অনলাইন ডেস্কঃ বিশ্বে সামুদ্রিক খাদ্য সি-উইড (সামুদ্রিক শৈবাল) ব্যবহার লাফিয়ে বাড়ছে। শারীরিক, মানসিক গঠন, পুষ্টিমান ভালো ও অর্থকরী হওয়ায় এর দিকে ঝুঁকছে অনেকেই।
এতে প্রচুর পরিমাণ খনিজদ্রব্য বিদ্যমান থাকায় খাদ্যে অনুপুষ্টি হিসেবে এর গ্রহণযোগ্যতা ব্যাপক। বাংলাদেশও সি-উইড চাষে সফলতা অর্জন করেছে।
বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ১১৭ প্রকার সি-উইড শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। তিন প্রজাতির সি-উইড চাষের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। মানব খাদ্য হিসেবে ব্যবহার ছাড়াও ডেইরি, ওষুধ, টেক্সটাইল ও কাগজ শিল্পে সি-উইড ব্যবহৃত হয়।
তাছাড়া জমিতে সার, প্রাণী খাদ্য ও লবণ উৎপাদনেও সি-উইড ব্যবহার হয়ে আসছে। বিশ্বে ১০ প্রজাতির সি-উইড বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক গুরুত্ব পাচ্ছে।
প্রজাতির মধ্যে সাগর পাতা, সাগর আঙ্গুর, সাগর সেমাই, সাগর ঘাস, সাগর ঝুমকা, জিলাপি শেওলা, শৈবালমূললতা, লাল পাতা অন্যতম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে সি-উইডের নাম দিয়েছেন সুনীল অর্থনীতি বা ব্ল–-ইকোনমি।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু যুগান্তরকে জানান, সমুদ্রসীমা জয় করা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এক বিরাট ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে সি-উইড বা সামুদ্রিক শৈবাল। আমাদের সাগরতলেও গুপ্তধন রয়েছে।
সেই গুপ্তধন আহরণ করতে সরকার দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে সি-উইড চাষে বাংলাদেশ সফলতা অর্জন করেছে। আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছি, বাংলাদেশের জলসীমার সি-উইড মানের দিক দিয়ে বিশ্বের মধ্যে অন্যতম।
আমরা আশা করছি, দেশের চাহিদা মিটিয়ে সি-উইড বিশ্ববাজারেও বাজারজাত করতে পারব। আহরণ ও বাণিজ্যকরণে আমরা ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়েছি।
বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করেছি। উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমরা আমাদের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছতে চাই। সামুদ্রিক শৈবালেই প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম ও লৌহ বিদ্যমান। মাছের চেয়ে বেশি পুষ্টিগুণ রয়েছে সি-উইডে।
তাই দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পুষ্টির চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারে সি-উইড। এ সি-উইড আহরণ ইলিশ আহরণের মতো বিপ্লব ঘটাবে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ যুগান্তরকে জানান, সি-উইড চাষ আমাদের দেশের জন্য খুলে দিচ্ছে রত্ন ভাণ্ডারের দ্বার।
দেশের বেশ কয়েকটি অত্যাধুনিক হোটেলে সি-উইড ব্যবহৃত হচ্ছে। আমরা এর ব্যবহার সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে চাই। আমাদের জরিপে কক্সবাজার সদর উপজেলার বাঁকখালী নদী, মহেশখালী চ্যানেলের মোহনা, নুনিয়ারছড়া থেকে নাজিরারটেক পর্যন্ত সৈকত সংলগ্ন জোয়ার-ভাটা এলাকা ও মহেশখালী দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় সি-উইডের সন্ধান পাওয়া গেছে।
আমার বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যে সেন্টমার্টিন দ্বীপ, ইনানী, বাঁকখালী মোহনা ও টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, শাপলাপুর থেকে এ পর্যন্ত ১১৭ প্রকার সি-উইড শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন।
আমরা ইতিমধ্যে তিন প্রজাতির সি-উইড চাষের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছি। শুধু কক্সবাজারে নয়, ইতিমধ্যে নতুন প্রকল্প নেয়ার মধ্য দিয়ে পটুয়াখালী, কুয়াকাটা এলাকায় সার্ভে করা হবে।
দেশি-বিদেশি বিজ্ঞানীদের মাধ্যমে ৩০০ জনকে উন্নত প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। বাংলাদেশের ৭১০ কিলোমিটারব্যাপী সমুদ্র সৈকত এবং ২৫ হাজার বর্গকিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলীয় অঞ্চলে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বাণিজ্যিকভাবে সি-উইড চাষ সুনীল অর্থনীতিতে (ব্ল–-ইকোনমি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বলেও তিনি জানান।
