কমলগঞ্জে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য পলো বাওয়া উৎসব
নিউজ ডেস্কঃ পুরোদমে শুষ্ক মৌসুম শুরু না হলে ও কমলগঞ্জ উপজেলার বুক দিয়ে প্রবাহিত ধলাই নদী সহ বিভিন্ন এলাকার প্রবাহমান ছোট ছোট ছড়া বিলসহ বিভিন্ন জলাশয়ে শুরু হয়েছে পলো বাওয়া উৎসব। প্রতিবছর এই সময়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সৌখিন মৎস্য শিকারীরা দল বেঁধে উৎসব মুখর পরিবেশে পলো বাওয়ায় অংশ গ্রহণ করে। পলো বাওয়া উৎসব হলো দল বেঁধে (বাঁশ দিয়ে বিশেষ ভাবে তৈরী ঝাঁপি) মাছ ধরা। শরতের শেষ দিকে বিভিন্ন জলাশয়ের পানি যখন কমতে শুরু করে তখন থেকেই শুরু হয় মাছ ধরার প্রস্তুুতি। বিশেষত হাওর এলাকায় এই উৎসব বিশাল আকারে হয় । কমলগঞ্জে সে রকম ব্যাপক প্রস্তুুতি না নিলে ও সৌখিন মাছ শিকারীরা নিজেদের আলাপ-আলোচনা করে বাওয়ার দিনক্ষণ নির্ধারনের পর তা নদীতে ও ছড়া সমুহে পলো বাওয়া শুরু করেন। বাওয়ার ঘোষনা শুনার পর আগ্রহী সৌখিন মাছ শিকারীরা বাঁশের তৈরী পলো, ক্ষেতজাল, টাকজাল, ধর্মজাল, টায়াজাল, বেড়জাল, কোচ, টেঁটাপ্রভৃতি নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেন। পর্যায়ক্রমে একেক জলাশয়ে একেক দিন এই বাওয়া উৎসব অনুষ্টিত হয়। মাসব্যাপী এই উৎসব চলে। ২৫ অক্টোবর রোববার কমলগঞ্জ উপজেলায় শুভসূচনা হয়েছে মাসব্যাপী এই উৎসবের। প্রথম দিনে উপজেলা সদরের ধলাই নদীতে সকাল ১০ টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলে এই বাওয়া উৎসব। মাসব্যাপী এই উৎসবের পর্যায়ক্রমে একেক জলাশয়ে একেক দিন এই বাওয়া অনুষ্ঠিত হবে। এ ব্যাপারে আলাপকালে কমলগঞ্জের প্রবীন মাছ শিকারী ইসহাক মিয়া জানান, দিন দিনই পরিবেশ ও আবহাওয়ার প্রতিকূলতার কারনে নদী-নালা, খাল-বিল, হাওরের তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ার কারনে পানি হ্রাস এবং অধিকাংশ জলাশয় ইজারা দেওয়ায় বাওয়া উৎসব এখন অনেকটাই ভাটা পড়েছে। আভাব অনাটন ক্রমশ গ্রাস করে ফেলছে চিরাচরিত এই গ্রামীণ উৎসবের অতীত ঐতিহ্যকে। তার মতে প্রাচীন এই উৎসবকে টিকিয়ে রাখতে সর্বমহলের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।

Post a Comment

 
Top