বিশেষ প্রতিনিধিঃ কুলাউড়া পৌর শহরের সর্ববৃহৎ দু’টি সবজি ও মাছ বাজার দুইটি সরিয়ে শহরের নবীন চন্দ্র সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্থানান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে এটি কার্যকর এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। মঙ্গলবার সকাল থেকে বিক্রেতারা বিভিন্ন পণ্য নিয়ে খেলার মাঠে খোলা বাজার বসিয়েছেন। সামাজিক নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনে এসব বাজারে মালামাল কিনছেন ক্রেতারা।
খেলার মাঠে বাজার স্থানান্তরের সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম ফরহাদ চৌধুরী, কুলাউড়া পৌর মেয়র শফি আলম ইউনুছ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) সাদেক কাওসার দস্তগীর, কুলাউড়া থানার অফিসার ইনর্চাজ মো. ইয়ারদৌস হাসান, ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি বদরুজ্জামান সজল, সাধারণ সম্পাদক মঈনুল ইসলাম শামীম, শহরের দু’টি বাজারের ইজারাদারসহ ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে রবিবার ও সোমবার দিনভর কুলাউড়া শহরে মাইকিং করা হয়েছে। মাইকিং বলা হয়, কুলাউড়া শহরের উত্তর বাজার ও দক্ষিণ বাজারে অবস্থিত বড় দুটি কাঁচা বাজার, মাছ বাজারে সবসময় মানুষের ভীড় লেগেই থাকে। এতে করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি থেকেই যায়। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে মানুষের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সরকারি সিদ্ধান্তে বাজারগুলো অন্যত্র স্থানান্তর করতে হবে। সকল খুচরা ব্যবসায়ীকে তাদের কাঁচামালের দোকান নিয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকে শহরের নবীন চন্দ্র সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে বসার জন্য বলা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা ওই মাঠে সামাজিক নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে নিজ নিজ দোকান নিয়ে বসবেন। পৌরসভা কর্তৃপক্ষ খেলার মাঠের বাজার দেখভাল করবে। জনস্বার্থ বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মাঠে পর্যাপ্ত জায়গা আছে। সেখানে ক্রেতা বিক্রেতা দুই পক্ষই নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কেনাবেচা করতে পারবেন। এদিকে কুলাউড়ার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের সর্ববৃহৎ রবিরবাজার ও ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের কাঁচা বাজার ও মাছের বাজারগুলো অন্যত্র খোলা আকাশের নিচে বা খেলার মাঠে স্থানান্তর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কুলাউড়া পৌর শহরের দক্ষিণবাজারের ইজারাদার সাতির মিয়া মহালদার বলেন, প্রশাসনের নির্দেশে বাজার খেলার মাঠে স্থানান্তর করা হয়েছে। প্রায় শতাধিক সবজি ও মাছ ব্যবসায়ী তাদের মালামাল নিয়ে বসেছেন। প্রশাসন সবসময় মনিটরিং করছে।
পৌর মেয়র শফি আলম ইউনুছ জানান, সাধারণ মানুষের নিরাপদ ও ভাইরাসের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেতে কাঁচা বাজার ও মাছ বাজারগুলো খেলার মাঠে স্থানান্তর করা হয়েছে। এখান থেকেই ক্রেতারা দুরত্ব বজায় রেখে তাদের পণ্য কিনছেন। আমাদের সবসময় মনিটরিং রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম ফরহাদ চৌধুরী বলেন, কুলাউড়া পৌর শহরের দুটি বড় বাজারে মানুষের ঢল কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছিলো না। বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতারা উভয়েরই সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত হচ্ছে না। তাই জনস্বার্থে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতের জন্য খেলার মাঠে বাজার স্থানান্তরের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এনসি স্কুল খেলার মাঠে আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে সবজি বাজার ও মাছ বেচাকেনা শুরু হয়। বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার্থে সবধরনের লজিস্টিক সাপোর্ট দিবে পৌর কর্তৃপক্ষ।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সফি আহমদ সলমান জানান, কোন ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই খুচরা সবজি বিক্রয় ও মাছ বিক্রয়ের জন্য ক্রেতারা নির্বিঘ্নে যেন কেনাকেটা করতে পারে সে পরিবেশ বজায় রাখার সর্বাত্মক প্রস্তুুতি প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে।
