কুলাউড়ার ঈদ বাজারে বন্যা ও নদী ভাঙনের প্রভাব

কুলাউড়ার ঈদ বাজারে বন্যা ও নদী ভাঙনের প্রভাব
বিশেষ প্রতিনিধিঃ একদিকে হাকালুকি হাওরের অকাল বন্যায় শতভাগ বোরো ফসল হারানো মানুষের আহাজারি। অন্যদিকে খরস্রোতা মনু নদীর ভাঙনের কবলে সর্বস্ব হারা মানুষ। এরমাঝে কালবৈশাখী ঝড় আর শিলাবৃষ্টিতেও হয়েছে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি। এর প্রভাব পড়েছে কুলাউড়া ঈদ বাজারে। বড় বড় বিপনী বিতানগুলোতে গিয়ে দেখা যায় অলস সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা।

কুলাউড়া উপজেলা মুলত প্রবাসী অধ্যুষিত। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে বন্যা খরা কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঈদের বাজারে খুব একটা প্রভাব পড়ে না। রোযার প্রথম সপ্তাহ পার হলেই বিশেষ করে কাপড়ের দোকানগুলোতে কেনাকাটার একটা ধুম পড়ে। কিন্তু এবার কুলাউড়ায় পরিলক্ষিত হচ্ছে ভিন্নচিত্র। কেনাকাটায় মানুষের খুব একটা আগ্রহ নেই।

তার মুল কারণ অকাল বন্যা আর নদী ভাঙন। এই দুটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে কুলাউড়ার উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা ৩ লাখ ৬০ হাজারেরও বেশি লোকজনের বসবাস কুলাউড়া উপজেলায়। রমযানে বিপনী বিতানগুলোতে মানুষের উপচে পড়া তীড় পরিলক্ষিত হতো, অথচ এবার যেন ঠিক বিপরীত চিত্র।

এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে আরব আমিরাতের দেশগুলোতে অস্থির অবস্থা বিরাজমান থাকার কারনে কুলাউড়ার প্রবাসীরা অনেকটা আতংকে রয়েছেন। বর্তমানে অনেকেরই কাজকর্ম বন্ধ। বিগত দিনের বেতন-ভাতা নিয়েও প্রবাসীরা রয়েছেন উৎকণ্ঠায়। এদিকে এসব প্রবাসীদের পরিবার পরিজনদের দু:শ্চিন্তার শেষ নেই।

কুলাউড়া শহরের প্রধান প্রধান বিপনী বিতান মিলি প্লাজা, আরএম সিটি, এসএম প্লাজা, পৌর সুপার মার্কেট, আজিজ রওশন কমপ্লেক্স, তবুর ম্যানশন, বশির প্লাজা থেকে শুরু করে ছোটবড় কাপড়ের দোকানগুলোতে বেশিরভাগ সময় ক্রেতাশূণ্য দেখা যায়।

এসএম মেগা মল, গ্রামীন হাট, উত্তরা শপিং সেন্টার ও বর্নালী’র মত বড় কাপড়ের দোকানে কোনপ্রকার কেনা বেচা নেই বললেই চলে। ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের বাজার এবার খুব একটা সুবিধাজনক হবে বলে মনে হয় না। কেননা মানুষ চাল কিনবে না কাপড় কিনবে? অন্যদিকে প্রবাস থেকেও টাকা আসা কমে গেছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post