কুলাউড়া-রবিরবাজার সড়কে বেইলি ব্রিজ ভেঙে যান চলাচল বন্ধ



নিউজ ডেস্কঃ মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় কুলাউড়া-রবিরবাজার আঞ্চলিক সড়কের একটি বেইলি ব্রিজের পাটাতনের ট্র্যানজাম ভেঙে যান চলাচল বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের ফানাই নদীর ওপর নির্মিত এ সেতুর দক্ষিণ পাশের একটি পাটাতনের ট্রানজাম ভেঙে যাওয়ায় ব্রিজের চারটি পাটাতন দেবে যায়। যার কারণে এ সড়ক দিয়ে বিকেল থেকে সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সেতুটির দু’পাশে কমপক্ষে দুই শতাধিক গাড়ি আটকা পড়ে। দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক শতাধিক যাত্রীরা। এ নিয়ে বেইলি ব্রিজে গত দুই বছরে ৫ থেকে ৬ বার ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। 



বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, কুলাউড়া-রবিরবাজার-পৃথিমপাশা ভায়া টিলাগাঁও সড়কের সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। এ সড়ক দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের রাউৎগাঁও, পৃথিমপাশা, কর্মধা ও টিলাগাঁও ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক লোকজন নিয়মিত উপজেলা সদরে যাতায়াত করেন। এছাড়া এ সড়কের ফানাই নদীর ওপর নির্মিত এ বেইলি ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন কয়েক সহস্রাধিক যানবাহন আসা যাওয়া করে। কিন্তু ওই ব্রিজের একটি পাটাতনের ট্রানজাম ভেঙে যাওয়ায় আটকা পড়া যানবাহনগুলো বিপরীত রাস্তা দিয়ে কুলাউড়া শহরে আসা-যাওয়া করছে। 

স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমীন, মোস্তফা কামাল ও সিএনজি চালক মসুদ মিয়া জানান, এ সড়কের কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশনের লোকজন রাস্তার কাজের জন্য পাথর, বালু বোঝাইসহ নির্মাণ সামগ্রী ট্রাক নিয়ে যাওয়ার কারণে এই ব্রিজে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এখানে নতুন করে বেইলি সেতু নির্মাণ করতে হবে। এভাবে জোড়াতালি দিয়ে আর কতদিন চলবে। নতুন করে ব্রিজ নির্মাণ না হলে এ রকম ভাঙনের ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটবে।

স্থানীয় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্র জানায়, প্রায় দুই যুগ হবে এই ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে বেইলি ব্রিজটি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ৫ টনের অধিক ভারী যানবাহন সেতুতে না ওঠার জন্য দু’পাশে সাইনবোর্ড লাগানো হয়। কিন্তু তা উপেক্ষা করে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ টনের বেশি ভারী মালামাল নিয়ে সেতু পার হয় যানবাহন। 

সড়ক জনপথ বিভাগের (মৌলভীবাজার) উপ-সহকারী প্রকৌশলী কুলাউড়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুভাষ পুরকায়স্থ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, একটি ট্রাক প্রয়োজনের চেয়ে বেশি মালামাল বহন করে সেতুটির ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় একটি পাটাতন থেকে ট্রানজামে ভাঙন দেখা দেয়। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। যত দ্রুত সম্ভব সেতুটি মেরামতের জন্য শ্রমিকরা ঘটনাস্থলে রওয়ানা দিয়েছে। আশা করছি আজ রাত বা আগামীকাল সকালের মধ্যেই যানবাহন চলাচলের উপযোগী করা হবে। এছাড়া ব্রিজটি নতুন করে নির্মাণের জন্য একটি প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।


Post a Comment

Previous Post Next Post