![]() |
| স্মৃতির পাতায় ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিন |
মাহফুজ শাকিলঃ ২০১৪ সালের ৮ মার্চ শনিবার। ঘড়ির কাঁটায় যখন সময় বিকেল ৪টা,
তখন ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিনের ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাসায় পেঁৗছাই। প্রথমেই
পরিচয়-পর্ব। তারপর দীর্ঘ দুই ঘণ্টার আলাপচারিতা। কথা হয় আমাদের ভাষা
আন্দোলন নিয়ে। আমি নিজেকে প্রথমে মানব ঠিকানার একজন সংবাদকর্মী হিসেবে
পরিচয় দিই। মানব ঠিকানার পরিচয় দেওয়ার পর তিনি আমাকে অভিনন্দন জানালেন।
তিনি অকপটে বললেন, আমি নিউইয়র্ক ঠিকানার একজন ভক্ত। আমি বিশিষ্ট অ্যাথলেট ও
নিউইয়র্ক ঠিকানার সিওও সাঈদ-উর-রবের কয়েকটি গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে
অংশগ্রহণ করেছিলাম। আমি সাঈদ-উর-রবের নিমন্ত্রণ পেয়ে আর ঘরে বসে থাকতে
পারলাম না। আমি চলে যাই মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে। সেই অনুষ্ঠানে গিয়ে আমি
অনেক আনন্দ পেয়েছিলাম। আমি আরও শুনেছি, সাপ্তাহিক মানব ঠিকানা নামে ঠিকানার
একটি সহযোগী পত্রিকা মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় রয়েছে। পত্রিকাটি বস্তুনিষ্ঠ
সংবাদ প্রকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে আমি মনে করি। এই পত্রিকাটি
আজীবন ভাষাসৈনিকদের কথা বলবে। পত্রিকাটি এগিয়ে যাক মানুষের কল্যাণে। এরপর
ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিনের কাছে বাংলা ভাষা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন,
বাংলা ভাষার মতো এত সুন্দর ভাষা পৃথিবীর কোথাও নেই। বাংলা ভাষা চর্চা করতে
হবে। এই বাংলার জন্য আমরা সংগ্রাম করেছি, এই বাংলাকে ভালোবাসি। বাঙালি না
হলে যুদ্ধ হতো না। আমরা বাঙালি হয়েছি বলেই দেশ স্বাধীন হয়েছে। ভাষামতিন
ছাত্রদের উদ্দেশে বলেন, ছাত্রদের জন্যই ভাষা আন্দোলন সফল হয়েছে। বাংলা
ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করতে ছাত্রসমাজ সবচেয়ে বেশি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।
কিন্তু আজকের ছাত্ররা বাংলা ভাষার যথাযথ গুরম্নত্ব দেয় না। ফলে বাংলা ভাষা
আজ সঙ্কটের মুখে। এ সঙ্কট থেকে বাংলা ভাষাকে উদ্ধার করতে হলে ছাত্রসমাজকে
ভাষার প্রতি গুরম্নত্ব দিতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করে
বলেন, সারাবিশ্ব যখন বাংলা ভাষার স্বীকৃতি দিচ্ছে, তখন আমরা বাংলাকে ভুলে
অন্য ভাষা রপ্ত করার চেষ্টা করছি। বিশ্বে এমন কোনো জাতি নেই, যারা ভাষার
জন্য জীবন দিয়েছে, সংগ্রাম করেছে। ১৯৫২ সালে ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিন
রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই দাবিতে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। মাতৃভাষার
মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দাবিতে পৃথিবীতে যেসব আন্দোলন সংগঠিত হয়েছে, তার মধ্যে
বাঙালির ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন শ্রেষ্ঠতম। যে কারণে ২১ ফেব্রম্নয়ারি
আনত্দর্জাতিক মর্যাদায় দিবস হিসেবে পালিত হয়। তৎকালীন সময়ে তিনি ভাষা
আন্দোলন সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন। ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিন ১৯২৬ সালের ৩
ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার একটি ছোট্টগ্রাম ধুবালীয়ায়
জন্মগ্রহণ করেন। ২০১৪ সালের ৮ অক্টোবর ঢাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল
বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃতু্যবরণ করেন। মৃতু্যর আগ মুহূর্তে তিনি ঢাকা মেডিকেল
কলেজ হাসপাতালে তার দুটি চৰু মরণোত্তর দান করে যান। তিনি আসলে মৃতু্যবরণ
করেননি। তিনি অমর হয়ে আছেন আমাদের মাঝে। সেই সৌভাগ্যময় তার সানি্নধ্যের
কয়েক ঘণ্টা মনে থাকবে যত দিন বেঁচে আছি।
সুত্রঃ মানব ঠিকানা
.jpg)