কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও নিরাপত্তা বাড়েনি


নিউজ ডেস্কঃ শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও সামাজিক সুরক্ষা ও নিরাপত্তার অভাবে অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে তারা। সমাজ বিশ্লেষক ও আইনজীবীরা বলছেন, ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের ঘটনাগুলো আলোচিত না হলে ন্যায়বিচার মেলে না। আবার মামলাগুলোও ঝুলে থাকে বছরের পর বছর।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে বেশ এগিয়েছে বাংলাদেশের নারীরা। সংখ্যায় কম হলেও রাজনীতিতেও কিছুটা অংশগ্রহণ বেড়েছে। কিন্তু নারীর সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত হয়েছে কতটা? 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষিকা ড. জিনাত হুদা বলেন, আমরা মেয়েদেরকে নারী বা মানুষ হিসেবে গড়ে তুলছি। কিন্তু সমাজকে এখনো আমরা সেই পর্যায়ে নিতে পারিনি। কোন নারী তার কর্মক্ষেত্রে যে হেনস্তার শিকার হবেন না সেজন্য যে সুরক্ষা সেটিও কিন্তু নেই।

পরিসংখ্যান বলছে, নারীরা সবচেয়ে বেশি অনিরাপত্তায় ভোগেন গণপরিবহনগুলোতে। বেসরকারি সংগঠন যাত্রীকল্যাণ সংস্থা বলছে, ২০১৯ সালে সারাদেশে গণপরিবহনে ৫৯ জন নারী ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

এছাড়া গণপরিবহন ব্যবহার করা শতকরা ৯৪ শতাংশ নারীই যৌন নিপীড়নের শিকার হোন। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছাত্রীও কুর্মিটোলায় ধর্ষণের শিকার হোন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের হিসেবে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ২০১১ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৫শ ৭৯ টি মামলা হয়েছে।  এর মধ্যে চার্জশিট দেয়া হয়েছে ২০৮৫ টির ।  শুধু ঢাকায় ২০১৯ সালে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৯৩ জন।

মানবাধিকার আইনজীবী সালমা আলী বলেন, নারীবান্ধব পরিবেশ আমরা পরিবার, কর্মক্ষেত্র বা রাস্তাঘাট কোন খানেই পাচ্ছি না। শুধু বিচার না, আইনের মধ্যে প্রতিরোধ মূলক ব্যবস্থাও থাকতে হবে।

মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র বলছে, ২০১৯ সালে ধর্ষণের শিকার ১ হাজার ৪১৩ নারী।  আর ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় শাস্তি হয় মাত্র শূন্য দশমিক তিন ভাগ। 

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ১৮০ দিনের মধ্যে বিচারকাজ শেষ করার কথা বলা হলেও মামলার অগ্রগতি না থাকার কারণেও সামাজিক সুরক্ষা প্রশ্নে নারীরা অনেক পিছিয়ে রয়েছে বলেও মনে করেন আইনজীবী ও সমাজ বিশ্লেষকরা। - ডিবিসি নিউজ

Post a Comment

Previous Post Next Post