বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি

বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি
নিউজ ডেস্কঃ এখনাে বসন্ত শেষ হয়নি, ঝড় আর বৃষ্টি কালবশৈাখী ও আষাঢ়ের বরিষণকেও হার মানাচ্ছে। আর এই অতি বৃষ্টির সাথে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে এবার বৃহত্তর সিলেটের বোরোক্ষেতগুলো প্রায় তলিয়ে গেছে।

দ্রুত পানি নেমে না গেলে এ অঞ্চলের প্রায় ১২ লাখ বোরোচাষীর স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।।

গত বৃহস্পতিবার (২৯ মার্চ) থেকে শুরু হওয়া প্রচন্ড বৃষ্টিপাত আর পাহাড়ী ঢলে বৃহত্তর সিলেটের প্রায় সবগুলো হাওরের বোরোক্ষেতগুলোর কোথাও আংশিক কোথাও সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। সিলেটের হাকালুকি, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের হাওরগুলোর ক্ষেত থেকে এবার আর প্রত্যাশামতো বোরোধান ঘরে তোলার সম্ভাবনা দেখছেননা কৃষকরা।

রবিবার সকালে সিলেটে বৃষ্টিপাত না হলেও আকাশের অবস্থা এই ভালো এই খারাপ। যখন তখন শুরু হতে পারে। আর বৃষ্টিপাত হলে যেটুকু বাকি আছে তাও তলিয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সুনামগঞ্জ ‌'দেখার হাওর' এলাকার বোরো চাষী ইদ্রিস আলী (৪৫) সিলেট শহরে এসেছিলেন এক জুরুরী কাজে। শনিবার তালতলা এলাকায় এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে জানালেন, 'গেছে ভাই, সব গেছে। সুনামগঞ্জের কোন হাওর থেকেই এবার আর বোরোধানের আশা করা যাবেনা।' অথচ দেশের বোরোধানের অন্যতম প্রধান উৎস হচ্ছে এই হাওরগুলো।

একই অবস্থা এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকির। সেখানকার বেশিরভাগই তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনসাধারণ।

আবহাওয়া অধিদপ্তরসূত্রে জানাগেছে গত বছর মার্চে সিলেটে ২৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। অথচ এ বছর একই সময়ে ৫শ' মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

এই বৃষ্টির পানি যদি দ্রুত সরে যায়, তবে কৃষকরা কম ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। আর বৃষ্টিপাত ও ঢল অব্যাহত থাকলে কৃষকরা সবই হারাবেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেটের উপ পরিচালক ড. মামুনুর রশিদ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া প্রাথমিক তথ্য মতে, সিলেট জেলার ১ হাজার ১৯৩ হেক্টর, সুনামগঞ্জের ৬৯৫ ও মৌলভীবাজারের ২০ হেক্টর বোরো ধানের জমি ইতমিধ্যে পানির নীচে তলিয়ে গেছে।

এদিকে সিলেটের জেলা প্রশাসনসূত্রে জানাগেছে , বিভিন্ন উপজেলার ‘ফ্লাশ ফ্লাড’ বা পাহাড়ি ঢলের বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের খোঁজ নিতে ইতিমধ্যে জেরা প্রশাষক সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী সুরমা-কুশিয়ারা মনুসহ অন্যান্য নদীর পানি প্রবাহ এখনও বিপদ সীমার নীচে রয়েছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post