সেলিম আহমেদ: জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুলাউড়া ও কমলগঞ্জ (আংশিক) এলাকা নিয়ে গঠিত মৌলভীবাজার-২ আসন। কুলাউড়া উপজেলার ১৩ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এবং কমলগঞ্জ উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন নিয়ে ঘটিত এ আসনে রয়েছে প্রায় ৩ লক্ষাধিক ভোটার। এর মধ্যে ৮০ হাজারেরও বেশি রয়েছেন চা শ্রমিক। নির্বাচনে তাদের ভোটই মূল ফ্যাক্টর। নির্বাচনের সব হিসাব পাল্টে দিতে পারেন তারাই। তবে বিগত ৩০ বছরের ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এ আসনে ভোটারদের কাছে প্রতীক নয়, ব্যক্তিই মুখ্য বিষয়। অনেক হেভিওয়েট প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন নিয়ে এসেও জামানত হারিয়েছেন। ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী অ্যাডভোকেট নওয়াব আলী আব্বাছ খান ৩য় বারের মতো এমপি নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রার্থী ছিলেন বিএনপি থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএম শাহীন। অপর প্রার্থী অ্যাডভোকেট এএনএম আবেদ রাজা বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান শামীম আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে জামানত হারান। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি এবং এই আসনের সাবেক জনপ্রিয় এমপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি নির্বাচন করেননি। তবে প্রকাশ্য কাজ করেন আলী আব্বাছ খানের পক্ষে।
কোনো
দলেরই এ আসনে একক আধিপত্য না থাকলেও নব্বইপরবর্তী ছয়টি সংসদ নির্বাচনে
দু’বার লাঙ্গল, একবার করে নৌকা ও ধানের শীষ জয়লাভ করে। বর্তমান এমপি আবদুল
মতিন ও এমএম শাহীন একবার করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন। বর্তমান
এমপি আবদুল মতিন ইতোমধ্যেই আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। আগামী নির্বাচনে
মহাজোট এবং ২০ দলীয় জোটের মনোনয়ন পেতে এক ডজনেরও বেশি প্রার্থী মাঠে
সক্রিয়। তাদের মধ্যে অধিকাংশই নতুন মুখ। চালাচ্ছেন সরব প্রচারণা। তবে
অনেকটা নীরব প্রচারণা চালাচ্ছে বিএনপি জোট। গত নির্বাচনের জামানত হারানো
বর্তমান জেলা বিএনপির
সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট এএনএম আবেদ রাজা মাঠে কিছুটা সক্রিয় থাকলেও সাবেক
এমপি এমএম শাহীন রয়েছেন প্রবাসে। প্রবাসে থাকলেও থেমে নেই তিনি। সেখান থেকে
চালাচ্ছেন নির্বাচনী প্রচারণা।
তবে
এ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত সাবেক তিন বারের এমপি নওয়াব আলী
আব্বাছ খান বিগত ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন করেননি। তিনি জাতীয় পার্টির
কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান থেকে পদত্যাগ করে কাজী জাফরের সঙ্গে সম্পৃক্ত
হয়ে গঠন করেন জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর)। জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) গঠনের
আহ্বায়ক কমিটির তিনি ছিলেন সদস্য সচিব। এখন দলটির নেতৃত্বও দিচ্ছেন তিনি।
বর্তমানে দলটি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে থাকায় এ জোট থেকে নওয়াব আলী
আব্বাছ খান মনোনয়ন প্রাপ্তিতে অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছেন। আলী
আব্বাছ খান বিএনপি জোট থেকে মনোনয়ন পেলে চমক দেখাতে পারেন বলে ধারণা সাধারণ
ভোটারদের। কারণ এ আসনে রয়েছে তার বিশাল ভোটব্যাংক।
তবে
এখনো সাধারণ মানুষের আস্থা রয়েছে আওয়ামী লীগে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ ও
বিএনপিতে এমএম শাহীনের প্রতি। তারা দু’জন যদি দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন
করেন তাহলে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি এবং নির্বাচন হবে আমেজপূর্ণ।
আওয়ামী
