স্টাফ রিপোর্টারঃ  কুলাউড়া উপজেলায় ভোরে ঘুমন্তবস্থায় ছোট ভাই রাজিবুল ইসলাম রাজু (১৭)কে কুপিয়ে হত্যা করলো তারই বড় ভাই মামুনুর রশীদ মামুন। রোববার ১১ আগস্ট সকাল ৬ টার দিকে উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের হোসনাবাদ গ্রামে তৈয়ব আলীর বাড়িতে এ ঘটনাটি ঘটে। মামুন ও রাজু একই ইউনিয়নের নুনা গ্রামের ওয়ারিছ আলীর পুত্র। নিহত রাজু উপজেলার রবিরবাজার দারুসুন্নাহ আলিম মাদরসার ৯ম শ্রেণির ছাত্র। এ ঘটনায় ছেলে হত্যার দায়ে বড় ছেলে মামুনকে আসামী করে থানায় মামলা করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওয়ারিছ আলীর ৪ ছেলে ২ মেয়ে। বড় ছেলে মামুনুর রশীদ মামুন ওয়ারিছ আলী সাথে তাঁর বাড়িতে থাকতো। ২ ছেলে প্রবাসে ও এক মেয়ে শশুর বাড়িতে থাকে। তাঁর স্ত্রী নেকজান বেগম ছোট ছেলে রাজিবুল ইসলাম রাজু ও ছোট মেয়েকে নিয়ে ভাই তৈয়ব আলীর (ওয়ারিছের শ্যালকের) বাড়িতে থাকেন। ওয়ারিছ আলীর বড় ছেলে মামুন রোববার ভোরে মামার বাড়ি যায়। সেখানে গিয়ে ঘরের ভিতর বিছানায় ঘুমে থাকা ছোট ভাই রাজুকে উপর্যূপুরী কোঁপাতে থাকে। এসময় রাজুর চিৎকার শুনে নেকজান বেগম রুমে এসে দেখেন মামুন ধারালো দা দিয়ে ছোট ছেলেকে কুঁপিয়ে মারাত্ম জখম করেছে। মাকে দেখে মামুন সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে কুলাউড়া থানার ওসি তদন্ত সঞ্জয় চক্রবর্তীসহ পুলিশ রাজুর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। 

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিহত রাজুর এক স্বজন সিলেটটুডেকে জানান, মামুন পুরো সুস্থ। রাজুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে মামুন। পুলিশ তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকান্ডের মূল রহস্য বেরিয়ে আসবে। 

ওয়ারিছ আলী বলেন,  মামুন দিনমজুরের কাজ করতো। তাঁর মানসিক সমস্যা রয়েছে। ৮ বছর আগে মামুনকে বিয়ে দেওয়া হয়েছিলো। তবে তাঁর স্ত্রী কিছুদিন পর বাপের বাড়ি চলে যায়। 

কুলাউড়া থানার ওসি তদন্ত সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, রাজুর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। মামুন পালিয়ে যাওয়ায় তাঁকে আটক করা যায়নি। তাঁকে আটকের জন্য পুলিশ অভিযানে রয়েছে।

কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইয়ারদৌস হাসান বলেন, এব্যাপারে কুলাউড়া থানায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামুন মানসিক রোগী। তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যার কারণ জানা যাবে।

Post a Comment

 
Top