কমলগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি


কমলগঞ্জ প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার উপর বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে উপজেলার আদমপুর, কমলগঞ্জ সদর, মাধবপুর ও ইসলামপুর ইউনিয়নের কয়েকশ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। উপড়ে পড়েছে হাজারো গাছপালা। ১১ কেভির প্রায় ৩০টি খুঁটি ভেঙ্গে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে।

ঝড়ে কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়কে গাছ পড়ে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ৮ ঘণ্টা পর দুপুর ১২টায় সড়ক যোগাযোগ চালু করা হয়। বিদ্যুৎ লাইন লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়ার কারণে বিকাল ৪টা পর্যন্ত পুরো কমলগঞ্জ উপজেলা অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল।

মঙ্গলবার ভোরে কালবৈশাখী ঝড়, ভারী বর্ষন ও শিলাবৃষ্টিতে সম্পূর্ণ ও আংশিক প্রায় তিন শতাধিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা লণ্ডভণ্ড, চা বাগানে কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত, প্রায় ৫ হেক্টর জমির বোরো ফসল ও সবজি ক্ষেত বিনষ্ট হয়েছে। মঙ্গলবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এ চিত্র পাওয়া যায়।

মঙ্গলবার ভোর রাত ৪টায় প্রচণ্ড কালবৈশাখী ঝড়ের সাথে বজ্রপাতের শব্দে এলাকাবাসী আতংকিত হয়ে পড়ে। লাউয়াছড়ায় রেল লাইনের উপর গাছ ভেঙ্গে পড়ায় ২ দফায় (উদয়ন ও কালনী ট্রেন) সিলেটের সাথে সাড়ে ৬ ঘণ্টা ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ ছিল। পরে গাছ কেটে ট্রেন যোগাযোগ স্বাভাবিক করা হয়।

জানা যায়, মঙ্গলবার ভোর ৪টায় কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর, ইসলামপুর ও মাধবপুর ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রচণ্ড বেগে কালবৈশাখী ঝড়ে আদমপুর ইউনিয়নের আদখানি, জালালপুর কাটাবিল উত্তর ভাগ সহ প্রায় ১০টি গ্রামে ব্যাপক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাস্তার গাছপালা উপড়ে পড়ে। আদমপুরের বিভিন্ন এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের ১১ কেভি ৫টি খুঁটি ভেঙ্গে পড়েছে। এছাড়া উত্তরভাগ গ্রামের আব্দুল গনি, শামু মিয়া, গোলজান বেগম, মধ্যভাগ গ্রামের আলীবুন বেগম ,জালালপুর গ্রামের খালিক মিয়া ও আদকানি গ্রামের সুরজান বিবি’র ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়।

অপর দিকে একই সময় মাধবপুর ইউনিয়নে ঝড়ে প্রায় ৫০টি ঘর সম্পূর্ণ সহ শতাধিক বাড়ি ঘর বিধ্বস্ত হয়। চা বাগান এলাকায় টিনের ঘরের চাল উড়িয়ে নিয়ে গেছে। কয়েক শতাধিক গাছপালা উপড়ে পড়েছে। মাধবপুর চা বাগান, মাঝের ছড়াসহ বিভিন্ন গ্রামে ২৫টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙ্গে পড়েছে। মাধবপুরে দুহারিকা বট, গোপালবট, শ্রী নারায়ণ দাশ, আজগর আলী, ধলাইপাড় গ্রামের হেলিমা বেগম, বাঘবাড়ী গ্রামে সুরেন্দ্র কুমার সিংহের ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়।

এছাড়া ইসলামপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের ১১টি ঘর সম্পূর্ণ ও আদমপুর বি.এন.ভূঁইয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, হেরেংগাবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ কয়েকশ ঘর আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া প্রায় ২ শতাধিক স্থানে বিদ্যুৎ লাইনের তার ছিঁড়ে পড়েছে।

মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম মোবারক হোসেন জানান, ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। প্রায় ৩০টি খুঁটি ও ২ শতাধিক স্থানে তার ছিঁড়ে গেছে। পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে ২ দিন সময় লেগে যাবে।

কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আছাদুজ্জামান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ির তালিকা দেয়ার জন্য ইউপি চেয়ারম্যানদের বলা হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কমলগঞ্জ সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান, আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন ও মাধবপুর ইউপি চেয়ারম্যান পুষ্পকুমার কানু জানান, কালবৈশাখী ঝড় ও অব্যাহত ভারী বর্ষণে এসব ইউনিয়নের কয়েক হাজার হেক্টর বোরো ফসলেরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post