লীগ থেকে আসম কামরুল ইসলাম মনোনয়ন পেলেও বেশ চমক দেখাতে পারবেন বলে ধারণা
সাধারণ ভোটারদের। কারণ তরুণ এই নেতা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান থেকে
চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে অনেকটা সফলতার সঙ্গে দায়িত্বভার পালন করে
যাচ্ছেন। গ্রুপিংয়ের ঊর্ধ্বে উঠেই তিনি সর্বস্তরের মানুষের সেবা করে
যাচ্ছেন দিন-রাত।
বর্তমান
এমপি আবদুল মতিন ছাড়াও আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী অপর নেতাদের
মধ্যে রয়েছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি, দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাংলাদেশ
ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং সাবেক এমপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর
আহমদ, কুলাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আসম কামরুল ইসলাম, বাংলাদেশ ক্রিকেট
বোর্ডের পরিচালক ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম
চৌধুরী নাদেল, বিএমএ সিলেট জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক ডা. রুকন উদ্দিন
আহমদ, পুলিশের সাবেক এআইজি সৈয়দ বজলুল করিম, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ৯ম
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রাপ্ত অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান
শামীম, সাবেক ছাত্রনেতা ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের তথ্য সম্পাদক সাংবাদিক
কামাল হাসান, কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নবাব আলী ওয়াজেদ খান
বাবু, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রেনু, যুগ্ম-সম্পাদক একেএম সফি আহমদ
সলমান।
বিএনপি
নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হতে তৎপর রয়েছেন জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর)
প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট নওয়াব আলী আব্বাস খান, এ আসন থেকে
নির্বাচিত সাবেক দু’বারের এমপি, জনপ্রিয় ব্যক্তি, ঠিকানা গ্রুপের
চেয়ারম্যান এমএম শাহীন ও মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির বর্তমান সহ-সভাপতি এবং ৯ম
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রাপ্ত অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা।
জাতীয়
পার্টির মনোনয়নের প্রত্যাশায় মাঠে আছেন গত সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের
প্রার্থী মুহিবুল কাদির চৌধুরী পিন্টু ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য ও
মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম শামীম,
জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য আহমদ রিয়াজ।
১০ম
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-২ আসনটি মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির
প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হয়। জাতীয় পার্টির এ প্রার্থী ছিলেন পার্শ্ববর্তী
উপজেলা শ্রীমঙ্গলের বাসিন্দা। সংসদীয় এলাকায়ও খুব একটা পরিচিতি তার ছিল না।
বর্তমান এমপি আবদুল মতিন তখন কুলাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান। আর সেই সুযোগকে
কাজে লাগিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হন আবদুল মতিন। শেষতক বিজয়ী হয়ে আওয়ামী
লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে যান সংসদে। দলীয় বিদ্রোহী এমপিদের সঙ্গে
এপ্রিল মাসে তিনিও দলে যোগদান করেন। তার এই যোগদান দলীয় মনোনয়ন
প্রত্যাশীদের মনে ভাবনার ছাপ ফেলেছে। আবদুল মতিন জানান, আগামী সংসদ
নির্বাচনে যদি দলীয় মনোনয়ন পান তবে তিনি নিশ্চিত বিজয়ী হবেন বলে দাবি করেন।
অ্যাডভোকেট
নওয়াব আলী আব্বাস খান একমাত্র নেতা, যিনি এ আসন থেকে ৩ বার এমপি নির্বাচিত
হয়েছেন। সর্বশেষ তিনি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি ছেড়ে প্রয়াত
