অনলাইন ডেস্কঃ শিশু শেখ সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকতা সিলেট মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ইন্সপেক্টর সুরঞ্জিত তালুকদার। তার দীর্ঘ ৫ ঘন্টা সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে গতকাল রবিবার শেষ হলো বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ। আদালত আগামী ২০ অক্টোবর ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ২৫ অক্টোবর যুক্তিতর্কের তারিখ নির্ধারণ করেছেন। আগামী ২৬ অথবা ২৭ অক্টোবর রাজন হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সিলেটের পিপি এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। এদিকে গতকাল দুপুর পৌনে ১২টায় আদালতের কার্যক্রম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কামরুল ইসলামের আইনজীবী এডভোকেট হাবিবুর রহমান হাবিব তার জামিন প্রার্থনা করেন এবং সাক্ষ্য গ্রহণ পুনরায় শুরুর আবেদন জানান। আদালত তার দুটো আবেদনই নামঞ্জুর করেছে। আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে আদালত প্রাঙ্গন ও আশপাশ এলাকায় জনতার ভিড় ছিল নজিরবিহীন। বিক্ষুব্ধ জনতা ফাঁসি ফাঁসি, ফাঁসি চাই, কামরুলের ফাঁসি চাই বলে শ্লোগান দিতে থাকেন। সাম্প্রতিক কালের কোন মামলায় জনগণের এমন উপস্থিতি দেখা যায়নি। গতকাল আদালতে উপস্থিত করা হয় মামলার প্রধান আসামি কামরুল ইসলামসহ ১১ আসামিকে। দুপুর ১২টা থেকে মহানগর দায়রা জজ আকবর হোসেন মৃধার আদালতে সাক্ষ্য দেন সুরঞ্জিত তালুকদার। শেষ দিনে মামলার বাদীকে জেরা করেন আসামি পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট আব্দুল খালিক, এডভোকেট এটিএম মাসুদ টিপু এডভোকেট ফয়জুর রহমান জাহেদ ও এডভোকেট হাবিবুর রহমান হাবিব। রাষ্ট্রপক্ষে মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি মফুর আলী ছাড়াও পিপি এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, রাজনের বাবার আইনজীবী এডভোকেট এমাদ উল্যাহ শহিদুল ইসলাম শাহীন ও এডভোকেট শওকত চৌধুরী শুনানিতে অংশ নেন। প্রধান আসামি কামরুলসহ অন্যান্যদের করাগারে প্রেরণ আদালতের কার্যক্রম শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় যখন কামরুলসহ অন্য আসইমদের সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়, তখনও জনতা বিক্ষোভ করে। এ সময় রাজনের নিজ গ্রাম বাদেআলী গ্রামের লোকজন ছাড়াও তার বাবা শেখ আজিজুর রহমান, মা লুবনা বেগম ও ছোট ভাই সাজন উপস্থিত ছিল। তারা আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে শ্লোগান দেয়। সৌদি আরব থেকে গত বৃহস্পতিবার কামরুলকে আনার পর গতকাল প্রথম আদালতে হাজির করা হয়।
