"পুলিশের ভুল অতঃপর খেসারত ফজলু মিয়ার" - মহসীন রুবেল

"পুলিশের ভুল অতঃপর খেসারত ফজলু মিয়ার" - মহসীন রুবেল
মহসীন রুবেল: এ মুহুর্তে একটি বিজ্ঞাপনের কলি খুব মনে পড়ছে, "একটি ভুল সারাজীবনের কান্না"। কথাটা সত্য। যারা ভুল করেছেন বা ভুলে ভূক্তভোগীরাই বলতে পারবেন ভুল কতটা বেদনাদায়ক, মর্মপীিড়ত, অন্ধকারে ঘেরা। ছোট্ট একটি গল্প। এক ভদ্রলোক পাশের বাড়ির এক কলিগের কাছ থেকে মুঠোফোনে খুদে বার্তা পেলেন "জনাব আমি কিছুদিন ধরে আপনার অনুপস্হিতিতে আপনার ওয়াইফকে ইচ্ছেমত ভোগ করেছি"। এটা শুনে তিনি স্টোক করে হাসপাতালে ভর্তি হলেন। পরদিন কিছুটা সুস্হ হয়ে আবারও একটি বার্তা পেলেন। "হঠাৎ জনাব আমার মনে হল এটা করা আমার ঠিক হয়নি। আমি অতীব দুঃখের সহিত আরেকটি কথা জানাচ্ছি ভুলবশত আমি ওয়াইফাই এর জায়গায় ওয়াইফ লিখেছি"। ১৯৯৩ সালের ১১জুলাই সন্দেহভাজন হিসেবে সিলেটের আদালত পাড়া থেকেই গ্রেপ্তার হোন ফজলু মিয়া। বিনা অপরাধের ২২ বছর কারাভোগ করেন। তারপর...??? একটু বাংলা সিনেমার আঁচ পাচ্ছেন? সিনেমার আঁচ পাওয়া গেলেও শেষের দৃশ্য কিন্তু বিপরীত। জেলগেটে ফুল নিয়ে কেউ আসনি। আর তিনিও চিৎকার করে বলেননি "শয়তান,ফিরিয়ে দে আমার ২২বছর"। না একটুও মজা নয়। এখন একটি প্রশ্নবোধক চিহ্ন বসানোর সাহস রাখি পুলিশ প্রসাশনের উপর। যখন ফজলু মিয়াকে দোষ ছাড়া গ্রেপ্তার করা হয় তখন সন্দেহের বশে ৫৪ ধারায় আদালতের মাধ্যমে জেলে প্রেরণ করা হয় তাকে। কাউকে গ্রেপ্তারে পুলিশের পরবর্তী কাজ থাকে সঠিক তথ্য উপাত্ত দিয়ে তার দোষ প্রমাণ করে শাস্তির ব্যবস্থা করা। তাহলে কোন প্রমাণের ভিত্তিতে ফজলু মিয়াকে জেল কাটতে হল? আবার জামিনও দেওয়া হল? বলবেন কি পুলিশ মহোদয়? পুলিশের নিরপেক্ষতা বা ন্যায় নিষ্ঠতার উপর বিশ্বাস আমার কোনকালেই ছিল না। টাকা যাদের কাছে মূখ্য তাদের কাছে ন্যায় শব্দটি জলে ভাসা পদ্মের মত। ফজলু মিয়ার জায়গায় যদি আপনি আমি হতাম? ভাবুনতো একটু? আমরা কেউই আর ফিরিয়ে দিতে পারব না ফজলু মিয়ার জীবন গড়ার সেই ঢগবগে যৌবন। তবে প্রার্থনা করতে পারি আর যেন কেউ না হোন কোন ফজলু মিয়া। আর যেন কোন ফজলু মিয়ার অর্ধেক জীবন ভুলের বৃত্তে আবদ্ধ না হয়। অবশেষে একটি চাওয়া। ফজলু মিয়ার ক্ষতি পূরণে আগামীর সব ভরণ পোষণের দায়িত্ব নিয়ে পুলিশ বা সরকার বিশেষ ভূমিকা রাখবেন বলে আশা রাখি। যদিও এ ক্ষতি কারো পক্ষে পূরণ কখনও কোনদিন সম্ভব নয়। তবুও...
(বিঃ দ্রঃ- ফজলু মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছিলেন ট্রাফিক সার্জেন্ট জাকির হোসেন। তারপর বাকি কাজ সব সম্পন্ন করেছিলেন পুলিশ ভাইয়েরা। ফজলু মিয়া গতকাল ১৪.১০.২০১৫ তারিখে জামিনে মুক্তি পান)

-মহসীন রুবেল
১৫.১০.২০১৫

Post a Comment

Previous Post Next Post