কলম্বাসের ব্যবহৃত মানচিত্রের রহস্য


অনলাইন ডেস্কঃ ক্রিস্টোফার কলম্বাস ছিলেন ইতালীয় নাবিক ও ঔপনিবেশিক। তাঁর আমেরিকা অভিযাত্রা ঐ অঞ্চলে ইউরোপীয়দের উপনিবেশ স্থাপনের সূচনা করেছিল। তরুণ বয়সেই তাঁর টান ছিল সমুদ্রযাত্রায়। ভূমধ্যসাগর এবং আটলান্টিক মহাসাগরীয় বাণিজ্যিক বন্দরগুলোতে নৌ অভিযান পরিচালনা করেন কলম্বাস। আজ থেকে পাঁচশ’ বছর আগে এখনকার মতো কোনো উন্নত প্রযুক্তিও ছিল না। শুধুমাত্র অসীম সাহস আর দূরদৃষ্টির জোরে তিনি সাগরের অজানার উদ্দেশ্যে রওনা দিতেন। কিন্তু তাঁর এসব অভিযানের পেছনে যুগান্তকারী ভূমিকা ছিল মানচিত্রের। ১৪৯১ সালে আটলান্টিক অভিযানে তিনি ব্যবহার করেছিলেন ‘রহস্যময়’ এক মানচিত্র। অভিযানের শুরু থেকে পুরো সময়টায় তাকে আলোর দিশা দিয়েছে এই মানচিত্রটি। অন্যকথায় বলা যায়, এই মানচিত্রটিকে ঘিরেই পরিকল্পনা নির্ধারণ করতেন ক্রিস্টোফার কলম্বাস।

এই মানচিত্রটি ছিল জার্মান মানচিত্রকার হেনেরিকাস মারটেলাসের তৈরি করা। অবশ্য এই মানচিত্র প্রস্তুতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল আরো কিছু কিংবদন্তীর। বহু পুরনো সেই মানচিত্রটি সময়ের ব্যবধানে এক সময় অনেকটাই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এবার সেই মানচিত্রটিকেই পুনরুজীবিত করে তুলেছেন একদল গবেষক। এক এক করে বের করে এনেছেন হেনেরিকাসের মানচিত্রের গোপন সব রহস্য।ল্যাটিন ভাষায় লেখা সেই মানচিত্রটির অনেক কিছুই সময়ের ব্যবধানে আজ ফিকে হয়ে গেছে। অনেক জায়গার লেখা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তবে এখন গবেষকরা আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে আগের সেসব অস্পষ্ট, ঝাপসা লেখা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। এখান থেকেই গবেষকরা হেনেরিকাস মারটেলাসের চিন্তাধারার গভীরতা সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে এই ধরনের যতো মানচিত্র তৈরি হয়েছে তার বেশিরভাগেই রয়েছে হেনেরিকাস মারটেলাসের মানচিত্রের ছাপ। বলা যায়, তাঁর মানচিত্রের জ্ঞানকে কাজে লাগিয়েই পরবর্তীতে আধুনিক মানচিত্রগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে। এমনকি ১৫০৭ সালে পৃথিবীতে সবপ্রথম ‘আমেরিকার’ নাম উল্লেখ করে মার্টিন ওয়াল্ডসিমুলার যে মানচিত্রচি প্রস্তুত করেছিলেন সেখানেও ছিল হেনেরিকাস মারটেলাসের মানচিত্রের চাপ।

মানচিত্র বিশেষজ্ঞ চেট ভ্যান ডুজার বলেন, হেনেরিকাস মারটেলাসের মানচিত্রে ইউরোপ এবং ভূমধ্যসাগরের যে চিত্রাঙ্কন দেখানো হয়েছে তা প্রকৃত মানচিত্রের সাথে বেশ সাদৃশ্যপূর্ণ। যদিও দক্ষিণাঞ্চলীয় আফ্রিকাকে দেখানো হয়েছে অপূর্ণভাবে। দক্ষিণাঞ্চলীয় আফ্রিকার মূল ভূখণ্ডকে ঠিকভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হননি। এশিয়ার অবস্থান বোঝাতেও অনেকাংশে ব্যর্থ হয়েছেন। তবে অস্ট্রেলিয়াকে ঠিকই তুলে ধরতে পেরেছেন। ভ্যান ডুজার বলেন, মারটেলাসের মানচিত্রের সব থেকে বড় অর্জন ছিল আমেরিকা মহাদেশের অবস্থান সম্পর্কে কিছুটা হলেও পূর্বাভাস দেওয়া, যেখানে অন্য মানচিত্র শিল্পীদের কাছে এটি ছিল এক মহা শূন্যস্থান। —ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক

Post a Comment

Previous Post Next Post