লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজ’র নানা সমস্যা সংকট নিয়ে চলছে শিক্ষা ব্যবস্থা

লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজ
লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজ
এম শাহবান রশীদ চৌধুরী: কুলাউড়া উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের জনসাধারণের উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার একমাত্র বিদ্যাপিঠ লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজের নানা সমস্যা সংকট নিয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। ঐতিহ্যবাহী রবিরবাজারের উত্তরে কুলাউড়া রবিরবাজার সড়কের পশ্চিম পাশে অবস্থিত এ কলেজটিতে ১৮৯৫ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছেন। তন্মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ১৪৩৫জন এবং বি.এস.এস (পাস) স্নাতক পর্যায়ে ৪৬০ জন। কলেজটিতে ৪ জন সহকারী অধ্যাপক, ১১ জন প্রভাষক, ৪জন খন্ডকালীন প্রভাষক, ২ জন প্রদর্শক, ১ জন সহকারী লাইব্রেরিয়ান, ২ জন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী, ১ জন খন্ডকালীন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী, ৯ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী কর্মরত আছেন ৫ জন কর্মচারী এমপিও ভুক্ত নন। শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অনুপাত ১:৯৫ জন। শিক্ষক শিক্ষার্থী অনুপাত অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগদানের প্রয়োজনিয়তা রয়েছে বলে মনে হয়। ২০১৪ সালের ৩ এপ্রিল কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মুহিবুর রহমান অসুস্থতা কারণে পদত্যাগ করলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব কলেজের উপাধ্যক্ষ মোঃ আতাউর রহমান। জানা যায়, ওই সময় ১৬ লক্ষ টাকার আর্থিক জটিলতা সৃস্টি হলে পরবর্তীতে সাবেক অধ্যক্ষ সেই টাকা পরিশোধ করে অসুস্থতা কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। সরেজমিন, গেলে দেখা যায় কলেজে ১টি ৩ তলা একাডেমিক ভবন, ২টি আধাপাকা প্রশাসনিক ও অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত ভবন এবং ১টি টিনসেড কাঁচাঘর রয়েছে। ছোট্ট কাঁচা ঘরটিতে এক বেঞ্চে ৫-৭ জন করে প্রায় ৫০০ জন শিক্ষার্থী গাদাগাদি করে বসতে হয়। ঝড়বৃষ্টি হলে কাঁদা পানিতে ঘরটি একাকার হয়ে যায় ও শ্রেণি কার্যক্রম বিঘিœত হয়। একমাত্র একাডেমিক ভবন সংকটের কারণে কলেজটির শিক্ষা কার্যক্রমে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হচ্ছে, যা চলতে থাকলে কলেজটি তার অতীত গৌরব হারাবে বলে শিক্ষক ও গভর্নিং বড়ির সদস্যরা মনে করেন। শিক্ষার্থীর তুলনায় শৌচাগারের ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়। বিশেষ করে কাঁচাঘরের শিক্ষার্থীদের শৌচাগারের অভাবে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কলেজের শিক্ষার্থী আব্দুল আহাদ, সাইফুদ্দিন, মিজানুর রহমান, পংকজ দেব, সাচ্চু মিয়া ও জাকির আলম মারজান জানান, বিজ্ঞানাগারে যন্ত্রপাতি না থাকায় প্রেকটিক্যাল হয় না লাইব্রেরীর কার্যক্রম বন্ধ লাইব্রেরী কক্ষে একটি কম্পিউটার রয়েছে, রুমটি অন্য কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। ছাত্র মিলনায়তন নেই। ছাত্রী মিলনায়তনের রুগ্ন দশা, বসার ব্যবস্থা নেই। কলেজ কেন্টিন বন্ধ রয়েছে। কম্পিউটার ল্যাব নেই। স্কাউটের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক থাকা সত্বেও স্কাউট কার্যক্রম নেই। প্রতিষ্ঠার পর অদ্যাবদি কোন কলেজ বার্ষিকী প্রকাশিত হয়নি। বার্ষিক ক্রীড়াও সংস্কৃতি প্রতিযোগিতা নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয় না। বিশ^ সাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া কর্মসূচি চালু আছে কিন্তু বই পড়–য়ার সংখ্যা