কাজী জাফরের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে ২০ দলীয় জোটে যান। ২০ দলীয় জোটে থেকে জোটের
প্রার্থী হয়ে আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়ার ইচ্ছা পোষণ করে তিনি বলেন, আমি
দীর্ঘদিন থেকে মানুষের জন্য রাজনীতি করছি। এ এলাকার মানুষ আমাকে তিনবার
এমপি নির্বাচিত করেছে। আমি তাদের অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে সর্বোচ্চ
চেষ্টা করেছি। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আশা করি পূর্বের মতো
কুলাউড়া-কমলগঞ্জের মানুষ আমাকে নির্বাচিত করবে।
কথা
হয় ১৯৯৬ সালে নির্বাচিত এমপি সুলতান মনসুরের সঙ্গে। প্রভাবশালী এ নেতা
ছিলেন ডাকসুর সাবেক ভিপি, আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাংলাদেশ
ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে এলাকায়
ব্যাপক উন্নয়নের জন্য সুলতান মনসুরকে মানুষ স্মরণ রেখেছেন। ১/১১ পরে দলের
পদ হারান তিনি। ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত হন। দীর্ঘদিন থেকেই
রয়েছেন পদ-পদবি বঞ্চিত। তিনি বলেন, রাজনীতির প্রয়োজনে নির্বাচন। সুষ্ঠু ও
নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে নির্বাচন করব। তবে কোন ব্যানার থেকে করব নির্বাচনের
দিনক্ষণ চূড়ান্ত হলে জানতে পারবেন। সময় বলে দেবে কোন প্রতীকে নির্বাচন করব।
তবে একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সুলতান মনসুর দলীয় মনোনয়ন না পেলে স্বতন্ত্র
হলেও ভোটের মাঠে থাকবেন।
দু’বারের
সাবেক এমপি এমএম শাহীন কুলাউড়ার ভোটের রাজনীতিতে চমক সৃষ্টিকারী নেতা।
২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী সুলতান মোহাম্মদ
মনসুরকে পরাজিত করে দেশ-বিদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন। বিএনপির কেন্দ্রীয়
কর্মসূচির ডাকে ৫ জানুয়ারি কুলাউড়ায় কালো পতাকা মিছিলে অংশ নিয়ে পুলিশের
হামলা-মামলায় হাজতবাস করেন। বর্তমানে তিনি নিউইয়র্কে রয়েছেন। সেখান থেকেই
চালিয়ে যাচ্ছেন নির্বাচনী কর্মকাণ্ড। প্রায়ই দেশে এসে সাক্ষাৎ করেন
নির্বাচনী এলাকার মানুষজনের সঙ্গে। তিনি জানান, নির্বাচনের পরিস্থিতি বুঝে
দেশে ফিরে সিদ্ধান্ত নেবেন। যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়। আর কুলাউড়া ও
কমলগঞ্জের মানুষ সহযোগিতার হাত বাড়ায়, তবে মানুষের সেই সিদ্ধান্তকে স্বাগত
জানিয়ে নির্বাচনে অংশ নেব।
কুলাউড়ার
মাটি ও মানুষের প্রিয় নেতা মরহুম আবদুুল জব্বার ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ
সহচর, ১৯৬৮ সাল থেকে আজীবন কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও
কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সভাপতি। গণমানুষের ভোটে কুলাউড়া থেকে ১৯৮৯ সালে এমপি ও
১৯৯০ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। প্রয়াত এই নেতার পুত্র আসম
কামরুল ইসলাম ছাত্রলীগ যুবলীগ হয়ে এখন আওয়ামী লীগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কামরুল
কুলাউড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে উপজেলা
চেয়ারম্যানের সফলভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, আমার পিতা ছিলেন
বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারী। তিনি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমৃত্যু
কাজ করে গেছেন। আমিও আমার পিতার ন্যায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবয়ন ও
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি। আগামী সংসদ
নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চাইব। দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করব। তবে ভাড়া করা
কিংবা দলের হাইব্রিড নেতাদের মনোনয়ন দেয়ার পক্ষে আমি নই। কুলাউড়ার বাইরে
