মানবতার ফেরিওয়ালা আব্দুল বাছিত বাচ্চু


বিশেষ প্রতিনিধিঃ পেশা জীবন শুরু করেছিলেন চারণ সংবাদকর্মী হিসেবে, এখন জনপ্রতিনিধি। সব কিছু মাড়িয়ে কুলাউড়ায় তার পরিচয় একজন মানবতার ফেরিওয়ালা। বলছি আব্দুল বাছিত বাচ্চুর কথা। উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান। বিদায়ী বছরের জুন-জুলাই মাসে মনু নদীর ভাঙনের সাথে এক অসম যুদ্ধে জয়ী হওয়ার পর এখন লড়ছেন করোনায় কর্মহীন হয়ে পড়া লোকজনের ক্ষুধা নিবারণে। দেশে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার পর থেকে এ পর্যন্ত ১হাজার ৯ শ পরিবারে  সামান্য হলেও খাবার পাঠিয়েছেন। যার মধ্যে ৩ শ পরিবার সরকারি। বাকি ১৬ শ পরিবার পেয়েছে তার নিজ উদ্যেগে গঠিত তহবিল থেকে। চলছে আরো ৫শত পরিবারে বিতরণের প্রস্তুতি।

জানা যায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে। পরের বছর হয় আংশিক বন্যা। ২০১৮ সালের জুনে দেখা দেয় ভয়াবহ বন্যা। এসময় জেলার সংবাদকর্মীরা মাঠে গেলে দেখতেন কোথাও না কোথাও আব্দুল বাছিত বাচ্চুর ত্রাণ তৎপরতা। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতানপুর গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী জুনাব আলী বলেন যেখানে বিপদ সেখানে বাচ্চু ভাই। মানুষের দাফনে কাপনে শিরণি সালাতে খেলাধুলায় ওয়াজ কীর্তনে খবর দিলেই চেয়ারম্যান আব্দুল বাচ্ছিত বাচ্চু হাজির। আমরা উনার মতো একজন চেয়ারম্যান পেয়ে হাজীপুরবাসী ধন্য।

ইউনিয়নের বাসিন্দা সাবেক মেম্বার আব্দুল মুনিম জানান বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বাচ্চু সাংবাদিক পেশা থেকেই এসেছেন। অতীতে সাংবাদিক থাকতে যেভাবে নিরীহ নির্যাতিত ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য কলম ধরতেন এখন ঠিক একইভাবে দরিদ্র অসহায় মানুষের জন্য কাজ করছেন।

২ নম্বর  ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুল লতিফ বলেন ২০১৮ সালে বন্যায় সরকারি বেসরকারি ভাবে উনি যে ত্রাণ এনেছেন হাজীপুর ইউনিয়ন হয়েছে থেকে মানুষই এতো ত্রাণ পায়নি। এখন করোনা আসার পর থেকে জীবনের ঝুকি নিয়ে জনগনের পাশে আছেন।

চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বাচ্চু বলেন জনসেবাকে আমি ইবাদত মনে করি। তাই মানুষের পাশে আছি। বর্তমান বেসরকারি ত্রাণ কার্যক্রম নিয়ে তিনি বলেন করোনা ভাইরাস জনিত কভিড ১৯ মারাত্মক ছোয়াছে ভাইরাস একজন লোক ৪/৫  জনকে ছড়াতে সময় লাগে না। এজন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডব্লিউ এইচ ও বার বার বলছে ঘরে থাকার জন্য। আমি ভাবলাম এই দরিদ্র ইউনিয়নের মানুষ কে কিছু খাবার না দিলে মানুষ উস্কে যেতে পারে। কারণ ক্ষুধার রাজ্যে যেমন পৃথিবী গদ্যময় ঠিক তেমনি মানুষ প্রয়োজনে আইন মানে না। যেহেতু বর্তমান পরিস্থিতি আঞ্চলিক নয় আন্তর্জাতিক অতএব সরকারি খাবার সহায়তা আসবে কিন্তু সময় লাগবে এই কারণে আমার আত্মীয় স্বজন বন্ধু বান্ধব প্রবাসী এবং এলাকার দানশীল ব্যক্তিদের সহায়তায় খাবার বিতরণ শুরু করি।
তিনি জানান এ পর্যন্ত ১৯ শ পরিবার সহায়তা পেয়েছে। সরকারি ৩শ আর নিজ উদ্যেগেই ১৬ শ। আগামী সোমবার আরো ৫ শ পরিবার কে দেওয়া হবে।

Post a Comment

Previous Post Next Post