কমে যাচ্ছে। বাগানের মালি আছে অথচ বাগান নেই। শিক্ষা সফর হয় না। তারা বলেন এ কার্যক্রমসমূহ চালু হলে আমরা উপকৃত হতাম এবং কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মান উন্নীত হত। কলেজের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক জাকারিয়া রহমান, বদরউদ্দিন, মুকিব উদ্দিন, সোনাব আলী, কানাই কুমার পাল জানান অভিভাবক সমাবেশ হয় না, কলেজ গভর্নিং বড়ির নির্বাচন সম্পর্কে অভিভাবকদের অবগত করার সঠিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় না। কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে অদ্যাবধি গভর্নিং বড়ির কোন পর্যায়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে কলেজের শিক্ষক-অভিভাবক সম্পর্ক আশানুরূপ নয়। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সমস্যা সংকটও প্রশ্ন নিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ আতাউর রহমানের মুখোমুখি হলে তিনি বলেন দায়িত্ব প্রাপ্তির পর থেকে কলেজের সমস্যা সমাধান ও সচ্ছতা বজায় রাখার জন্য শিক্ষকগণ ও গভর্নিং বড়ির সদস্যবৃন্দের সহযোগিতায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছি, কিন্তু ভবন সংকটের কারণে কমনরুম, কেন্টিন, লাইব্রেরী, বিজ্ঞানাগার, কোন কিছুরই সঠিকভাবে স্থান সংকুলান করতে পারছি না। শিক্ষার্থীদের বসার স্থান সংকুলান করতেই হিমসিম খাচ্ছি। তিনি বলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যেসেলিটিস ডিপার্টমেন্ট থেকে ১ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকা ব্যয় সাপেক্ষে একটি ভবন মঞ্জুরীর পত্র পেয়েছি। একাডেমিক ভবন নির্মিত হলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে এবং ¯œাতক পর্যায়ের অন্যান্য বিষয় চালু করা সম্ভব হবে। তিনি সকলের সহযোগিতায় লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজকে একটি বিশ^বিদ্যালয় কলেজে পরিণত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য মোঃ উস্তার মিয়া ও মোঃ আব্দুর রশিদ বাদশার কাছে কলেজের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা বলেন কলেজে লেখাপড়ার মানউন্নয়নে শিক্ষকরা খুবই আন্তরিক। একাডেমিক ভবন নির্মিত হলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তারা বলেন আমরা গরিব ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়ায় সহযোগিতা করছি। উলে¬খ্য যে, ১৯৯৮ সালে ১ সেপ্টেম্বর রাউৎগাঁও এর অনুপম দেব চৌধুরীর দোকান গৃহে অস্থায়ী কার্যালয় এবং পূর্ব রাউৎগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে একটি টিনসেড কাঁচা ঘর নির্মান করে ১৭ জন শিক্ষার্থী নিয়ে লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজের যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠা কালে অধ্যক্ষ ছিলেন বি.এস.এস ইউসুফ। পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছিলেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিয়াজুল হক। শিক্ষক ছিলেন খন্দকার আব্দুল ওয়াহিদ সারোয়ার, মোঃ আতাউর রহমান, মমতাজ বেগম মোঃ নাজমুল হোসেন, নাজমা বানু, শাহনাজ বাহার, বদরুল ইসলাম। ১৯৯৯ কলেজটি বর্তমান স্থানে স্থানান্তরিত করা হয়। কলেজটি রাজনীতি, সন্ত্রাস ও ধুমপান মুক্ত। প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে পরীক্ষার ফলাফল অন্যান্য কলেজের তুলনায় ভাল হওয়ায় কুলাউড়া শহর থেকেও এ কলেজে ছাত্ররা পড়তে আসে। কলেজটি সমস্যা সংকট কাটিয়ে একটি আদর্শ বিশ^বিদ্যালয় কলেজে রূপান্তরিত হয়ে এলাকার শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষালাভের সুযোগ সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে বলে এলাকার সচেতন মহল আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Post a Comment

Previous Post Next Post