জীববৈচিত্র্য এবং পরিবেশ। পরিবেশ অধিদফতরের তথ্যমতে, এই হাওরে রয়েছে ১০৭ প্রজাতির মাছ। এরমধ্যে ৩২ প্রজাতি হুমকির মূখে। ক্ষতিকর জাল আর বিল শুকিয়ে মাছ শিকার করায় শুধু মাছ নয় হাওরের জীববৈচিত্র্য হুমকির মূখে। পরিবেশ অধিদফতর এবং এর অধীনে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ২০০৪ সাল থেকে এই হাওরের উন্নয়নে কাজ করছে। কিন্তু গত জুন মাসে পরিবেশ অধিদফতরের প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে অরিক্ষিত হয়ে পড়ে মিঠা পানির এই মৎস্য ভান্ডারটি। সরেজমিন হাকালুকি হাওরে গেলে গর্সিউরা ও চৌলা বিলে মেশিন দিয়ে চলছে সেচ কাজ। এর আগে সিংজুর ও আগার বদ্ধ মহাল সেচ দিয়ে মাছ শিকার করা হয়। স্থানীয় লেকাজন জানান, মূলত সিংজুর ও আগার বদ্ধ জলমহাল প্রকৃতপক্ষে কোন জলমহালই নয়। এটা একটা বহমান নদী। বড়লেখা উপজেলার তালিমপুর ও বর্ণি ইউনিয়নের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এটাকে স্থানীয় কুটাউরা গ্রামের নুর ইসলাম ইজারা নেন। জানা যায়, এই প্রক্রিয়ার সাথে হাকালুকি হাওর তীরের বড়লেখা উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ আবু ইউছুফের অসৎ হস্তক্ষেপ রয়েছে। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, সিংজুর ও আগার নদীতে বাঁধ দিয়ে পরে মেশিন লাগিয়ে দু’দিন সেচ দিয়ে তারপর মাছ শিকার করা হয়। ইজারাদার একজন প্রভাবশালী লোক হওয়ায় এবং মৎস্য বিভাগের যোগসাজশ থাকায় নির্বিঘেœ মাছ শিকার করেন ইজারাদার। অথচ ইজারা শর্তে বিল ক্ষতিকর জাল ও সেচ দিয়ে মাছ শিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু ইজারার শর্ত ভঙ্গ করলেও প্রতিকারে যেন কেউ নেই। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাওরে গিয়ে বিল সেচে মাছ শিকারের ঘটনা প্রত্যক্ষ করলেও তিনি কোন প্রতিকার করেননি। বরং ইজারাদারের ডেরায় ভুড়িভোঁজ করে ফিরে এসেছেন। জানা গেছে, হাল্লা ভিসিজির সোলেমান আহমদ বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে এব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। বড়লেখা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু ইউছুফ জানান, হাওরে বিল সেচে মাছ শিকারের ঘটনা মাঝে মধ্যে ঘটেই থাকে। এতবড় হাওরের মধ্যে এধরনের ঘটনাতো ঘটবে। অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ১১ মার্চ শুক্রবার তদন্তে গিয়েছিলাম। বিলে ৩ ফুট পানি রেখে তারা মাছ শিকার করবে। বেসরকারি সংস্থা সিএনআরএস এই বিলকে অভয়াশ্রমের প্রস্তাব করেছিলো। কিন্তু না পাওয়ায় আমরা এক বছরের খাস কালেকশন হিসেবে ভাড়া আগেই নিয়ে নেই। বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্যাহ আল মামুন জানান, জনবল সংকট থাকার পরও হাওরে মেশিনে সেচ দিয়ে মাছ শিকার বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত আছে। আমরা কয়েক দিন আগে হাওরের চৌলা বিলে অভিযান চালিয়ে ২টি মেশিন জব্দ করেছি এবং একজন মাছ শিকারীকে ২হাজার টাকা জরিমানা করেছি। এলাকাবাসীর সহযোগীতা ফেলে পুরোপুরি ভাবে মাছ শিকার বন্ধ করতে পারব।
