চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় ঝিমিয়ে পড়েছে মৌলভীবাজারের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াঙ্গন

 রাজনৈতিক অস্থিরতায় ঝিমিয়ে পড়েছে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াঙ্গন
 রাজনৈতিক অস্থিরতায় ঝিমিয়ে পড়েছে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াঙ্গন
ইমাদ উদ দীন: চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় মৌলভীবাজারে এবার কমেছে সামাজিক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন। প্রতি বছরের মতো প্রবাসী অধ্যুষিত মৌলভীবাজারের গ্রামীণ জনপদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াঙ্গন এ সময়ে সরগরম থাকলেও এবার ভিন্নদৃশ্য। প্রবাসী ও স্থানীয় রাজনীতিবিদদের আর্থিক সহযোগিতা কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় হঠাৎ এ পৃষ্ঠপোষকরা বিমুখ হওয়ায় গ্রামপর্যায়ে ভাটা পড়েছে খেলাধুলাসহ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে। জানা যায়, প্রতি বছর এ সময়ে আজ এক খেলার উদ্বোধন হলে কাল হতো অন্য খেলার পুরস্কার বিতরণ। আর উপস্থিত দর্শকদের চিত্তবিনোদনের জন্য থাকতো নানা ধরনের দেশীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন। এ সময় প্রবাসীরা দেশে ফেরার মওসুম থাকায় বিয়ে-শাদি, শিরনি ও ওয়াজ মাহফিলসহ হতো গ্রামীণ রেওয়াজি নানা সামাজিক অনুষ্ঠান। এ বছর এ মওসুমে খেলা শুরু হওয়ার মাস দুই পর দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় ব্যাপক প্রভাব পড়ে এ অঙ্গনে। আর্থিক জোগান আর মওসুমি বিস্তর খেলার মাঠ (ধানক্ষেতের খালি মাঠ) পাওয়ায় এ সময়টাতে জেলাজুড়ে বেড়ে যেত খেলাধুলা আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন। ক্রিকেট, ফুটবল, ব্যাডমিন্টন, দাবা, কাবাডি কিংবা ক্যারাম বোর্ড আর কতকি স্থানীয় খেলা বাদ যেত না কোনটিই। সঙ্গে দর্শক বাড়াতে থাকতো নানা ধরনের দেশীয় সাংস্কৃতির আয়োজন। আর এ কারণেই বেশ ফুরফুরা মেজাজে এ সময় পার করতেন স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক, সংগঠন, খেলোয়াড় ও ক্রীড়ামোদিরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এ বছরও শীত মওসুমের শুরুতে প্রতিদিনই জেলার প্রতিটি উপজেলার কোন কোন গ্রামে এসব প্রতিযোগিতামূলক খেলার উদ্বোধন কিংবা পুরস্কার বিতরণ আয়োজন ছিল এ বছরের শুরুতে। জেলার ৭টি উপজেলার সব কয়টি গ্রামেও চলছিল নানা ধরনের খেলাধুলা আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। খেলা উদ্বোধন আর পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিবিদরাও ব্যস্ত সময় পার করছিলেন। জেলার ডেকোরেটর্স ব্যবসায়ীরা জানান, এ বছর তাদের ব্যবসায় লোকসান গুনতে হচ্ছে। ব্যবসার মওসুমে প্রবাসীরা দেশে না ফেরায় আর দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় এ বছর জেলাজুড়ে সামাজিক অনুষ্ঠান নেই বললেই চলে। মৌলভীবাজার জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মিছবাউর রহমান জানান, প্রবাসী অধ্যুষিত এ জেলার লোকজন সব সমই খেলাধুলায় পৃষ্ঠপোষকতা করেন। পর্যাপ্ত মাঠের অভাবে বছরজুড়ে ইচ্ছা থাকলেও খেলাধুলার আয়োজন করা সম্ভব হয় না। তা ছাড়া অনেক খেলা শুষ্ক মওসুম ছাড়াও হয় না। সব মিলিয়ে শুষ্ক মওসুমটাই খেলাধুলার মওসুম। এ মওসুমটাতে সচ্ছল ক্রীড়ামোদিরা খেলাধুলার আয়োজনে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করে সংশ্লিষ্টদের অনুপ্রাণিত করেন। কিন্তু এ বছর অন্য বছরের চেয়ে একটু ভিন্নচিত্র। প্রথমদিকে এ জেলার ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন জমজমাট থাকলেও চলমান হরতাল-অবরোধের কারণে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পৃষ্ঠপোষকরা সার্বিক সহযোগিতা জোরালোভাবে করতে না পারায় হঠাৎ মফস্বলের ক্রীড়াঙ্গন অকেটা ঝিমিয়ে পড়েছে। মৌলভীবাজার জেলা শিল্পকলা একাডেমির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট পার্থ সারথী পাল বলেন, প্রতি বছরই প্রবাসী অধ্যুষিত এ জেলায় শুকনো মওসুমে খেলাধুলার পাশাপাশি সাংস্কুতিক অনুষ্ঠানেরও জমজমাট আয়োজন হয়। এ বছরও প্রথমদিকে ভাল হলেও চলমান হরতাল-অবরোধে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় থাকা আয়োজক ও পৃষ্ঠপোষকরা হঠাৎ এসব অনুষ্ঠানের আয়োজন থেকে অনেকটা বিরত থাকায় প্রভাব পড়ছে এসব অঙ্গনে।

Post a Comment

Previous Post Next Post