হাকালুকি হাওরে পানি বৃদ্ধি; বন্যা আতঙ্কে এলাকাবাসি

বিশেষ প্রতিনিধিঃ আগাম বন্যায় হাকালুকি হাওর তীরে কুলাউড়া উপজেলার ৬ ইউনিয়নে শতভাগ বোরো ধান হারানো ও ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙ্গে কমলগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ফসলের ব্যাপক ক্ষতির রেশ কাটতে না কাটতে আবারও দীর্ঘ মেয়াদী বন্যা দেখা দিয়েছে।

মৌলভীবাজারের মনু ও ধলাই নদীর ১১ টি স্থানে ভারী বর্ষন ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট ভাঙ্গন মেরামতের উদ্যেগ না নেয়ায় এলাকার মানুষ আতঙ্কে রয়েছেন। বাঁধ মেরামত না করায় ইতোমধ্যে ধলাই নদীর পূরোনো ভাঙ্গন দিয়ে কয়েকদফা বন্যায় বাড়ি ঘর, ফসলি জমি সহ সবজিতের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে সিলেট বিভাগ সহ দেশের আন্যান্য জেলায় ভারী বর্ষন হতে পারে। অপরদিকে উজানে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কয়েকটি জেলায় দেখা দিয়েছে বন্যা।

কুলাউড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যন কামরুল ইসলাম জানান, এশিয়ার সর্ব বৃহৎ হাকালুকি হাওরে বন্যার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। হাওর পাড়ে প্রতিদিন পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি বৃদ্ধি অভ্যাহত থাকায় কুলাউড়া পৌরসভার কয়েকটি এলাকায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন। অনেক এলাকায় রাস্তাঘাট, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা পানি প্রবেশ করেছে। সেই সাথে গবাদি পশুরও খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে চরম আকারে। মনু নদীর ভাঙ্গন মেরামত না করায় ভাঙ্গন এলাকার মানুষ রয়েছেন চরম আতঙ্কে।
তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট ও শত শত ঘরবাড়ী। অব্যাহতভাবে পানি বাড়ায় মানুষজন রয়েছে চরম উদ্বেগ-উৎকন্ঠায়। এদিকে মৌলভীবাজার-কুলাউড়া-বড়লেখা আঞ্চলিক মহাসড়কের কয়েকটি স্থানে বন্যার পানিতে প্লাবিত হওয়ায় ছোট ধরনের সকল যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

কুলাউড়ার পাশপাশি জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলা সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতির দিকে যাচ্ছে। এদিকে কুলাউড়ায় ৪টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৫৯টি পরিবার, বড়লেখার ৪টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৩০ টি পারিবার ও জুড়ী উপজেলা ১টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৯ টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রিত মানুষরা পাচ্ছে না কোন ত্রাণ সহায়তা। আশ্রয় কেন্দ্রকে নিরাপদ না মনে করে আরও কয়েক শতাধিক বন্যা কবলিত মানুষ বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের বাড়ীতে নিরপাদে আশ্রয় নিচ্ছে। যেভাবে পানি বাড়ছে হাওর পাড়ের আরও হাজার হাজার মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়া ছাড়া কোন উপায় থাকবে না।
কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী মো. গোলাম রাব্বি জানান, আশ্রিত মানুষের জন্য উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে কিছু নগদ টাকা আপাতত দেয়া হচ্ছে। তারপরও বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। যদি বরাদ্ধ আসে তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে তা মানুষের মাঝে বিতরণ করা হবে।

কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জানান, এ বছর আগাম বন্যায় বোরোক্ষেত আউসক্ষেত ও সবজী ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে পূরোনো সবকটি ভাঙ্গন দিয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করে এলাকার মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। কত কয়েক বছর থেকে লেগে আছে এ উজেলায় বন্যা। পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যা নিয়ন্ত্রনে স্থায়ী কোন উদ্যোগ না নেয়ার প্রতি বছর বন্যা হচ্ছে।
ধলাই নদীর কয়েকটি স্থানে পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙ্গন মেরামতের উদ্যোগ না নেয়ায় এলাকার মানুষ সেচ্ছাশ্রমে উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের মণিপুরী অধ্যুষিত হীরামতি গ্রামের ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা ১৫০ ফুট বাঁধটি রক্ষায় এগিয়ে এসেছেন মাধবপুর ইউনিয়নের ৬টি গ্রামের লোকজন। ছাড়া কমলগঞ্জ পৌর এলাকার পুরাতন ভাঙ্গন উত্তর আলেপুর, বাদে করিমপুর এলাকায় ধলাই নদীর ভাঙ্গন এলাকার মানুষ সেচ্ছাশ্রমে কাজ করছে।
এদিকে গ্রামবাসীদের উদ্যোগে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ মেরামতের খবর শুনে ছুটে আসেন মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ তোফায়েল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ড, মৌলভীবাজার এর নির্বাহী প্রকৌশলী বিজয় ইন্দ্র শঙ্কর চক্রবর্তী সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি।
নির্বাহী প্রকৌশলী বিজয় ইন্দ্র শঙ্কর চক্রবতী জানান আমাদের উজানে ভারতে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়েছে, যে কারনে ত্রিপুরার কয়েকটি স্থানে বন্যা দেখা দিয়েছে। ওই এলাকার পানি আমাদের দিকে আসে, যে কারনে আমাদের নদী ও হাওরে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ধলাই নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রনে স্থায়ী বাঁধ নির্মানের জন্য একটি প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে। প্রকল্পের কাজ শুরু হলে বন্যা নিয়ন্ত্রনে অনেকটা স্থায়ী সমাধান হবে।

Post a Comment

Previous Post Next Post