![]() |
| পটুয়াখালীতে বাড়ছে সূর্যমুখীর আবাদ |
নিউজ ডেস্কঃ অল্প খরচ ও কম সময়ে ভালো ফলন হওয়ায় পটুয়াখালীতে বাড়ছে সূর্যমুখীর আবাদ। অন্যান্য তেলবীজের তুলনায় সূর্যমুখীর তেলের চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে। সঠিক প্রশিক্ষণ পেলে সূর্যমুখী চাষের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব বলে মনে করেন কৃষকরা। যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই হলুদের সমারোহ। সূর্যমুখী ফুলে ছেয়ে গেছে পটুয়াখালীর বিভিন্ন এলাকা। এক সময় সাগর তীরবর্তী উপকূলীয় এই অঞ্চলে, রবি মৌসুমে ধান ও তরমুজ ছাড়া অন্য কোনো ধরনের শস্য উৎপাদন করা সম্ভব হতো না। কিন্তু উষ্ণ লবণ সহিষ্ণু হওয়ায় বর্তমানে কৃষকরা আগ্রহী হচ্ছেন সূর্যমুখী চাষে। আর সূর্যমুখী থেকে উৎপাদিত তেল দিয়ে কৃষকদের নিজেদের পরিবারের চাহিদা যেমন পূরণ হচ্ছে তেমনি বাজারে এই তেল বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন তারা। তবে প্রশিক্ষণের অভাবে এ বছর অনেক সূর্যমুখী গাছই নষ্ট হয়েছে বলে জানালেন কৃষকরা। কৃষকরা বলেন, এবার বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় ফলন কম হয়েছে। আগে অন্য ফসল চাষ করে লাভবান না হলেও এখন সূর্যমুখী চাষ করে আমরা লাভবান হচ্ছি। এছাড়া সূর্যমুখী চাষে খরচ কম হয়, উপরন্তু এ থেকে তেল ও জ্বালানি হিসেবে গাছকে ব্যবহার করতে পারছি।' অন্য তেলের তুলনায় সূর্যমুখী তেলে কোলেস্টরেল কম থাকায় দিন দিন এর চাহিদা বেড়ে চলেছে বলে জানালেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ডিন, প্রফেসর হামিদুর রহমান। তিনি বলেন, 'যেসব তেলের মধ্যে কোলেস্টরেল কম থাকে সেসব তেলের মধ্যে সূর্যমুখী অন্যতম। সূর্যমুখীর প্রতিটি অংশ ব্যবহার করা যায়। যেমন ফুলের বীজ থেকে তৈল। অনেক সময় বীজ বাদামের মতো ভেজে খাওয়া সম্ভব।' সূর্যমুখীর আবাদ বাড়াতে কৃষি বিভাগ সব ধরনের সহযোগিতা করছে বলে জানালেন পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ অফিসার মুহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম। তিনি বলেন, 'আমরা সময়মতো সার এবং কীটনাশককে সহজলভ্য করার চেষ্টা করছি। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যার কারণে ফলন অন্য ফসলের চেয়ে অনেক ভাল।' গত বছর ৪শ' ৬৮ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছিলো। আর এ বছর চাষ করা হয়েছে ৭শ' হেক্টর জমিতে।
