বিশেষ প্রতিনিধিঃ মধ্যবয়সী এক নারী। মানসিক ভারসাম্যহীন। উলঙ্গ। শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার সড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। হাঁটতে হাঁটতেই সন্তান প্রসব হয় তার। সেই সন্তানকে রাস্তার পাশে ফেলে ভাবলেশহীন ভাবেই এগিয়ে চলেন তিনি।
বুধবার দুপুরে শাবিপ্রবি এলাকায় দেখা যায় এ দৃশ্য। অনেকেই সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন এ দৃশ্য। নবজাতক বা নারীটিকে বাঁচাতে কেউ এগিয়ে আসেন নি।
ব্যতিক্রম কেবল তিন তরুণ। এদের একজন তোফায়েল আহমেদ। একটি ট্রাভেলস কোম্পানির কর্মী। সে সময় ওই সড়ক দিয়ে অটোরিকশা করে যাচ্ছিলেন তিনি। প্রসবের পর সন্তান ফেলে ওই নারীর চলে যাওয়া দেখে গাড়ি থেকে নামেন তোফায়েল। সাথেসাথেই কল দেন পুলিশের জরুরি সহায়তার হটলাইন ৯৯৯ নাম্বারে। পুলিশকে কল দিয়ে অনুসরণ করতে থাকেন ওই নারীকে।
একই সময় সেই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন এমসি কলেজের বিএসসির ছাত্র আল মুবিন। তিনি দেখতে পান সাড়কের পাশে বালুর ওপর উপুর হয়ে পড়ে আছে সদ্য ভূমিষ্ঠ এক শিশু। আশেপাশে অনেক মানুষ থাকলেও কেউ বাচ্চাটির সহায়তায় এগিয়ে আসছে না। নবজাতকের মাকে খোঁজে না পেয়ে শিশুটিকে একটি গামছা দিয়ে জড়িয়ে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যান আল মুবিন।
এদিকে তোফালের কল পেয়ে কিছুক্ষণ পরই ঘটনাস্থলে হাজির হয় পুলিশ। তারা সদ্য প্রসূতিকে উদ্ধার করে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতালে শুরু হয় নবজাতক আর তার মায়ের চিকিৎসা। কিন্তু প্রসবকালে রক্তপাত হওয়ায় ওই নারীর জন্য রক্তের প্রয়োজন হয়। কে দেবে রক্ত?
মুবিন কল দেন তার বন্ধু ইমরানকে। যিনি স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের একটি গ্রুপ চালান। রক্ত আর আর্থিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসেন ইমরান। বেঁচে যায় নবজাতক আর তার মা। যদিও জানা গেলো না, পথে পথে ঘুরে বেড়ানো ওই নারীর সন্তানটির পিতা কে?
এ ব্যাপারে আল মুবিন বলেন, শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পর প্রথমে আমাকে পাত্তা দেওয়া হয়নি। কিন্তু একটু পরই পুলিশ নবজাতকের মাকে হাসপাতালে নিয়ে আসলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা শুরু করে।
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উপ পরিচালক ডা: দেবপদ রায় বলেন মা ও ছেলে শারিরীকভাবে সুস্থ আছেন। তবে মা মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন। তিনি অসংলগ্ন কথা বলছেন। ওই নারী তার বাড়ি বা সন্তানের বাবার নাম-ঠিকানা কিছুই জানাতে পারেননি।

