অনলাইন ডেস্কঃ সিলেটের শিববাড়ি এলাকার জঙ্গি আস্তানা আতিয়া মহলে অপারেশন ‘টুইলাইট’ শুরুর পর ওই ভবনটিতে আটকে থাকা ৬৩ বাসিন্দাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
ভবনটির একটি ফ্ল্যাটে এই মুহুর্তে জঙ্গিরা ছাড়া কোন বাসিন্দা নেই বলে শনিবার (২৫ মার্চ) দুপুর সোয়া ১২ টার দিকে ‘আতিয়া মহলে’ অভিযানে অংশ নেয়া একাদিক সেনা সদস্য সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন। কিছুক্ষণের মধ্যে ভবনটির জঙ্গিদের ফ্ল্যাটে অভিযান শুরু হবে বলে জানিয়েছে অভিযানে অংশ নেয়া সেনা সদস্যরা।
সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো সদস্যরা শনিবার (২৫ মার্চ) সকাল ৮টা ২৮ মিনিটে লে. কর্নেল ইমরুল কায়েসের নেতৃত্বে ‘আতিয়া মহলে’ এ অভিযান শুরু করে।
অভিযানের কারণে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিভিন্ন গ্রুপের রক্ত ও রক্তদাতাদেরও ব্যবস্থা করে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।
সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকার পাঠানপাড়া সড়কের পাশে অবস্থিত পাঁচতলা ও চারতলাবিশিষ্ট দুটি ভবনের নাম আতিয়া মহল। সিলেট নগরীর আতিয়া ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ির বান্দরঘাটের (বন্দরঘাট) বাসিন্দা উস্তার মিয়া।
এই বাড়িতে জঙ্গিরা আস্তানা গেড়েছে এমন সন্দেহে বৃহস্পতিবার রাত ২ টা থেকে বাড়িটি ঘিরে রাখে পুলিশ। শুক্রবার দিনভর পুলিশ, সোয়াট ও সেনাসদস্যরা বাড়িটিকে ঘিরে রাখে। এসময় হ্যান্ডমাইকে করে বারবার সন্দেহভাজন জঙ্গিদের আত্মসমর্পনের আহ্বান জানানো হয়। তবে এতে সাড়া মিলেনি। অবশেষে বাড়িটি ঘিরে রাখার প্রায় ত্রিশ ঘন্টা পর চুড়ান্ত অভিযানে নামে সেনা সদস্যরা।
অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রথমে আতিয়া মহলের অন্য ফ্ল্যাটগুলোতে আটকে পড়াদের উদ্ধার করা হবে। পরে জঙ্গিদের ভবনের বাইরে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হবে।
ভবন মালিক জানিয়েছেন, পাঁচ তলা ভবনটিতে ৩০ টি ফ্ল্যাটে মোট ২৮ টি পরিবার ভাড়া থাকেন।
এই ভবনের নিচ তলার একটি ফ্ল্যাট গত জানুয়ারি মাসে প্রাণ কোম্পানির অডিট অফিসার পরিচয়ে কাওসার আহমদ ও মর্জিনা বেগম দম্পত্তি। ওই ফ্ল্যাটটিকে ঘিরেই চলছে তেত্রিশ ঘন্টা ধরে অভিযান। সুত্রঃ সিলেটটুডে
