![]() |
| সুবিধাজনক অবস্থানে অস্ট্রেলিয়া ; ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে ভারত |
বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ৩২৯ রানের বড় লক্ষ্যে ব্যাট করছে ভারত। এই ম্যাচ জিততে হলে রেকর্ড গড়তে হবে ভারতীয়দের। কারণ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ৩০০ রানের বেশি লক্ষ্য তাড়া করে কোনো দলই জিততে পারেনি। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ২৯ ওভার শেষে ভারতের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৩৭ রান। আজিঙ্কা রাহানে ২৩ এবং ধোনি ১৪ রান নিয়ে ব্যাট করছেন। এর আগে ৭৬ থেকে ৯১ রানের মধ্যে ফিরে গেছেন শিখর ধাওয়ান (৪৫), বিরাট কোহলি (১) ও রোহিত শর্মা (৩৪)। ৩২৯ রানের বড় লক্ষ্যে খেলতে নেমে ভারতকে ভালো সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার শিখর ধাওয়ান ও রোহিত শর্মা। ফিফটি রানের জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন দুজন। তবে দলীয় ৭৬ রানে জশ হাজেলউডের বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ডিপে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের ক্যাচে পরিণত হন ধাওয়ান। ৪১ বলে ৬টি চার ও এক ছক্কায় তার সংগ্রহ ৪৫ রান। তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে এদিনও ব্যর্থ হন বিরাট কোহলি। ৭৬ রানে ধাওয়ানের বিদায়ের পর স্কোরবোর্ডে আর ২ রান জমা হতেই সাজঘরে ফেরেন তিনি। ১ রান করা কোহলিকে ব্র্যাড হাডিনের গ্লাভসবন্দি করান মিচেল জনসন। আগের ম্যাচেও মাত্র ৩ রান করেছিলেন কোহলি। বৃহস্পতিবার সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেটে ৩২৮ রান সংগ্রহ করে অস্ট্রেলিয়া। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেমিফাইনালে এই প্রথম কোনো দল ৩০০ বা তার বেশি রান করল। দারুণ এক সেঞ্চুরিতে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১০৫ রান করেন স্টিভেন স্মিথ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮১ রান আসে অ্যারন ফিঞ্চের ব্যাট থেকে। এ ছাড়া শেষ দিকে মাত্র ৯ বলে ২৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন মিচেল জনসন। ভারতের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন উমেশ যাদব। ২ উইকেট জমা পড়ে মোহিত শর্মার ঝুলিতে। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি অস্ট্রেলিয়ার। ভারতীয় পেসার উমেশ যাদবের করা ইনিংসের চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে বিদায় নেন ডেভিড ওয়ার্নার। কাভারে বিরাট কোহলির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এই অসি ওপেনার। ৭ বলে একটি করে চার ও ছক্কায় ওয়ার্নারের সংগ্রহ ১২ রান।শুরুতে ওয়ার্নারের উইকেট হারানোর পর দলের হাল ধরেন অ্যারন ফিঞ্চ ও স্টিভেন স্মিথ। দুজনই দারুণ দুটি ফিফটি তুলে নিয়ে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন। ইনিংসের ৩৩তম ওভারে মোহাম্মদ সামির বলে চার মেরে ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে পরিণত করেন স্মিথ।সেঞ্চুরি করার একটু পর বিদায় নেন স্মিথ। উমেশ যাদবের বলে রোহিত শর্মার ক্যাচে পরিণত হন স্মিথ। ৯৩ বলে ১১ চার ও ২ ছক্কায় ১০৫ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ফিঞ্চ-স্মিথ জুটিতে আসে ১৮২ রান।স্মিথের বিদায়ের পর নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিজে এসে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। দলীয় ২৩২ রানে রবীচন্দ্রন অশ্বিনের বলে আজিঙ্কা রাহানের তালুবন্দি হন তিনি। ১৪ বলে ৩ চার ও এক ছক্কায় ম্যাক্সওয়েলের সংগ্রহ ২৩ রান। এরপর স্কোরবোর্ডে আর ১ রান জমা হতেই ফিরে যান ফিঞ্চ। যাদবের বলে শিখর ধাওয়ানের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। ১১৬ বলে ৭ চার ও এক ছক্কায় ৮১ রান করেন এই ওপেনার। দলীয় ২৪৮ রানে ব্যক্তিগত ১০ রান করে ফেরেন মাইকেল ক্লার্ক। মোহিত শর্মার বলে রোহিত শর্মার হাতে ধরা পড়েন অসি অধিনায়ক। ক্লার্কের বিদায়ের পর ষষ্ঠ উইকেটে ৩৬ রানের জুটি গড়েন শেন ওয়াটসন ও জেমস ফকনার। ২১ রান করে যাদবের বলে বোল্ড হন ফকনার। তার ১২ বলের ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও একটি ছক্কার মার। দলীয় ২৯৮ রানে ব্যক্তিগত ২৮ রান করে ফেরেন ওয়াটসন। আর শেষ দিকে মাত্র ৯ বলে ২৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে দলের স্কোর পাহাড়ে তোলেন মিচেল জনসন। এই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া-ভারতের একাদশে কোনো পরিবর্তন আসেনি। কোয়ার্টার ফাইনালের একাদশ নিয়েই খেলছে দুই দল। সিডনির অতীত ইতিহাস জানাচ্ছে, ওয়ানডেতে এই মাঠে আগে ব্যাট করা দল জিতেছে ৮২ বার, আর আগে বোলিং করা দল ৬১ বার। বিশ্বকাপে এর আগে ছয়বার সেমিফাইনাল খেলে একবারও হারেনি অস্ট্রেলিয়া। পাঁচটিতে জয়, একটি টাই। আর ভারত তিনবার সেমিফাইনাল খেলে জিতেছে দুবার, হেরেছে একবার। বিশ্বকাপে এর আগে দশবার মুখোমুখি হয়েছে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া। যার সাতবারই জিতেছেন অসিরা। ভারতীয়দের জয় বাকি তিনটিতে।