থেকে কোনো নেতাকে মনোনয়ন না দেয়া দাবি জানিয়ে তিনি আরো বলেন, কুলাউড়া
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আওয়ামী লীগ পরিবারের একটাই দাবি যে, তৃণমূল
থেকে মূল্যায়ন করে প্রার্থী দেয়া এবং কুলাউড়ার রাজনীতির বাইরে থেকে কাউকে
মনোননয়ন না দেয়া।
মৌলভীবাজার
জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট এএনএম আবেদ রাজা বলেন, দল এবং জোট
নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে আমি নির্বাচন করব। সেই প্রস্তুতিও আছে। তৃণমূলে
দলকে সুসংগঠিত করতে দীর্ঘদিন থেকে কাজ করে যাচ্ছি। দলের জন্য জেল খেটেছি,
নির্যাতিত হয়েছি। তবে দল যদি আমাকে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন না দেয় তাহলে
দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাব না। দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেব।
শফিউল
আলম চৌধুরী নাদেল নেতৃত্ব দিচ্ছেন সিলেটের রাজনীতিতে। তিনি বর্তমানে সিলেট
মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিসিবির পরিচালক। এ ছাড়া সিলেটে
জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পরে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন দীর্ঘদিন।
আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে তিনি জোরালো তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি
বলেন, আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ
যেভাবে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হতে যাচ্ছে, এ প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে
এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বেগবান করতেই দল যদি মনোনয়ন দেয় তাহলে নির্বাচন
করব।
বাংলাদেশ
মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন সিলেট শাখার সভাপতি অধ্যাপক ডা. রুকন উদ্দিন আওয়ামী
লীগের মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। ডা. রুকন ছাত্রলীগ
করতেন। কুলাউড়া শহরে ডা. রুকনের বাসাকেন্দ্রিক স্বাধীনতাপূর্ব আওয়ামী লীগের
রাজনীতি পরিচালিত হতো। চাচা জয়নাল আবেদীন ছিলেন কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী
লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও পরবর্তী সময়ে সভাপতি। রুকন সিলেট
মেডিকেল কলেজের ছাত্রলীগের ভিপি ও মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক,
৮০-৮১ সালে বৃহত্তর সিলেট ছাত্রলীগের সমাজকল্যাণ সম্পাদক, মৌলভীবাজার জেলা
স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের প্রতিষ্ঠাতাকালীন সাধারণ সম্পাদক ও মৌলভীবাজার
বিএমএর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বলেন, হাইকমান্ডের
নির্দেশে দীর্ঘদিন থেকে মাঠে কাজ করছি। তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে মিশেছি। দল
থেকে মনোনয়ন দিলে বিজয়ী হতে পারব বলে আশাবাদী।
কুলাউড়া
উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নবাব আলী ওয়াজেদ খান বাবু বলেন, আমার পিতা
নবাব আলী সরওয়ার খান (চুনু নবাব) ১৯৭০ ও ১৯৭৩ সালে এ আসন থেকে গণমানুষের
ভোটে নৌকা প্রতীক নিয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের
সংগঠক ও ১৯৭২-এর সংবিধানের প্রণয়নকারী। সে হিসেবে পারিবারিক ধারাবাহিকতায়
আমিও এ এলাকার মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন
চাইব।
অ্যাডভোকেট
মাহবুবুল আলম শামীম বলেন, জাতীয় পার্টি থেকে মৌলভীবাজারের ৪টি আসনে
প্রার্থী দেবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি। কেন্দ্রের নির্দেশে
একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুতি স্বরূপ মাঠে কাজ করছি। কুলাউড়ায়
জাতীয় পার্টির একটা শক্ত অবস্থান রয়েছে। কুলাউড়ার মানুষ এখানকারই একজন দলীয়
প্রার্থীর আশায় অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় রয়েছে।
